প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, বৃক্ষরোপণ একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব, পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, আজকের একটি বৃক্ষই হতে পারে আগামী দিনের নির্মল পরিবেশ, সুস্থ জীবন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি। তাই সকলের প্রতি আহ্বান, আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হোক বৃক্ষরোপণকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে আগামী বুধবার (৮ জুলাই) রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত এক বাণীতে এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও জানান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকৃতি, পরিবেশ, এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রাণিকূলের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে।
বর্তমানে বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি হ্রাস, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটের সম্মুখীন। এসব সংকটের মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন অপরিহার্য। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তরিত করতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি বনভূমি, প্রান্তিক ভূমি, উপকূলীয় এলাকা ও চরাঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি একটি সবুজ, টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন।
এ বছর ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’ ও ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক বনায়নের লাভপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন