ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুসলিম বনাম মুসলিম যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে! হাসছে মার্কিন-ইসরাইল


মুসলিম বনাম মুসলিম যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে! হাসছে মার্কিন-ইসরাইল

 

 

 

 

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
সৌদি-ইরান বৈরিতা, হুতি সংঘাত, ফিলিস্তিনের বিপর্যয় এবং মুসলিম বিশ্বের আত্মঘাতী বিভাজনের রাজনীতি 
 
মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক যুদ্ধের আগুন জ্বলছে, ফিলিস্তিনের মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছে, ইয়েমেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। অথচ মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। এই বিভাজনের ফায়দা কারা নিচ্ছে, আর এর চূড়ান্ত মূল্যই বা দিচ্ছে কারা?
মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রের দিকে তাকালে আজ একটি নির্মম বাস্তবতা চোখে পড়ে। কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, কোথাও বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত জনপদ, কোথাও উদ্বাস্তু মানুষের দীর্ঘ সারি, কোথাও ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না। ফিলিস্তিনের মানুষ নিরাপত্তা, খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য লড়ছে। ইয়েমেনে সংঘাতের আগুন আবারও প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত গোটা অঞ্চলকে আরও বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর আরব বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্র নিজেদের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার হিসাব কষছে।
 
প্রশ্ন হচ্ছে, এই আগুনের শেষ কোথায়?
=========================
আরও বড় প্রশ্ন—মুসলিম বিশ্বের শক্তি কি আজ নিজেদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হচ্ছে?
সৌদি আরব বনাম হুতি, ইরান বনাম আরবের একাংশ, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—প্রতিটি সংঘাতের পেছনে রয়েছে আলাদা ইতিহাস, রাজনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তার হিসাব এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। সবকিছুকে একটি একক গোপন পরিকল্পনার ফল বলা যাবে না। কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই: মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিভক্তি যত গভীর হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তত বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
এই বাস্তবতা বোঝার জন্য কোনো ষড়যন্ত্রতত্ত্বের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন চোখ খুলে ঘটনাগুলোর দিকে তাকানোর।
ফিলিস্তিনে রক্ত ঝরে, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতি কোথায়?
===============================
ফিলিস্তিনের ট্র্যাজেডি কেবল একটি ভূখণ্ডের সংকট নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং একটি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন।গাজায় মানুষের দুর্ভোগ কোনো দূরবর্তী রাজনৈতিক পরিসংখ্যান নয়। এর অর্থ—একটি শিশুর মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নেই, একটি পরিবার জানে না পরদিন খাবার পাবে কি না, একজন আহত মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবে কি না, আর একজন মা জানেন না তাঁর সন্তান নিরাপদে ঘুমাতে পারবে কি না।
জাতিসংঘের ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মানবিক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এমন স্থানে বসবাস করছেন, যেখানে বন্যার মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। শীতকালীন আশ্রয়ের প্রয়োজন থাকা পরিবারগুলোর তুলনায় পর্যাপ্ত সহায়তার ঘাটতিও প্রকট। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এ অবস্থায় মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর কাছে প্রশ্ন—বিবৃতি দেওয়ার বাইরে তাদের সম্মিলিত কূটনৈতিক শক্তি কতটা কার্যকর হচ্ছে? মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা দাবি করা, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে চাপ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ?
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি মানে শুধু আবেগঘন বক্তৃতা নয়। সংহতি মানে কার্যকর কূটনীতি, ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক চাপকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করা।
 
ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্দশাকে নিজেদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার বানানোও সমানভাবে বিপজ্জনক। তাদের রক্ত কোনো রাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের উপকরণ হতে পারে না। তাদের দুর্ভোগ কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার সাজসজ্জা নয়।
ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার নিয়ে যারা কথা বলে, তাদের কাছে তাই প্রশ্ন—কথার সঙ্গে কাজের মিল কোথায়?
 
সৌদি বনাম হুতি: ইয়েমেনের ধ্বংসস্তূপে কার স্বার্থের লড়াই?
================================
ইয়েমেনের যুদ্ধ বুঝতে হলে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাতকে শুধু সুন্নি-শিয়া বিরোধের চশমায় দেখলে চলবে না। হুতিরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক আন্দোলন, যাদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন দিয়ে আসছে। এই সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইয়েমেনের রাষ্ট্রক্ষমতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের প্রবাহ এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব। অর্থাৎ, ইয়েমেনের যুদ্ধ শুধু ইয়েমেনের ভেতরের যুদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ক্ষমতার প্রতিযোগিতা।
১৯ অক্টোবর ২০২৬-এ ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের হামলা সংঘাতের ভয়াবহতা এবং নতুন করে প্রাণহানির ঝুঁকি সামনে নিয়ে আসে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত মূল্য কে দিচ্ছে?
রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তাদের কৌশলগত অবস্থান রক্ষার হিসাব করছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অস্ত্রের প্রতিযোগিতা চলছে। আর সাধারণ ইয়েমেনিরা হারাচ্ছে জীবন, ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
যে যুদ্ধে একটি দেশের প্রজন্ম পর প্রজন্ম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেড়ে ওঠে, সেই যুদ্ধের বিজয়ী ঘোষণা করা সহজ; কিন্তু সেই বিজয়ের মানবিক মূল্য মেটানো অসম্ভবের কাছাকাছি।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাস্তব। হুতিদের হামলাও বাস্তব নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করে। কিন্তু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করতে গিয়ে যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে সেই নিরাপত্তা অর্জনের কৌশলই নতুন অনিরাপত্তার জন্ম দিতে পারে।
 
অন্যদিকে, ইরানের সমর্থন নিয়ে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের ভূমিকা সৌদি আরব ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় ইয়েমেন কি নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার হারিয়ে ফেলছে?
 
ইয়েমেনের মানুষ কি চিরকাল অন্যের কৌশলগত হিসাবের বলি হয়েই থাকবে?
================================
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত: আগুন ছড়ালে পুড়বে পুরো অঞ্চল
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ নতুন নয়। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতও দীর্ঘদিনের। পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার উৎস।
কিন্তু একটি সংঘাত যখন সরাসরি সামরিক আঘাত, পাল্টা আঘাত এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ততার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তার পরিণতি আর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তেলের দাম বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক নৌপথ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিমান চলাচল ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির আমদানিনির্ভর দেশগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের মতো দেশের জন্যও এ সংকট নিছক দূরবর্তী ভূরাজনীতি নয়। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, প্রবাসী আয়, জ্বালানির বাজার এবং বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের ব্যয়—সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
অতএব, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু যুদ্ধরত রাষ্ট্রগুলো নয়; এর অভিঘাত পৌঁছাতে পারে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সংসারেও।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলা দরকার: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের নেতারা নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের হিসাব করছেন; কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তের মানবিক মূল্য কে বহন করছে?
যে পরিবার বোমার আঘাতে স্বজন হারায়, তার কাছে ভূরাজনৈতিক বিজয়ের সংজ্ঞা কী? যে শ্রমিক যুদ্ধের কারণে কর্মস্থল হারায়, তার কাছে আঞ্চলিক আধিপত্যের মূল্য কী? যে শিশু ক্ষুধা ও আতঙ্কের মধ্যে বড় হয়, তার কাছে রাষ্ট্রের সামরিক মর্যাদার অর্থ কী?
যুদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা সাধারণত রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা বলেন। কিন্তু সেই স্বার্থের সংজ্ঞায় সাধারণ মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই আসল প্রশ্ন।
 
মুসলিমদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া কি কোনো বৃহত্তর কৌশল?
=================================
এই প্রশ্নটি আবেগ দিয়ে নয়, ইতিহাস ও বাস্তবতার আলোকে বিচার করতে হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সামরিক জোট, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ, কূটনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্ব ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যও এর ব্যতিক্রম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। ইরানেরও রয়েছে আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদার। ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অবস্থান জোরদার করতে কাজ করে। আবার আরব রাষ্ট্রগুলোর নিজেদের মধ্যেও স্বার্থ ও নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে।
এই বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট: মধ্যপ্রাচ্যে বাইরের শক্তির প্রভাব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্ষমতার রাজনীতিও সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
তবে এখানেই সতর্ক থাকা জরুরি।
মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রতিটি সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলা যেমন প্রমাণসাপেক্ষ নয়, তেমনি বাইরের শক্তিগুলোর ভূমিকা উপেক্ষা করাও বাস্তবতাকে অসম্পূর্ণভাবে দেখা।
কোনো সংঘাতের ফলে একটি শক্তি লাভবান হলেই প্রমাণ হয় না যে সংঘাতটি সেই শক্তিই পরিকল্পনা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র প্রমাণিত না হলেও একটি বাস্তব বিপদ রয়েছে: মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাইরের শক্তিগুলোর জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।
যখন সৌদি আরব ও ইরান পরস্পরকে প্রধান নিরাপত্তা-হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তখন তাদের কূটনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ ব্যয় হয় একে অপরকে মোকাবিলায়। যখন ইয়েমেনের সংঘাত আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে ওঠে, তখন দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান আরও কঠিন হয়। যখন ফিলিস্তিনের প্রশ্ন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে আটকে যায়, তখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বাস্তব প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এটাই বিভক্তির সবচেয়ে বড় মূল্য।
কেউ দূর থেকে হাসছে কি না, সেটি প্রমাণ করা কঠিন। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের বিভক্তিতে কার কৌশলগত সুবিধা তৈরি হচ্ছে, তা যাচাই করা সম্ভব।
যে রাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বীর শক্তি ক্ষয় হতে দেখে, যে অস্ত্র ব্যবসায়ী সংঘাতের বাজার পায়, যে শক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার নামে নিজের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ পায়, কিংবা যে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করে—তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার।
এখানে আবেগের চেয়ে প্রমাণ জরুরি। স্লোগানের চেয়ে তথ্য জরুরি। আর অন্ধ আনুগত্যের চেয়ে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি অনেক বেশি জরুরি।
 
‘মক্কা জোট’: মুসলিম ঐক্য, নাকি আরেকটি ক্ষমতার সমীকরণ?
================================
সৌদি আরবের নেতৃত্বে কোনো জোট বা সম্মিলিত নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা উঠলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—সেই উদ্যোগের লক্ষ্য কী?
যদি উদ্দেশ্য হয় মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলা, মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানো, তাহলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু যদি কোনো জোটের কার্যক্রম বাস্তবে নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করা, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে ঘিরে ফেলা কিংবা আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক পক্ষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দিকে চলে যায়, তাহলে তার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
এখানে জোটের নাম নয়, কাজের মূল্যায়নই প্রধান।
মক্কার নাম মুসলিমদের কাছে গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। তাই সেই নামের সঙ্গে যুক্ত কোনো রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা উদ্যোগের কাছ থেকে প্রত্যাশাও বেশি থাকবে। সেটি কি মুসলিম বিশ্বের বিরোধ কমাবে? নাকি নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে? ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য তার বাস্তব অবদান কী হবে? ইয়েমেনের যুদ্ধ থামাতে তার ভূমিকা কী? সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সে কি কার্যকর মধ্যস্থতার পথ তৈরি করবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে স্বচ্ছ নীতি, প্রকাশ্য কর্মসূচি ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে।
মুসলিম ঐক্য মানে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্বে অন্য সব রাষ্ট্রের নিঃশর্ত আনুগত্য নয়। ঐক্য মানে পারস্পরিক মর্যাদা, অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতা এবং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সংঘাতের বদলে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া।
যে ঐক্য যুদ্ধ কমাতে পারে না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না এবং ফিলিস্তিনের মতো সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না, সেই ঐক্যের রাজনৈতিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
 
সুন্নি-শিয়া বিভাজন: ধর্মীয় পরিচয় যখন ভূরাজনীতির অস্ত্র:
=============================
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের অন্যতম বিপজ্জনক দিক হলো ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রায়ই সুন্নি-শিয়া বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এই ব্যাখ্যা পুরো বাস্তবতা ধারণ করে না। দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক নেতৃত্ব, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি, সামরিক সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্বসংক্রান্ত উদ্বেগ।
ধর্মীয় পরিচয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই সবকিছুর একমাত্র ব্যাখ্যা নয়।
সমস্যা হলো, রাষ্ট্রের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যখন ধর্মীয় পরিচয়ের ভাষায় সাধারণ মানুষের সামনে হাজির হয়, তখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে রূপ নিতে পারে।
একজন সুন্নি মুসলিমকে বোঝানো হয় যে শিয়া মুসলিম তার শত্রু। একজন শিয়া মুসলিমকে বোঝানো হয় যে সুন্নি মুসলিম তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তারপর রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে সেই বিভাজনকে ব্যবহার করে।
ফলাফল কী?
 
যারা একই আল্লাহ তে বিশ্বাস করে, একই কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে এবং একই মানবিক মর্যাদার দাবিদার, তাদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ে। অন্যদিকে, অস্ত্র, অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিযোগিতা চলতে থাকে।
এভাবে ধর্মীয় পরিচয় মানুষের আত্মিক বন্ধন হওয়ার বদলে রাজনৈতিক সংঘাতের উপকরণ হয়ে ওঠে।
এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে কোনো রাষ্ট্রের নীতি বা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়। ইরানের সমালোচনা করা যায়, সৌদি আরবের নীতির সমালোচনা করা যায়, হুতিদের হামলার নিন্দা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি দাবি করা যায়—কিন্তু তার জন্য সাধারণ সুন্নি বা শিয়া মুসলিমকে শত্রু বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা আর ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো এক বিষয় নয়।
এই পার্থক্য ভুলে গেলে রাজনৈতিক সংঘাত সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আর একবার সাম্প্রদায়িক ঘৃণা শিকড় গেড়ে বসলে তা উপড়ে ফেলা যুদ্ধবিরতির চেয়েও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
 
আমেরিকা ও ইসরায়েল কি মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি থেকে সুবিধা পায়?
================================
প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে উত্তর দিতে হবে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, অস্ত্র বিক্রি এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছে। ইসরায়েলও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক সক্ষমতা সীমিত রাখার চেষ্টা করে।
মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো যদি নিজেদের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসে নিমজ্জিত থাকে, তাহলে তাদের পক্ষে অভিন্ন স্বার্থে সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা কঠিন হয়। এই পরিস্থিতি বাইরের শক্তিগুলোর জন্য কূটনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।
কিন্তু এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি সব সংঘাতের একমাত্র কারণ? অবশ্যই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে নির্দিষ্ট ঘটনা, সিদ্ধান্ত ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে হবে।
ইরানের নিজস্ব আঞ্চলিক কৌশল রয়েছে। সৌদি আরবেরও নিজস্ব নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার রয়েছে। হুতিদের নিজস্ব লক্ষ্য ও সিদ্ধান্ত রয়েছে। ইয়েমেনের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিরও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। এসব পক্ষকে নিছক বাইরের কারও হাতের পুতুল হিসেবে দেখলে তাদের নিজস্ব দায়, সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আড়াল হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম সত্য হলো, প্রতিটি শক্তিই নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে। কেউ স্থায়ী বন্ধুত্বের নিশ্চয়তা দেয় না; দেয় কৌশলগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি, যার সীমা নির্ধারিত হয় স্বার্থের দ্বারা।
তাই মুসলিম বিশ্বের জন্য শিক্ষা হলো—অন্যের সদিচ্ছার ওপর নিজেদের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলে নিজের স্বার্থ বুঝে রাখতে হবে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলেও একই নীতি প্রযোজ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হলেও জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি বজায় রাখতে হবে।
রাষ্ট্রের বন্ধুত্বের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ অনেক সময় বেশি স্থায়ী। এই বাস্তবতা বুঝতে না পারলে রাজনৈতিক আবেগের মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
 
এই যুদ্ধের পরিণতি কী হতে পারে?
=======================
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তার কয়েকটি গুরুতর পরিণতি সামনে আসতে পারে।
প্রথমত, মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে। ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং সংঘাতের অন্যান্য অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়লে যৌথ কূটনীতি দুর্বল হবে। ফিলিস্তিনের মতো অভিন্ন স্বার্থের বিষয়েও কার্যকর সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়বে।
তৃতীয়ত, সামরিক ব্যয় ও অস্ত্রনির্ভরতা বাড়তে পারে। নিরাপত্তার অজুহাতে রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র কিনবে, সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোকাবিলায় আরও বেশি সম্পদ ব্যয় করবে। অথচ একই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা যেত।
চতুর্থত, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলা, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।
পঞ্চমত, উগ্রবাদ ও প্রতিশোধের রাজনীতি শক্তিশালী হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ এবং রাজনৈতিক বঞ্চনা নতুন করে ক্ষোভ ও সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষোভকে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।
ষষ্ঠত, মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি রাষ্ট্রগুলো অভিন্ন মানবিক সংকটের ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করতে না পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের সম্মিলিত প্রভাব সীমিত হয়ে পড়বে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো, যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম প্রতিশোধকে স্বাভাবিক এবং শান্তিকে অসম্ভব বলে ভাবতে শুরু করতে পারে।
এই ক্ষতি কোনো যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় পুরোপুরি মুছে যাবে না। ধ্বংস হওয়া ঘর পুনর্নির্মাণ করা যায়; কিন্তু হারানো জীবন ফিরিয়ে আনা যায় না। বিদ্যালয় আবার খোলা যায়; কিন্তু যুদ্ধের শৈশব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়; কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমে থাকা অবিশ্বাস দূর করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
 
মুসলিমরা কি এই বাস্তবতা বুঝবে?
=======================
এই প্রশ্নের উত্তর কোনো একটি জনগোষ্ঠীর বুদ্ধিমত্তা, ধর্মীয় পরিচয় বা আবেগ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। মুসলিম বিশ্ব একক রাজনৈতিক সত্তা নয়। এখানে বিভিন্ন রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ ও জাতীয় স্বার্থ রয়েছে।
তবু একটি বিষয় স্পষ্ট: জনগণকে শুধু আবেগ দিয়ে পরিচালিত করা সহজ, কিন্তু তথ্য দিয়ে সচেতন করা কঠিন। আর সেই কঠিন কাজটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মুসলিম বিশ্বের মানুষকে বুঝতে হবে, কোনো রাষ্ট্রের সরকার আর সেই রাষ্ট্রের সব নাগরিক এক নয়। কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী আর একটি দেশের সব মানুষ এক নয়। কোনো সরকারের ভুল নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে তার জনগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নয়।
একইভাবে, মুসলিম ঐক্যের কথা বলার অর্থও এই নয় যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর সব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে হবে। অন্যায় করলে তার সমালোচনা করতে হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে জবাবদিহি চাইতে হবে এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা হলে অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তার নিন্দা করতে হবে।
ঐক্যের ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়বিচার, অন্ধ আনুগত্য নয়।
এখানে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমকে শুধু উত্তেজনাপূর্ণ শিরোনাম প্রকাশ করলে চলবে না। কে কী বলেছে, তার সঙ্গে কী প্রমাণ রয়েছে, কোন তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা গেছে এবং কোনটি রাজনৈতিক দাবি—এসব পার্থক্য স্পষ্ট করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি দাবি সত্য নয়। প্রতিটি যুদ্ধের পেছনে একটি গোপন পরিকল্পনা রয়েছে—এমন ধারণাও প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।
জনগণকে জানতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং নিজেদের বিবেচনাবোধ প্রয়োগ করতে হবে। কারণ সচেতন নাগরিক ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা কঠিন।
 
বাংলাদেশের জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
==============================
বাংলাদেশের মানুষের কাছে ফিলিস্তিনের দুর্দশা গভীর মানবিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে অঞ্চলটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তাই বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ, নীতিনিষ্ঠ ও বাস্তবতাভিত্তিক কূটনীতি।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তার বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলতে হবে। একই সঙ্গে ইরান, সৌদি আরব, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশের উচিত কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের অন্ধ সমর্থক না হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান, কূটনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে ধারাবাহিক ভূমিকা রাখা।কারণ মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের আঁচ বাংলাদেশেও পৌঁছাতে পারে।
 
শেষ কথা: মুসলিম ঐক্য মানে আত্মসমর্পণ নয়, আত্মঘাতী বিভাজন থেকে মুক্তি
===============================
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরছে: ধর্মীয় পরিচয়ের মিল থাকলেই রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ এক হয়ে যায় না। আবার রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেই যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে না।
সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। ইরানের আঞ্চলিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। হুতিদের হামলার সমালোচনা করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতির জবাবদিহি দাবি করা যেতে পারে। ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আলোকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোকে পরস্পরের শত্রুতে পরিণত করা কোনো সমাধান নয়।
মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন দুটি পথ—একটি হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথ। অন্যটি হলো বাস্তববাদী কূটনীতি, পারস্পরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন মানবিক স্বার্থে সম্মিলিত উদ্যোগের পথ।
প্রথম পথের পরিণতি ইতিমধ্যেই বহু দেশে দৃশ্যমান। দ্বিতীয় পথ সহজ নয়, কিন্তু সংঘাতের মানবিক মূল্য কমানোর জন্য সেটিই অনুসন্ধান করা জরুরি।
প্রশ্ন তাই শুধু এই নয়—আমেরিকা কী চায়, ইসরায়েল কী চায়, ইরান কী চায়, সৌদি আরব কী চায় কিংবা হুতিরা কী চায়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ কী চায়?
তারা কি চায় তাদের সন্তান যুদ্ধক্ষেত্রে বড় হোক? তারা কি চায় ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রতিবেশীকে শত্রু ভাবতে? তারা কি চায় প্রতিটি নতুন প্রজন্ম আগের প্রজন্মের অসমাপ্ত যুদ্ধ উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করুক?
নিশ্চয়ই এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে মানুষের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার আলোকে।
মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা শুধু বাইরের শক্তির প্রভাব নয়; নিজেদের বিরোধকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারাও তার বড় সংকট। আর সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো—এই বিরোধগুলোকে যুদ্ধের বদলে আলোচনায়, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচারে এবং বিভাজনের বদলে সহযোগিতায় রূপান্তর করার ক্ষমতা।
কেউ মুসলিমদের বিভক্ত দেখতে চায় কি না, সেটি নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিজেদের বিভক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে কি না, সেটি তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করে।
ফিলিস্তিনের শিশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, ইয়েমেনের মানুষের জন্য শান্তি, ইরান ও আরব বিশ্বের মানুষের জন্য নিরাপত্তা এবং সমগ্র অঞ্চলের জন্য স্থিতিশীলতা—এসব কোনো একক রাষ্ট্রের বিজয় নয়; এগুলো হবে মানবতার বিজয়।
মধ্যপ্রাচ্যকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে: তারা কি অনন্ত প্রতিশোধের রাজনীতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে ফেলবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্য সত্ত্বেও এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়বে, যেখানে মানুষের জীবন ক্ষমতার প্রতিযোগিতার চেয়ে বেশি মূল্যবান?
কারণ ইতিহাসের শেষ বিচারে কে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, কে কতখানি ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেছে কিংবা কে কাকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করেছে—সেটিই একমাত্র বিবেচ্য হবে না।
বিবেচ্য হবে, এই রাষ্ট্রগুলো তাদের মানুষের জন্য কী রেখে গেছে—শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা, নাকি ধ্বংসস্তূপ, ক্ষুধা ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ঘৃণা?
মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ কোনো কাল্পনিক শত্রুর বিরুদ্ধে অন্ধ ক্ষোভ ছড়ানো নয়; বরং বাস্তব অন্যায় শনাক্ত করা, তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক অবস্থান নেওয়া এবং নিজেদের বিভাজনের সুযোগ কাউকে নিতে না দেওয়া।
ঐক্য যদি সত্যিই কাম্য হয়, তবে তার প্রথম শর্ত—নিজেদের ভুল স্বীকার করার সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে রাষ্ট্রের অহংকারের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া।
অন্যথায়, যুদ্ধের ময়দানে পতাকা বদলাবে, নেতার নাম বদলাবে, জোটের সমীকরণ বদলাবে—কিন্তু রক্ত ঝরবে সেই সাধারণ মানুষেরই, যাদের নামে এত যুদ্ধ, এত রাজনীতি, এত ক্ষমতার হিসাব।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেন পুনরায় না ফিরে আসে: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেন পুনরায় না ফিরে আসে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, দেশে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেন আর ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা যেন কেউ না করে।

এটি তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উল্লেখ করেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহ্-র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরীস নদভি; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা রফিকুল ইসলাম; জাতীয় ইমাম খতীব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।

রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকালে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আলেম-ওলামাদের ওপর হওয়া অকথ্য নির্যাতন ও কারাগারে তাদের দুঃসহ বন্দিজীবনের স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা যেনো ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামি পন্ডিত ও আলেম-ওলেমাদের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করতেন। ইসলামের প্রতি মমতাবোধ থেকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিস্‌মিল্‌লাহির্‌-রাহ্‌মানির্‌-রহিম’ সংযোজন করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একজন ব্যক্তি। তবে ইসলামী মূল্যবোধ ও শরীয়ায় আঘাত আসা এমন কোনো কাজ যাতে কেউ না করে, তা তিনি লক্ষ্য রাখবেন।

প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অনুদান সহায়তা আনার জন্য তাদের আরবী ভাষা ও যোগাযোগের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা ও ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসাগুলিতে সফরের এবং হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ভারতের যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের দুই নেতার আটকাদেশ সোমবার আরও দুই দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন নয়াদিল্লির একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তাদের পাঁচ দিন আগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

সিজেপির কর্মী ও বিরোধী দলগুলো ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানকে উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দিতে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারসাজি করেছে।

তবে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিশন কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা (৩০) ও সৌরভ দাসকে (২৭) শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার থানার সামনে থেকে নীল রঙের একটি পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আন্দোলনের আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে চরম প্রহসন।’ পুলিশ এর আগে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বারবার জনশান্তি বিঘ্নিত করার এবং আইন লঙ্ঘনের কথিত চেষ্টার’ অভিযোগে ১৪ অক্টোবর দাস ও রাঙ্কাকে আটক করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য পরিচিত স্থান জন্তর মন্তরে নিরাপত্তাবেষ্টনী টপকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পর তাদের আটক করা হয়। পুলিশ ওই স্থানে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের একই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার কথিত চেষ্টাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জন্তর মন্তর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হলুদ ধাতব ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীরাও মোতায়েন রয়েছেন। দিল্লি পুলিশ গত সপ্তাহে জানায়, নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে জন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাটিরাঙ্গায় ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার, ২০ লাখ টাকার লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


মাটিরাঙ্গায় ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার, ২০ লাখ টাকার লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনার সাত দিনের মধ্যে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ।

মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে জানায়, রোববার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এই অভিযানে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি দেশীয় অস্ত্র, ছুরি, বিভিন্ন মালামাল, তিনটি মোটরসাইকেল, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মাটিরাঙ্গার বেলছড়ির আমবাগান এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে মো. আলী হোসেন, মৃত নুরুল আলমের ছেলে ইউসুফ মিয়া (নয়ন), আব্দুল হালিমের ছেলে আবু মুছা এবং মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে নোমান ইসলাম রাব্বি।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন জানান, ডাকাতির ঘটনার আসামিদের মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য কার্যক্রম তদন্তাধীন রয়েছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করেছে। নতুন নীতিমালায় বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনামসম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য এমডি পদের অব্যবহিত আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের জন্য বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। নতুন নীতিমালায় গত ২৬ জুলাই জারি করা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি বা সিইও পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে বর্তমানে বা আগে কোনো ব্যাংকের এমডি বা সিইও পদে কর্মরত থাকতে হবে, অথবা ওই পদের অব্যবহিত আগের পদে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনামসম্পন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা যাবে।

এমডি পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া প্রার্থীর চাকরিজীবনের সব পর্যায়ে সততা, সুনাম ও সন্তোষজনক কর্ম-রেকর্ড থাকতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবেলা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। নতুন নীতিমালায় এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বাছাই কমিটির সুপারিশ, প্রার্থীর গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে। বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিক্রমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ডিএমডি পদে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতাসহ নবম গ্রেড থেকে অন্তত ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। ফলে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলের সুযোগটি সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। নীতিমালায় এমডি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার ও পরিচালনা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রমালিকানাধীন নয়টি ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে ৬টিতে এমডি পদ শূন্য রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিল করে সরকার। এরপর নতুন করে এ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালী ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে আজ সোমবার। এদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি পদেও পরিবর্তন আনা হবে বলে গুঞ্জন চলছে। কিন্তু বিদ্যমান ডিএমডিদের মধ্যে এমডি পদে উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নীতিমালাই সংশোধন করা হয়েছে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%