ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গুর প্রকোপে একদিনে ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ৫৩৪ রোগী


ডেঙ্গুর প্রকোপে একদিনে ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ৫৩৪ রোগী

বাংলাদেশে চলতি ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৫৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৫০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ এবং ৩০ জন নারী রয়েছে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

এ দিকে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল বিভাগ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাইওয়ানকে ‘চেপে ধরতে’ নতুন সামুদ্রিক মহড়া চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


তাইওয়ানকে ‘চেপে ধরতে’ নতুন সামুদ্রিক মহড়া চীনের

তাইওয়ানকে ‘চেপে ধরতে’ চীন নতুন সামুদ্রিক মহড়া শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলবর্তী সাগরে বেইজিং তাদের কোস্টগার্ড এবং বেসামরিক জলযানের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা বাহিনী স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে বহির্বিশ্বের বাণিজ্য এবং যেকোনও সহযোগিতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে একটি ‘অবস্থানগত অবরোধের’ মহড়া দিচ্ছে। চীন সরকারের তথ্যানুযায়ী, গত জুন এবং জুলাই মাসে চীনের মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং কোস্টগার্ড ওই অঞ্চলে একাধিক টহল ও ‘বিশেষ সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ পরিচালনা করেছে। চীন নিয়মিতভাবে তাইওয়ান প্রণালীতে টহল দিয়ে থাকে, যা চীন এবং তাইওয়ানকে পৃথককারী ১৮০ কিলোমিটার প্রশস্ত জলপথ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রথমবার পরপর এত দ্রুত গতিতে তাইওয়ানের পূর্বদিকেও এ ধরনের সমন্বিত টহল বাড়াল বেইজিং। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চ’-এর অনাবাসিক ফেলো কে ট্রিস্টান টাং জানান, এই পরিবর্তনের কৌশলগত এবং প্রতীকী উভয় ধরনের গুরুত্ব রয়েছে। টাং বলেন, “বেইজিং সংকেত দিচ্ছে যে, তারা তাদের দাবি করা প্রশাসনিক অঞ্চল তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে চায়। এর ফলে শুধু তাইওয়ান প্রণালীতে তাদের উপস্থিতি জাহির করাই নয়, বরং তারা কার্যকরভাবে তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলতে চাচ্ছে।” তাইপেইয়ের মতে, চীনের এই ‘আইন প্রয়োগকারী অভিযানের’ মধ্যে রয়েছে এলাকাটিতে টহল দেওয়া এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছে সেগুলোর উৎস এবং গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য চাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট ‘সি লাইট’-এর পরিচালক রে পাওয়েল এই পদক্ষেপকে চীনের ‘বোয়া কনস্ট্রিক্টর স্ট্র্যাটেজি’ অজগরের মতো চেপে ধরার কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বেইজিং ধাপে ধাপে তাইওয়ানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। আল-জাজিরাকে পাওয়েল বলেন, “আজ তারা বাণিজ্যিক জাহাজ থামিয়ে রেডিওতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, কাল হয়তো তল্লাশি চালানো বা পথ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ শুরু করবে। তাইওয়ানের মতো দ্বীপ রাষ্ট্রের জন্য জ্বালানি (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ করে কোণঠাসা করা বেইজিংয়ের জন্য খুব বেশি কঠিন কিছু নয়।” তার মতে, চীনের এসব পদক্ষেপ তাইওয়ানের অর্থনীতি ও মনোবল গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে দ্বীপটির ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে বোঝানো যায় যে, চীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাইওয়ানের জন্য অনিবার্য। চলতি বছরের জুনে তাইওয়ান সংলগ্ন সাগরে অন্তত ৫৫টি চীনা কোস্টগার্ড ও গবেষণা জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইপেই, যা মে মাসের (৩০টি) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চীনের এই আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্স। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, চীনের এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও চীনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ব্যস্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বেইজিং। ‘ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অন্য সংকট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এই সংবেদনশীল জলসীমায় চীনের এই ধরনের সামুদ্রিক সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বা সুযোগ তাদের কম। বেইজিং অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক অধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই এই আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ালেন হাসনাত ও নাসীরুদ্দীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ালেন হাসনাত ও নাসীরুদ্দীন

১৪৪ ধারা জারির আওতায় মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর পুলিশ কর্তৃক আটকে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকা বন্ধ করে তাদের গাড়ি আটকে রাখা হয়।

এই পরিস্থিতিতে, গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সাথে কথোপকথনে দেখা যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকে।

একপর্যায়ে পুলিশের সাথে এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এই সময় হাসনাত আবদুল্লাহ এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যায়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার সময়, চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় শ্রীমঙ্গল-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এর ফলে সড়কের দুপাশে শতশত গাড়ি আটকা পড়ে।

মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেল মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভাব-অনটনেও বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেসব পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


অভাব-অনটনেও বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেসব পরিবার

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন কিংবা লবণাক্ততার আগ্রাসন নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বদলে দেয় তাদের জীবনের হিসাব-নিকাশ।

দুর্যোগ শুধু ঘরবাড়ি বা জীবিকাই কেড়ে নেয় না, অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয় শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎও। আর এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে দেখা যায় কিশোরীদের। সংসারের আর্থিক চাপ কমাতে অনেক পরিবার বাল্যবিয়েকেই সহজ সমাধান হিসেবে ভাবলেও সাতক্ষীরার কয়েকটি পরিবার দেখিয়েছে ভিন্ন পথ। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাস করেও তারা অল্পবয়সে মেয়ের বিয়ে না দিয়ে বেছে নিয়েছে শিক্ষার পথ। অর্থনৈতিকভাবে এই মেয়েদের কেউ কেউ সহায়তা করছে পরিবারকে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের পরিবার ৬ বছর আগে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। টিনের ঘর বিধ্বস্ত হয়, লোনা পানিতে তলিয়ে যায় চিংড়িঘের। কয়েক মাস ধরে প্রায় কোনো আয় ছিল না।

এমন সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই পরামর্শ দেন, মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলে অন্তত একটি দায়িত্ব কমবে। কিন্তু আব্দুল কাদের সেই পরামর্শ মানেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার নিজেরও তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল। অনেক সময় মনে হয়েছে, হয়তো সবাই ঠিকই বলছে। কিন্তু পরে ভাবলাম, ঘর আবার বানানো যাবে, কাজও একদিন হবে।

কিন্তু মেয়ের জীবন যদি একবার নষ্ট হয়ে যায়, সেটা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।’

আবদুল কাদেরের সেই সিদ্ধান্তের কারণে আজ তার মেয়ে স্থানীয় একটি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। পাশাপাশি একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছেন। অনলাইনে কাজ করে নিজের শিক্ষার ব্যয়ের একটি অংশও বহন করছেন তিনি।

মেয়ের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমি নিজের জীবনে বুঝেছি, অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের কত স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তাই যত কষ্টই হোক, ওর পড়াশোনা বন্ধ করিনি।’

মেয়েটি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অনেকে বলেছিল মেয়েদের এত পড়াশোনা করে লাভ নেই। কিন্তু এখন আমি নিজেই আয় করতে পারি। ভবিষ্যতে আরো বড় কিছু করতে চাই।’

বাংলাদেশে যে কয়টি জেলায় বাল্যবিবাহের হার সর্বাধিক, তার মধ্যে সাতক্ষীরা অন্যতম। এর মাঝেও তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে না ঠেকানো গেলে সপ্তম শ্রেণিতেই তার লেখাপড়া শেষ হয়ে যেতে পারতো। আর্থিক সংকটের কারণে সেসময় তার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নিজের দৃঢ়তা ও পরিবারের অন্য সচেতন সদস্যদের বাধার কারণে সেসময় বিয়েটা ঠেকানো যায়।

বর্তমানে মেয়েটি একটি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। আজ তিনি নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাইভেট-টিউশনি করে আয় করে নিজের খরচ ও পরিবারকে সহায়তা করছেন।

নিজ বাড়িতে সকাল ও বিকালের পৃথক ব্যাচে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থীকে তিনি পড়াচ্ছেন। তার বিশ্বাস, যে শিক্ষা তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছে, সেই শিক্ষাই ভবিষ্যতে আরো অনেক কিশোরীকে নিজের স্বপ্ন পূরণের সাহস জোগাবে।

স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সমাজকর্মীদের মতে, দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বড় সংকট শুধু অর্থের অভাব নয়, তথ্যের অভাবও। অনেক পরিবার জানেই না যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। ফলে তারা দ্রুত বাল্যবিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

উপকূলীয় অঞ্চলে মেয়েরা ১৫ বা ১৬ বছরে পৌঁছালেই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা ধরনের মন্তব্য শুনতে হয়। বিশেষ করে দুর্যোগের পর আয় কমে গেলে এসব সামাজিক চাপ অনেক পরিবারকে বাল্যবিয়ের সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। তবে যেসব পরিবার এই চাপ উপেক্ষা করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা বলছে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি লাভজনক।

বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ-এর প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান বলেন, দুর্যোগ কখনো বাল্যবিয়ের কারণ হতে পারে না। মূল কারণ দারিদ্র্য, তথ্যের অভাব ও সামাজিক মানসিকতা। পরিবার যদি বিকল্প আয়ের পথ এবং সরকারি সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে তারা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, একটি মেয়ে যত বেশি সময় বিদ্যালয়ে থাকবে, তার বাল্যবিয়ের ঝুঁকি তত কমবে। শিক্ষা শুধু বই শেখায় না, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে এবং পরিবারকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, যেসব মায়েরা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় করতে শুরু করেন, তারা সাধারণত মেয়েদের বাল্যবিয়ে দিতে চান না। কারণ তখন তারা বুঝতে পারেন, মেয়ের শিক্ষা একটি বিনিয়োগ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও স্থানীয় সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের মতে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সহশিক্ষা কার্যক্রম, কিশোরী ক্লাব এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিবারগুলো উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জীবনদক্ষতা ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ; কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষাবৃত্তি ও উপবৃত্তি; সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি; কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য অধিদপ্তরের বিকল্প জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন সহায়তা গ্রহণ করতে পারে। বাল্যবিবাহের আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানিয়ে দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়া সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্তের মতে, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বাল্যবিবাহ কমাতে কিশোরীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে কিশোরী ক্লাব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটিকে আরো সক্রিয় করা এবং সরকারি সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা গেলে দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের মধ্যেও বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ হয়তো পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু সচেতনতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সময়োপযোগী সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে একটি মেয়ের জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব। কারণ একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা মানে শুধু একটি বিয়ে ঠেকানো নয়, বরং একটি জীবন, একটি পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে জনগণের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে জনগণের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করেছে যাতে যেকোনো নাগরিকের সেবাসংক্রান্ত সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি জানা যায়।

এই গণশুনানিটি অনুষ্ঠিত হয় আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এখানে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত হয়ে তাদের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ, ভূমিসেবা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা দুর্ভোগ ও দাবি তুলে ধরেন।

সাধারণ মানুষের এসব বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং বলেন যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌক্তিক সমস্যাগুলো যুক্তিসঙ্গতভাবে পর্যায়ক্রমে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, জনগণের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শোনা এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান আরও উন্নত করা এ ধরনের গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের যৌক্তিক সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানে কাজ করবে।

গণশুনানিটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%