ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবিতে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ


অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবিতে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদনের দাবী জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি হল, দীর্ঘদিন ধরে অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়ার কারণে ব্যাংকের নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন লিখিত বক্তব্যে এই সব বিষয় তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৯২৬ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি ভিত্তিতে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর সুপারনিউমারারি পদোন্নতি নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আরও ৭ হাজার ২১৮ জন কর্মকর্তাকে একই ধরনের পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রেডের ৫৭৯ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করে। তার পরবর্তী সময়ে ১৪ অক্টোবর সুপারনিউমারারি পদোন্নতির বিষয়টি সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তাদের জানানো হয়, জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এখনো এর অনুমোদন মেলেনি। অথচ ইতোমধ্যে সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হয়েছে এবং জনতা ব্যাংক ছাড়া অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪কে কাট-অফ তারিখ ধরে নিয়মিত পদোন্নতি প্রদান করেছে। ফলে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়ে থাকে, ২০২৪ সালের শেষে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ৫ হাজার ৮০২ জন ছিল। তবে ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৬৮ জনে। নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে, যা প্রশাসনিক সংকট তৈরি করছে।

সংগঠনের মতে, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে ব্যাংকের জনবল ১৮ হাজার ৩৭৩ জন থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৮১৭ জন হবে। এতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য ফিরবে, নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকসেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, এসএমই ও সিএমএসএমই কার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আসবে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তাদের দাবি, নতুন অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নে তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় খুবই সামান্য।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদন এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প

৫১ হাজারের বেশি নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে স্বজনের অপেক্ষায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


৫১ হাজারের বেশি নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে স্বজনের অপেক্ষায় পরিবার

ভয়াবহ অবস্থায় ভেনিজুয়েলা পড়েছে জোড়া ভূমিকম্পের কারণে। যেকোনও বড় ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা সুবর্ণ সময় বলা হয়। ভেনিজুয়েলায় ২৪ জুন ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের পর সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন পার হয়ে গেছে। সময় ফুরিয়ে আসায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের খোঁজে এখন হাজারো মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

ভূমিকম্পের ফলে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী কারাকাসের ঠিক উত্তরের এই রাজ্যটি বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংসস্তূপের পাহাড়ে পরিণত হয়ে গেছে। সেখানে নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের জীবিত ফেরাতে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। অনেক জায়গায় সরকারি উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতুড়ি, ড্রিল এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাব কাটার চেষ্টা করছেন। তাদের বিশ্বাস, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে জীবিত আটকে আছেন।

‘ওখানে এখনও মানুষ জীবিত আছে’ – লা গুয়িরার বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি এবং পাওয়ার টুল এর সাহায্যে কংক্রিট ভাঙার চেষ্টা করছে অনেকে। সেই শব্দের মাঝে স্বজনদের কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। নাজারেথ জিমেনেজ একটি ধসে পড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো বলেছেন, ‘হে ঈশ্বর, আমরা কীভাবে ওদের বের করব?’

তিনি জানান, ভাইবোন, ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে এবং বন্ধু জমাট বাঁধা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে আছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারী যন্ত্রপাতি ও কংক্রিট অপসারণের আধুনিক সরঞ্জামগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সরকার ও বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। ওখানে এখনও মানুষ জীবিত আছে।’

ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজের ধীরগতিতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। লা গুয়াইরার ২৫ বছর বয়সি জেনিফার প্যালাসিওস এক মা হিসেবে জানান, হুগো শ্যাভেজ হাউজিং কমপ্লেক্সের আটটি টাওয়ার ধসে পড়েছে। ওই ভবনে তার ছয় বছরের সন্তানসহ মোট ছয়জন আত্মীয় আটকেছেন। আকুল কণ্ঠে তিনি জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় মানুষের চেষ্টায় এ পর্যন্ত কয়েকজনকে জীবিত বের করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের এখন ক্রেন প্রয়োজন। কংক্রিটের নিচে এখনও অনেকে বেঁচে আছেন।’

এদিকে ভূমিকম্পে বেঁচে থাকা মানুষদের মধ্যে খাদ্য এবং পানি বিতরণ শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ‘এই সংকটকালে মানুষকে জীবিত উদ্ধারে সরকার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’ তিনি একই সঙ্গে সারা বিশ্ব থেকে আসা উদ্ধারকারী দল এবং মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে লা গুয়িরা রাজ্যটি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরও সাহায্য পাঠানো হচ্ছে। তবে দুর্গত বাসিন্দাদের দাবি, যে পরিমাণ সাহায্য আসছে, তা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পর, ভেনিজুয়েলায় এখন উদ্ধারকারীরা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই দুর্যোগে ইতোমধ্যে ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ছিল এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

দুর্যোগ-পরবর্তী এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, এল সালভাদর, কিউবা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, ভারী যন্ত্রপাতি এবং মানবিক সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার ভেনিজুয়েলার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘ভেনিজুয়েলার জনগণ, যাদের প্রিয়জনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, জেনে রাখুন, আমরা আপনাদের সাহায্য পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি সংকটের ফলস্বরূপ দেশে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না, এমনটা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (২৭ ‍জুন) বিজিএমইএ আয়োজিত একটি সভায় তিনি এই তথ্য জানান।

বাণিজমন্ত্রী সেখানে বলেন, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করার পরও গ্যাসের অভাবের কারণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না।

তবে, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করার কথা জানান। এর মাধ্যমে প্রতিদিন আরও সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া, তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী দিনে আরও বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেশাদার টুর্নামেন্টে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না- বিশ্বকাপ নিয়ে ইরান অধিনায়কের তীব্র মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


পেশাদার টুর্নামেন্টে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না- বিশ্বকাপ নিয়ে ইরান অধিনায়কের তীব্র মন্তব্য

চলমান ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নানা সমস্যায় পড়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে আসর শুরুর আগেই তারা চরম ভিসা জটিলতায় পড়ে। এ ছাড়া প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য নির্ধারিত টিকিট বিক্রির স্বত্বও পায়নি ইরান। বিশ্বকাপের মধ্যে আবার তাদের ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে ইরানের খেলোয়াড়রা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। আজ (২৭ জুন) গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইরান অধিনায়ক।

তারেমি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্বকাপে ইরানের সকল সমস্যার জন্য তিনি ফিফা ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ের অভিযোগও তোলেন। তারেমি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো পেশাদার টুর্নামেন্টে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়ার মতো নয়।”

তারেমির ক্ষোভ অবশ্য অযৌক্তিক নয়। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের ক্যাম্প করতে হয় মেক্সিকোতে। কথা ছিল, ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং ম্যাচের পরদিন মেক্সিকো ফিরে আসবে। পরে ফিফা জানায়, দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে ইরানকে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর ফিফা জানায়, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে তাদের আবার চলে যেতে হবে। অধিকাংশ ইরান দলের স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে তারেমির।

তারেমি বলেন, “এটি জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটি তো কেবল শুরু...।’ অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী এবং আমরা তাদের পছন্দ করি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

ইরানের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে দাবি করে তারেমি বলেন, “এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার মতো কোনো লজিস্টিক স্টাফ এখানে নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।”

ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেমি আরও বলেন, “আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। লোকে কী চায়, আমি জানি না। তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটাই পছন্দ করছে... তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে কেন?”

আজ মিশরের সঙ্গে ড্র করার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়েছে ইরান। নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট পেতে হলে এখন তাদের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন যে, সরকারের, চিকিৎসক সমাজের, গণমাধ্যমের এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এই কথা ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত এবং সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়াটির যথেষ্ট প্রশংসা করা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, অঙ্গদান বহু মরণাপন্ন রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে। মৃত রোগীর কিডনি ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তাজা থাকে এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য জনগণের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, লাইভ ও ডিসিজড ডোনার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাজার হাজার কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হারুন-উর- রশিদ। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি, এশিয়ান সোসাইটি অব ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর কিউরি আন, অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্টার্ন সিডনি এলএইচডি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার স্থায়ী কমিশনার এমিরিটাস অধ্যাপক ইন সু্গ মুন, ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের এমডি অধ্যাপক হি ইয়ং শিন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন।

দেশে বছরে মাত্র কয়েকশত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনার থেকে ট্রান্সপ্লান্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আর্থিক সংকটের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

বক্তাগণ উল্লেখ করেন যে, সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরো সুলভ ও সহজলভ্য করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ সম্মেলন মৃত ডোনার থেকে কিডনি দানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং ট্রান্সপ্লান্টেশন সেবা সম্প্রসারণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%