বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৬ এম
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল চলাকালীন প্রথমার্ধের বিরতির ১১ মিনিটের বিশেষ হাফটাইম শো-তে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।
আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই বর্ণাঢ্য পরিবেশনা পৃথিবীজুড়ে দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হবে। এতে আরো উপস্থিত থাকবেন নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, কোল্ডপ্লের অংশগ্রহণে পিএস২২ কোরাস এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসেমি স্ট্রিট’-এর মাপেট চরিত্রগুলো।
অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। ফিফা বিশ্বকাপের একটি ঐতিহ্য হিসেবে এই হাফ-টাইম শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাস্টিন বিবার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আসর, যা পৃথিবীর মানুষকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি একত্রিত করে।” স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে ‘জাস্টিস’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর বাতিল করার পর, তিনি চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা উৎসবে ফিরে এসে সফলভাবে তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন।
ফিফার এই ঐতিহাসিক হাফ-টাইম শোটি কিউরেশন করেছেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় হবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা শাকিরা এবং বার্না বয় আবারও একসঙ্গে মঞ্চে উঠে আসবেন। তাদের যৌথ গান ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্ট শুরু হবার পর থেকেই সংগীত চার্টে শীর্ষে রয়েছে এবং বিভিন্ন ম্যাচে ব্যাপকভাবে বাজানো হচ্ছে।
এদিকে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই আসরের আয়োজক দেশ তিনটি ইতোমধ্যেই বিদায় নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচ দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব আবার শুরু হচ্ছে, এবং শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে স্পেন ও বেলজিয়াম মুখোমুখি হবে। শনিবার মিয়ামিতে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড খেলবে, আর একই দিনে কানসাস সিটিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বর্তমানে আট গোল নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তার ঠিক পেছনে সাত গোল নিয়ে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের এরলিং হালান্ড। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোলসংখ্যা ছয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পর্কে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে। এই রায়ে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সকালের দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন।
গতকাল বুধবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে ৯ জুলাইয়ের জন্য রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, রিটের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়ে থাকে।
এর পরে গত ৩ নভেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছিল। এই আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল দায়ের করেন।
হাইকোর্ট গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে। একইসাথে উচ্চ আদালত সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হয়নি সেই রায়ে।
সেই রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারপতিরা বলেছেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। তবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে বিগত তিন সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিচারপতিরা আশা করেন, ভবিষ্যতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন। এছাড়া, পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না।
বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন এবং পরিবর্তন করতে পারবে। উল্লেখ্য, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল।
হাইকোর্টের মতে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফ্রান্সকে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাইকেল ওলিসেকে প্রদত্ত হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন ফিফা নাকচ করে দিয়েছে। এর ফলে, মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে যদি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখান হয়, তাহলে সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না এই ফরাসি উইঙ্গার।
বুধবার (৮ জুলাই) ফক্সবরোতে সাংবাদিক সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। আজ সকালে ফিফা আমাদের জানিয়েছে, কার্ডটি বহাল রাখা হয়েছে।"
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচের শেষ দিকে প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারসার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা মাইকেল ওলিসে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো শারীরিক সংস্পর্শ ছিল না। ওলিসে প্রতিপক্ষকে চুপ থাকার ইঙ্গিত দিলে গালারসা মাটিতে পড়ে মুখে আঘাতের অভিযোগ করেন। এরপরই হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি।
এটি শুধুমাত্র মাইকেল ওলিসের ক্ষেত্রে নয়; প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখিয়ে আইন অনুসারে একই শাস্তির ঝুঁকিতে রয়েছেন ফ্রান্সের ব্র্যাডলি বারকোলা ও মানু কোনোও। যদি তারা মরক্কোর বিপক্ষে আবারও সতর্কবার্তা পান, তাহলে সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হতে পারেন।
এদিকে, মিডফিল্ডার অরেলিয়ে চুয়ামেনি চোট কাটিয়ে ফেরার পথে রয়েছেন। উরুর চোটের কারণে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে না পারা এই তারকা সম্পর্কে দেশম জানান, "চুয়ামেনি আগের চেয়ে ভালো আছে। আজ অনুশীলনে অংশ নিতে পারে, তবে সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।" দলের বাকি সবাই প্রস্তুত রয়েছে।
মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন আর্জেন্টিনার রেফারি ফাকুন্দো তেলো। তবে রেফারি নিয়োগ নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চান না দেশম। তিনি বলেন, "রেফারি নিয়োগ নিয়ে আমার কিছু করার নেই। আমি শুধু তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাই। আশা করি মি. তেলো ও তার সহকারীরা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সক্ষম হবেন। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। রেফারিকে আমি কখনোই প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি না।"
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো দিদিয়ের দেশম আগেই জানিয়েছেন, চলতি বিশ্বকাপ শেষেই তিনি ১৪ বছরের কোচিং অধ্যায়ের ইতি টানবেন। তাই মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স হেরে গেলে সেটিই হবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। তবে বিদায়ের আবেগ নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেই পুরো মনোযোগ রাখছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকের পাশাপাশি, জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে অংশ নিয়ে আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্র দমনে বিশ্বনেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট এখন বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জোর দেয় বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও জোরালো, দৃশ্যমান পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অপরাধের পরিবর্তিত ধরন নিয়ে জাতিসংঘে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পঞ্চম ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট বা ইউএনকপস ২০২৬-এ অংশ নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরও সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, বৃক্ষরোপণ একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব, পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, আজকের একটি বৃক্ষই হতে পারে আগামী দিনের নির্মল পরিবেশ, সুস্থ জীবন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি। তাই সকলের প্রতি আহ্বান, আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হোক বৃক্ষরোপণকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে আগামী বুধবার (৮ জুলাই) রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত এক বাণীতে এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও জানান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকৃতি, পরিবেশ, এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রাণিকূলের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে।
বর্তমানে বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি হ্রাস, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটের সম্মুখীন। এসব সংকটের মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন অপরিহার্য। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তরিত করতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি বনভূমি, প্রান্তিক ভূমি, উপকূলীয় এলাকা ও চরাঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি একটি সবুজ, টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন।
এ বছর ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’ ও ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক বনায়নের লাভপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ