বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
ইরান তার সামরিক কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রদান করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধকে শুধু ইরানের ভূখণ্ডে প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং প্রয়োজনে শত্রুর ভূখণ্ডেও যুদ্ধ নিতে চাওয়ার সক্ষমতা যেন তাদের মধ্যে থাকে।
সম্প্রতি, আইআরজিসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাঘদি বলেন, ইরানের নতুন সামরিক নীতির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এমন সক্ষমতা তৈরি করা, যা দ্বারা প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হবে।
তিনি দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে যে গতিতে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তা এখনকার গতির তুলনায় অগ্রগতি লাভ করছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হলে দেশের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা থাকবে।
নাঘদির বক্তৃতা অনুযায়ী, ইরানের সামরিক শিল্প এখন শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অস্ত্র তৈরি করছে না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এমন সংঘাতের জন্যও প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিকে একদিকে শক্তিশালী এবং অন্যদিকে সম্ভাব্য শত্রুকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইছে।
ইরান দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জনের একটি প্রমাণিত রেকর্ড রেখেছে। তাই বর্তমানে দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) থাকা অত্যাশ্চর্য বলা চলে না।
বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো খোররামশাহর, যার পাল্লা ৪ হাজার কিলোমিটার। এখন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ১২ হাজার কিমি পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে।
১২ হাজার কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার বিষয়টি যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভূখণ্ড থেকে বিশ্বের যেকোন জায়গায় আঘাত করায় সক্ষম।
ইরানের সামরিক নীতিতে ‘শত্রুর ভূখণ্ডে যুদ্ধ নিয়ে যাওয়ার’ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এতদিন ইরানের সামরিক বক্তব্যে মূলত দেশের ভূখণ্ডে আগে আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সম্ভাব্য হামলার জবাব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন বক্তব্যে, ইরান এখন আক্রমণাত্মক সক্ষমতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
নাঘদির মন্তব্য থেকে প্রতিভাত হচ্ছে যে, ইরান ভবিষ্যতের সংঘাতে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আটকানোর ওপর নির্ভর করতে চায় না। বরং প্রয়োজনে শত্রুর সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানা ও তা প্রতিহত করার সক্ষমতাকেও নিশ্চিত রাখতে চায় তেহরান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের জন্য কৌশলগত বার্তা। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, যদি তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান হয়, তবে সংঘাত কেবল ইরানের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। নাঘদি দাবি করেছেন, এসব অস্ত্র উৎপাদনের গতি বর্তমানে ব্যবহৃত গতিকে ছাড়িয়ে গেছে।
এতে ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, সংঘাত চলাকালীন ইরান নতুন অস্ত্র তৈরি করে মজুত পুনরায় পূরণ করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এই ধরনের উৎপাদন সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি মূল উপাদান। একই সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা যায় এমন ড্রোনকে দীর্ঘপাল্লার হামলা এবং নজরদারির ক্ষেত্রে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নাঘদির বক্তব্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তা হলো শুধু অস্ত্রের সংখ্যা নয়, যুদ্ধ চলাকালে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রাখা।
আইআরজিসির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পর তেহরান তার প্রতিরোধ সক্ষমতার ওপর একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছে। এবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে যুদ্ধকে শত্রুর ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের দৃষ্টিতে, সম্ভাব্য মার্কিন বা মিত্র বাহিনীর হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণ করার সক্ষমতা থাকলে প্রতিপক্ষের জন্য সামরিক অভিযান চালানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
নাঘদি আরও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যেতে পারবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রাখছে।
এ ধরনের প্রস্তুতির মধ্যে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো, সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধরে রাখার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। তবে ইরানের এই দাবিগুলোর বাস্তব সক্ষমতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তবে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইরান ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতে কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকতে চাইছে না। বরং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাকে সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ফলে, ইরানের নতুন সামরিক মতবাদ সম্পর্কিত এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে নতুনভাবে তাৎপর্য তৈরি করেছে। বিশেষভাবে যদি ইরান সত্যিই যুদ্ধকে শত্রুর ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতে যদি কোনো সরাসরি সংঘাত ঘটে, তার পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছেন, দেশের প্রতি প্রেম ও责任বোধ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায়, রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজধানীতে দেশী এবং বিদেশী কূটনীতিকসহ সব স্তরের মানুষ বসবাস করেন। তাই, রাজধানীর আইন ও শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাটা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
মাঠপর্যায়ের কাজকে গতিশীল করতে সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক তদারকি থাকলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহী হয়।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। তবে, ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। সেই পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের একটাই পরিচয়, আমরা আইন ও জনগণের সেবক। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্তি আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপএমসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম এবং কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ এই বৃহস্পতিবার বিকেলে নববিধান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি শিবেন্দ্র নাথ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর সুবিধ কুমার মৈত্র, অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধান শিক্ষক বিমান গোবিন্দ সরকার, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সহ-সভাপতি এ্যাড. খগেন্দ্র নাথ রায়, ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি মো. আলতাফ হোসেন, এবং নাটোর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন।
অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীবৃন্দ একক এবং দলীয়ভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির কাজের গতিশীলতা আনতে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজধানীতে দেশী-বিদেশি কূটনীতিকসহ নানা পর্যায়ের মানুষ বসবাস করে; সুতরাং রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার সময় রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই কথা বলেন আইজিপি। তিনি আরও বলেছেন, সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিকভাবে তদারকি করা হলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তবে যারা ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবেন, তাদের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না।’
আইজিপি নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের পরিচয় একটাই—‘আমরা আইন ও জনগণের সেবক’। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। বর্তমানে ঐতিহ্যগত অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবেলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এই বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করে বিপুল মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ, পাশাপাশি বিচারাধীন মামলার মধ্যে অর্থ-সম্পদ ভারতে স্থানান্তরের আশঙ্কার অভিযোগ তুলে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেছেন সাবেক শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫-এ এই আবেদনটি করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া কোম্পানির এমডির বাংলাদেশ ত্যাগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক।
সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (WPPF) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আইনগত পাওনা থেকে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন, যা প্রায় ১৮ বছর।
পাওনা আদায়ের দাবিতে প্রথমে ১৯ জন শ্রমিক ২০১৪ সালে শ্রম আদালতে মামলা নং ৬৯১/২০১৪ দায়ের করেন। এরপর উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং ৫৭৬/২০১৮ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর প্রতিকারের উদ্দেশ্যে ৯৪ জন সাবেক শ্রমিক ২০২৫ সালে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫ দায়ের করেন।
আবেদনকারীদের দাবি, একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৯৪ জন সাবেক শ্রমিকের মোট পাওনা প্রায় ১ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন শ্রমিকদের আইনগত পাওনা অনাদায়ী থাকলেও একই সঙ্গে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করেছে।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাবেক শ্রমিকদের আশঙ্কা, বিপুল নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং ভারতে অর্থ স্থানান্তরের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের রায় তাদের পক্ষে গেলেও পাওনা আদায় জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির বর্তমান এমডি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং নিয়মিত বিদেশ সফর করেন—এমন তথ্য উল্লেখ করে বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেন যে, তারা কারো স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে চান না। দীর্ঘদিনের শ্রমিক পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির স্বার্থে এবং সম্ভাব্য রায় কার্যকর রাখার জন্য তারা সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চেয়েছেন।
‘এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অন্যায্য সুবিধা চাই না; আমাদের পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি চাই।”
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের পাওনা বছরের পর বছর অনাদায়ী রেখে বিপুল লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় আসা প্রয়োজন হবে। সাবেক শ্রমিকদের ভাষ্যে, এটি শুধু অর্থনৈতিক পাওনা আদায়ের বিষয় নয়; বরং শ্রমিকের আইনগত অধিকার, করপোরেট জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ