প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভয়াবহ অবস্থায় ভেনিজুয়েলা পড়েছে জোড়া ভূমিকম্পের কারণে। যেকোনও বড় ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা সুবর্ণ সময় বলা হয়। ভেনিজুয়েলায় ২৪ জুন ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের পর সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন পার হয়ে গেছে। সময় ফুরিয়ে আসায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের খোঁজে এখন হাজারো মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
ভূমিকম্পের ফলে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী কারাকাসের ঠিক উত্তরের এই রাজ্যটি বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংসস্তূপের পাহাড়ে পরিণত হয়ে গেছে। সেখানে নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের জীবিত ফেরাতে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। অনেক জায়গায় সরকারি উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতুড়ি, ড্রিল এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাব কাটার চেষ্টা করছেন। তাদের বিশ্বাস, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে জীবিত আটকে আছেন।
‘ওখানে এখনও মানুষ জীবিত আছে’ – লা গুয়িরার বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি এবং পাওয়ার টুল এর সাহায্যে কংক্রিট ভাঙার চেষ্টা করছে অনেকে। সেই শব্দের মাঝে স্বজনদের কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। নাজারেথ জিমেনেজ একটি ধসে পড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো বলেছেন, ‘হে ঈশ্বর, আমরা কীভাবে ওদের বের করব?’
তিনি জানান, ভাইবোন, ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে এবং বন্ধু জমাট বাঁধা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে আছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারী যন্ত্রপাতি ও কংক্রিট অপসারণের আধুনিক সরঞ্জামগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সরকার ও বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। ওখানে এখনও মানুষ জীবিত আছে।’
ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজের ধীরগতিতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। লা গুয়াইরার ২৫ বছর বয়সি জেনিফার প্যালাসিওস এক মা হিসেবে জানান, হুগো শ্যাভেজ হাউজিং কমপ্লেক্সের আটটি টাওয়ার ধসে পড়েছে। ওই ভবনে তার ছয় বছরের সন্তানসহ মোট ছয়জন আত্মীয় আটকেছেন। আকুল কণ্ঠে তিনি জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় মানুষের চেষ্টায় এ পর্যন্ত কয়েকজনকে জীবিত বের করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের এখন ক্রেন প্রয়োজন। কংক্রিটের নিচে এখনও অনেকে বেঁচে আছেন।’
এদিকে ভূমিকম্পে বেঁচে থাকা মানুষদের মধ্যে খাদ্য এবং পানি বিতরণ শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ‘এই সংকটকালে মানুষকে জীবিত উদ্ধারে সরকার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’ তিনি একই সঙ্গে সারা বিশ্ব থেকে আসা উদ্ধারকারী দল এবং মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে লা গুয়িরা রাজ্যটি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরও সাহায্য পাঠানো হচ্ছে। তবে দুর্গত বাসিন্দাদের দাবি, যে পরিমাণ সাহায্য আসছে, তা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পর, ভেনিজুয়েলায় এখন উদ্ধারকারীরা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই দুর্যোগে ইতোমধ্যে ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ছিল এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
দুর্যোগ-পরবর্তী এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, এল সালভাদর, কিউবা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, ভারী যন্ত্রপাতি এবং মানবিক সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।
জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার ভেনিজুয়েলার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘ভেনিজুয়েলার জনগণ, যাদের প্রিয়জনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, জেনে রাখুন, আমরা আপনাদের সাহায্য পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন