প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পর্কে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে। এই রায়ে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সকালের দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন।
গতকাল বুধবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে ৯ জুলাইয়ের জন্য রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, রিটের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়ে থাকে।
এর পরে গত ৩ নভেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছিল। এই আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল দায়ের করেন।
হাইকোর্ট গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে। একইসাথে উচ্চ আদালত সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হয়নি সেই রায়ে।
সেই রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারপতিরা বলেছেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। তবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে বিগত তিন সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিচারপতিরা আশা করেন, ভবিষ্যতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন। এছাড়া, পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না।
বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন এবং পরিবর্তন করতে পারবে। উল্লেখ্য, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল।
হাইকোর্টের মতে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন