০৬:১০ পি.এম
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় কিছু নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
ফেডের ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) দুই দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। এরপর সংবাদ সম্মেলন করবেন ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি
বার্তা সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে এ খবর জানিয়েছে।
সিএমইর ফেডওয়াচ পর্যবেক্ষণ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর ধারণা, টানা পঞ্চম বৈঠকের মতো এবারও সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হবে। কিন্তু এই সময় সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ছে।
গত মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এলেও ভারতীয় ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ওঠানামার মধ্যে এটি আবার বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা রয়েছে।
এবারের বৈঠকের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা অস্বাভাবিক, যার একটি কারণ হলো, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেভিন ওয়ার্শ প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস কমানোর জন্য তিনি সেই অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ড্যাকো এ সম্পর্কে বলেন, 'এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি বৈঠক। কেননা ফেড চেয়ারম্যান বর্তমানে কী ভাবছেন, সে সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।'
এদিকে, ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকটি প্রকাশ্য মন্তব্যে বলেছেন, মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করতে কমিটি প্রতিশ্রুতibদ্ধ।
ড্যাকো এএফপিকে বলেন, 'মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রে (অন্য নীতিনির্ধারকদের) ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে আসছে। মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত ২ শতাংশের লক্ষ্যের দিকে না ফিরলে, পদক্ষেপ নিতে তারা প্রায় সবাই প্রস্তুত।'
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের হিমছড়িতে সাগরে ডুবে ৪ পর্যটকের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১
ফেডের সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকে বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক প্রকাশ্যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ফেডের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে এটি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে।
মার্চ মাস থেকে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সারের দাম ব্যাপক বেড়েছে। এই কারণে অন্যান্য পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফেডের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার ১৩ জুলাই বলেন, '২০২১ থেকে ২০২২ সালের মতো আরেকটি মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে ফেডকে প্রস্তুত থাকতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'শুধু কঠোর দৃষ্টিতে মুদ্রাস্ফীতির দিকে তাকিয়ে থেকে সেটি নিজে থেকেই কমে যাবেÑ এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।'
আরও পড়ুন: বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির চালককে উদ্ধার করলেন সাংবাদিক উইল মারে
এদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার পরে ওয়ার্শ সুদহার নির্ধারণে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে 'একটি ভালো বিতর্ক' হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ সপ্তাহের বৈঠকে সেই পরিস্থিতি দেখতে পাওয়া যেতে পারে।
কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়ঙ্ক বলেন, 'আমি সুদের হার বাড়বে বলে মনে করি না। তবে ভিন্নমত দেখা যাবে বলে ধারণা করছি।'
তিনি আরো যোগ করেন, 'নতুন চেয়ারম্যান এলেও বছরের শুরু থেকে অর্থনীতির পরিবর্তিত অবস্থান নিয়ে পুরোনো নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।'
আরও পড়ুন: মায়ের জন্মদিনের উপহার বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা কিশোরের
সোয়ঙ্কের মতে, ফেডের 'হকিশ' বা সুদহার বাড়ানোর পক্ষে থাকা নীতিনির্ধারকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলছেন, 'ফেডের হকিশ অবস্থান শুধু আরও দৃঢ়ই হয়নি, এর পরিধি বেড়েছে।'
জুনে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমায় আপাতত নীতিনির্ধারকদের জন্য 'স্বস্তির সুযোগ' তৈরি হয়েছে। তবে সামনে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলেও ধারণা প্রকাশ করছেন সোয়ঙ্ক। এর ফলে চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুই দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এর চাপ বেশি লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের মানুষও ভোগব্যয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েও শক্তিশালী হয়েছেন।
সোয়ঙ্ক বলেন, 'যারা সবচেয়ে কম সামর্থ্যবান, তাদের ওপরেই এই আঘাত সবচেয়ে বেশি। আর এই প্রভাব ধীরে ধীরে সমাজের সব স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।'
আরও পড়ুন: সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের নতুন আন্দোলনের ঘোষণা
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ। তবে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির ধারাবাহিক ধাক্কা এসব কারণে ভূমিকা রেখেছে।
সোয়ঙ্কের মতে, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়ার আগেই ফেডকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন