বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৫০ পি.এম
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির কাজের গতিশীলতা আনতে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজধানীতে দেশী-বিদেশি কূটনীতিকসহ নানা পর্যায়ের মানুষ বসবাস করে; সুতরাং রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার সময় রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই কথা বলেন আইজিপি। তিনি আরও বলেছেন, সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিকভাবে তদারকি করা হলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তবে যারা ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবেন, তাদের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না।’
আইজিপি নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের পরিচয় একটাই—‘আমরা আইন ও জনগণের সেবক’। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। বর্তমানে ঐতিহ্যগত অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবেলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এই বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করে বিপুল মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ, পাশাপাশি বিচারাধীন মামলার মধ্যে অর্থ-সম্পদ ভারতে স্থানান্তরের আশঙ্কার অভিযোগ তুলে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেছেন সাবেক শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫-এ এই আবেদনটি করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া কোম্পানির এমডির বাংলাদেশ ত্যাগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক।
সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (WPPF) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আইনগত পাওনা থেকে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন, যা প্রায় ১৮ বছর।
পাওনা আদায়ের দাবিতে প্রথমে ১৯ জন শ্রমিক ২০১৪ সালে শ্রম আদালতে মামলা নং ৬৯১/২০১৪ দায়ের করেন। এরপর উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং ৫৭৬/২০১৮ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর প্রতিকারের উদ্দেশ্যে ৯৪ জন সাবেক শ্রমিক ২০২৫ সালে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫ দায়ের করেন।
আবেদনকারীদের দাবি, একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৯৪ জন সাবেক শ্রমিকের মোট পাওনা প্রায় ১ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন শ্রমিকদের আইনগত পাওনা অনাদায়ী থাকলেও একই সঙ্গে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করেছে।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
সাবেক শ্রমিকদের আশঙ্কা, বিপুল নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং ভারতে অর্থ স্থানান্তরের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের রায় তাদের পক্ষে গেলেও পাওনা আদায় জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির বর্তমান এমডি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং নিয়মিত বিদেশ সফর করেন—এমন তথ্য উল্লেখ করে বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেন যে, তারা কারো স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে চান না। দীর্ঘদিনের শ্রমিক পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির স্বার্থে এবং সম্ভাব্য রায় কার্যকর রাখার জন্য তারা সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চেয়েছেন।
‘এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অন্যায্য সুবিধা চাই না; আমাদের পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি চাই।”
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের পাওনা বছরের পর বছর অনাদায়ী রেখে বিপুল লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় আসা প্রয়োজন হবে। সাবেক শ্রমিকদের ভাষ্যে, এটি শুধু অর্থনৈতিক পাওনা আদায়ের বিষয় নয়; বরং শ্রমিকের আইনগত অধিকার, করপোরেট জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদশালী করা।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীতে নদীতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্প মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দেশের জন্য সম্পদ সৃষ্টি এবং দ্বিতীয়ত, ভালো পরিবেশ সৃষ্টি। যারা দায়িত্ব পালন করেন তারা এবং যারা সম্পদ সৃষ্টি করেন, তাদের মধ্যে যদি সমন্বয় না থাকে, তবে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সম্পদ সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়, পরিবেশ দূষণ ঘটে, দুর্নীতি ঘটে এবং বৈষম্যও সৃষ্টি হয়।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদ সম্পর্কে আলোচনা করছি। দুই নদীই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। যারা পানি দূষিত করছেন, তাদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। ইতোমধ্যে বিজিএমইসহ চামড়া প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
আবদুল আওয়াল মিন্টু আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের সম্পদশালী করা এবং তেমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে সমাজ ও জীবনের গুণগতমান উন্নয়ন ঘটে। যাতে শুধু আমাদের দেশবাসীই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মসমেত সবাই এই উন্নয়ন ভোগ করতে পারে।’
তিনি উল্লেখ করেন, যদি সবার সম্পৃক্ততা অর্জন করা না যায় তবে তা টেকসই হবে না।
‘আমরা যেন দূষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হই। বিশ্ব ইনডেক্সে বাংলাদেশ শব্দ, বায়ু ও পানি দূষণে শীর্ষে রয়েছে। এটি আমাদের জন্য সুখকর হতে পারে না। আমাদের আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে পরিবেশ উন্নত করতে হবে।’
দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে একে অপরের সঙ্গে একভাবে কাজ করব যাতে সব ধরনের দূষণ কমানো যায়। একদিনে আমরা সব কিছু ঠিক করতে পারব না, তবে যদি ১০ শতাংশও ঠিক করতে পারি, তবে সেটাই আমাদের সফলতা।’
তিনি বলেন, ‘যাদের ইটিপি নেই তারা যেন ইটিপি স্থাপন করে। আর যাদের ইটিপি রয়েছে, দয়া করে সেটি চালু রাখার চেষ্টা করবেন। ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনে যারা আছেন তাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি- আপনাদের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে ইটিপি স্থাপনের কথা বলবেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। আর যদি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করা হয়, সেক্ষেত্রে অপরাধীর জন্য অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন ২০২৬’-এ এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ আইনটির প্রণয়ন করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল। তার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য এ আইন তৈরি হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উদ্বোধিত সেই ঐতিহাসিক জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকা শহরের গণভবনে স্থাপিত হবে। আইন অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যে সকল গোপন কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার জাদুঘরের থাকবে। যদি কোনও গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীনে থাকে, তাহলে সেই সংস্থাকে তা বর্তমান অবস্থাতেই জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকতে হবে এবং মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহ জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হবে।
আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সম্পর্কিত ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম এবং ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল এবং সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।
আইনের ১৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর অথবা কোনো ব্যক্তির সাথে জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় অথবা উপহার প্রদান ও গ্রহণ করতে পারবে। তবে, এই বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা আবশ্যক।
আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে বিশ্বাস করার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন এবং এ আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে।
আইনের ২২ ধারায় স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্টের বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা তার কোনো অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করেন, তবে এটি অপরাধ গণ্য হবে। এর জন্য তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
আইনের ২৩ ধারায় নির্ধারিত হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করে, তবে সেটিও অপরাধ হবে এবং সেজন্য তাকে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
অন্যদিকে, ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করেন, তাহলে এটি অপরাধ হবে এবং তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের ব্যবস্থা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় সারবোঝাই ট্রাক ও পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মারা গেছেন ৪ জন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি পিকআপভ্যান বিপরীত দিকে আসা একটি সারবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ করে।
এ ঘটনায় পিকআপভ্যানে থাকা তিন পুরুষ ও একজন নারী গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি, শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ