০৬:০৮ পি.এম
দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি সমন্বিত ও নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে নৌযান শুমারি।
এ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান দপ্তর আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
আরও পড়ুন: আমরা মাফিয়া ডন বানাব না: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনসুর রহমান এবং রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
সেমিনারে নৌযান শুমারির পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুল হালিম।
সেমিনারে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ শুমারির উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করা।
এ ডাটাবেজ নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ, গবেষণা, নৌযান ব্যবস্থাপনা এবং নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে। তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নৌযান এবং ইঞ্জিনবিহীন সাধারণ নৌকা এ শুমারির আওতার বাইরে থাকবে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে লাগেজ পাচ্ছেন যাত্রীরা: মন্ত্রী
সেমিনারে আরও জানানো হয়, আগামী ৩ ও ৪ আগস্ট দেশের দুটি জেলায় পাইলট অপারেশনের মাধ্যমে শুমারির প্রশ্নপত্র ও তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি যাচাই করা হবে। এরপর ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০ দিনব্যাপী মূল শুমারি পরিচালিত হবে। এর আগে ৪ থেকে ১৭ মে পরিচালিত লিস্টিং ও ম্যাপিং কার্যক্রমে সারাদেশে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে।
এসব নৌযানকে ২৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে যাত্রীবাহী বোট, বালিবাহী নৌযান, কার্গো, ট্রলার, ড্রেজার, স্পিডবোট, ফেরি এবং পর্যটন নৌযান উল্লেখযোগ্য। পুরো শুমারি কার্যক্রম কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউ পদ্ধতিতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে পরিচালিত হবে।
রাজশাহী বিভাগের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিভাগে মোট ২৩ হাজার ৫৮৭টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঘাটভিত্তিক ১৩ হাজার ৬৫০টি এবং খানাভিত্তিক ৯ হাজার ৯৩৭টি।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নৌযান শুমারির লক্ষ্য কেবল নৌযানের সংখ্যা নির্ধারণ নয়; বরং একটি নির্ভুল, ব্যবহারোপযোগী ও সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা, যা নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণ হবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে
তিনি বলেন, একটি শুমারির সফলতা কেবল তথ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে না, বরং সেই তথ্য কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তার ওপরই প্রকৃত সফলতা নির্ভরশীল। তাই এমন তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে নৌপরিবহন ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রতিটি নৌযানের তথ্যের সঙ্গে জিও-লোকেশন সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে নৌযানের অবস্থান নির্ধারণ, নিবন্ধন, তদারকি ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার হবে এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি নৌযান শুমারি সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নৌযান মালিক, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনারে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার ও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, নৌযান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সরাসরি এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালকরা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাস দুর্ঘটনায় সুপারভাইজারসহ ২ জন নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন