বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম এ আবেদনটি করেন।
আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত দুটি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গত ১২ মে খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন পান। আদেশের পরে তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, সব মামলায় জামিন হওয়ায় আপাতত খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই।
তবে এই সময় রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানায় খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ৩০ জুন এ মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে ওই আদেশটি স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক তার জামিন বহাল রাখার এই আদেশ দেন।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিনও আপিল বিভাগে বহাল রাখা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলাতে সবগুলো জামিনে রয়েছেন তিনি। এবার নতুন করে আরেক হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফরকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে।’
আজ ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের নানা দিক তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর গত ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গতি সঞ্চার করেছে।
তিনি জানালেন, এই সফর ছিল তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম চীন সফর। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাতীয় পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজি’র সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এবং একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সফরের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে চীন-বাংলাদেশ ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’কে আরো এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন যাতে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের এক চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলা যায়।
তিনি জানান, উভয় দেশ উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময় বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং দুই দেশের সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শি জিনপিংয়ের উদ্ধৃতিতে ইয়াও বলেন, ‘চীন সবসময়ই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি ভালো প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অবিচল রয়েছে।’
ইয়াও বললেন, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, চীনই প্রথম দেশ যারা কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় দলিলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, দুই দেশ গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
বাংলাদেশ চীনে তার প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে এবং এই সফরকালে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
স্বাক্ষরিত সমঝোতার মধ্যে মোংলা বন্দর সুবিধার সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা চুক্তির কথা উল্লেখযোগ্য।
যৌথ রপ্তানি প্রচার কর্মপরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো বিষয়েও চুক্তি সই হয়েছে।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশ থেকে কাঁচা কাঁঠাল রপ্তানির প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত কৃষি বাণিজ্যের প্রটোকল স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি তিস্তা নদী সম্পর্কে জানান, এই প্রকল্পের বিষয়ে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা ব্যাপক এবং দেশের মধ্যে বৈশ্বিক দক্ষিণের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সবশেষে, ইয়াও ওয়েন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম বিদেশ সফর শেষে গত ২৬ জুন বেইজিং থেকে দেশে ফেরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের পরিচালক ঝাং জিং এবং কাউন্সেলর সং ইয়াং উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক-সামরিক সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় সম্পর্কই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সংগীত এমন একটি অনন্য সেতুবন্ধ, যা দুই দেশের মানুষকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
রাজধানীর বিমানবাহিনী জাদুঘরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যান্ড এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ‘ট্রপিক লাইটনিং’ ব্যান্ডের যৌথ সংগীতানুষ্ঠানে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত ‘ফ্রিডম ২৫০ আমেরিকা সপ্তাহ’-এর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আমাদের ভালো বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে এই আয়োজনে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
তিনি যৌথ সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সামরিক সংগীতশিল্পীরা পৃথিবীর অন্যতম সেরা কূটনীতিক হয়ে ওঠে, কারণ তারা সংগীতের সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।
বিমানবাহিনী জাদুঘরকে এই আয়োজনের জন্য আদর্শ স্থান উল্লেখ করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ স্থানটি দুই দেশের বিমানবাহিনীর ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের প্রতীক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যান্ড ও মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ব্যান্ডের যৌথ পরিবেশনা দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় সম্পর্কেরই প্রতিফলন করে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই ব্যান্ডের সদস্যরা অনুষ্ঠানটির দিনেই প্রথমবারের মতো একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হলেও সংগীতের অভিন্ন ভাষার মাধ্যমে তারা তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এভাবে একসঙ্গে এসে তাদের যৌথ পরিবেশনা প্রমাণ করে, আমাদের সামরিক বাহিনী এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে কত দ্রুত দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, যা উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর।’
ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ ধরনের বিনিময় কর্মসূচি দেখিয়ে দেয় যে, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জনগণের সঙ্গে জনগণের গভীর সম্পর্কের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, এই মানবিক সম্পর্কই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার সব ক্ষেত্রের ভিত্তি এবং তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে চলেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘ফ্রিডম ২৫০ আমেরিকা সপ্তাহ’-এর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী সপ্তাহজুড়ে এবং বছরের বাকি সময়জুড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী নগরীর পৃথক চারটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৫ গ্রাম গাঁজা, ২৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ গ্রাম হেরোইন, ২৬টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১০ হাজার ১২০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ইমরান হোসেন ওরফে পলাশ (৩৫), ¯^পন (৩৫) ও নূর আমীন সোহাগ (১৮), তারা নগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর কামাল খাঁ এলাকার বাসিন্দা। মুস্তাকিন (৪৮), সে নগরীর কাটাখালি থানার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই থানার বাখরবাজ উত্তরপাড়া এলাকার সাইদুর ইসলাম (৩৫), নাহিদ ইসলাম (২৪), ও মারুফুর ওরফে মারুফ (২৫), সে দোমাদী এলাকা বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইমরানের বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় একটি ও মারুফের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেরুজালেমে নতুন স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য বুধবার ইসরা লের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি দুই দেশের ‘অটুট জোটের' প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জেরুজালেমকে রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর সাথেসাথেই তিনি তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনটি সরানোর নির্দেশ দেন।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সম্পর্কিত খবরটি জানায়। তবে একটি স্থায়ী স্থান নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত, জেরুজালেমের বিভিন্ন পৃথক স্থানে দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জেরুজালেমকে ইহুদিদের শাশ্বত, আদি এবং সর্বকালীন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেরুজালেমের মাটিতে আমাদের আমেরিকান পতাকা স্থায়ীভাবে উড়াব। এখানে একটি নতুন স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এটি ইসরাইলে আমাদের সব কূটনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’
হাকাবি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি বলব, ঈশ্বর ৩ হাজার ৮০০ বছর আগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগে বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল। আমরা কেবল সেটি স্বীকার করতে এতদিন সময় নিয়েছি।’
জেরুজালেমের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যালেনবি কমপ্লেক্সে নতুন দূতাবাসটি নির্মাণ করা হবে। ট্রাম্পের ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতি থেকে ভিন্ন ছিল। ঐ নীতি অনুযায়ী, জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল।
জেরুজালেম হচ্ছে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একটি বিতর্কিত শহর। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর, ইসরাইল পুরো শহরকে তাদের অবিভক্ত রাজধানী ঘোষণা করে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই এই দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।
ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবি করে আসছে। এই পরস্পরবিরোধী দাবির উদ্ভবের কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিবে স্থাপন করেছে। তাদের অবস্থান হল, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী, শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারণ হওয়া উচিত।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের এই চুক্তি দুই দেশের ‘অটুট জোটকে’ আরও দৃঢ় করেছে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি জানান, ‘২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আজ স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরুর চুক্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেয়েছে।’
কিন্তু ইসরাইলের অধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ নির্ধারিত স্থানে দূতাবাস নির্মাণের বিষয়টি সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি ‘গভীর একটি ঐতিহাসিক অবিচারকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।’ সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ‘১৯৫০ সালের বৈষম্যমূলক অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের আওতায় ফিলিস্তিনি জমির মালিকদের কাছে ইসরাইল যে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তার ওপর অবস্থিত।’
বিবৃতিতে বলা হয়, মূল ফিলিস্তিনি মালিকদের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে তারা এর আগে আপত্তি জানিয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডানের নাগরিক। এই সংগঠনটি দাবি করেছে, এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি ইসরাইলের অবৈধ উচ্ছেদ এবং ভূমি দখলের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। একইসাথে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মূল ফিলিস্তিনি মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীদের মৌলিক সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।’
এই দূতাবাস চুক্তিটি এমন এক সময় হয়েছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসঙ্গে লড়াই করছে। এবং একই সাথে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে মতপার্থক্যের খবরও পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ