০৬:২৫ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটিতে রদবদল ঘটানো হয়েছে। ২১৭ সদস্যের কমিটি ছোট করে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল থাকলেও মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত কমিটিতে কিছু নেতার পদোন্নতি ঘটেছে, আবার কিছু নেতার পদাবনতি হয়েছে। আগের কমিটির কয়েকজন নেতা বাদ পড়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। ফলে এনসিপির এই নেত্রীর পদাবনতি ঘটেছে। তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পরিষদ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটিতে আরিফুল ইসলাম আদীবেরও পদাবনতি ঘটেছে। আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকলেও পুনর্গঠিত কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে দলের রাজনৈতিক পরিষদে তার অবস্থান আগের মতোই বহাল রয়েছে।
এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আগের কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ছিলেন নাহিদা সারোয়ার নিভা। নতুন কমিটিতে তাকে যুগ্ম সদস্য সচিব পদে রাখা হয়েছে।
এসব পদাবনতির সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি এনসিপি। তবে একটি সূত্র বলছে—নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পারফরমেন্স এবং কিছু পদ বিলুপ্ত হওয়ায় প্রভাবশালীদের শীর্ষস্থানে রাখতে এসব সমন্বয় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। কিন্তু এই পদ বিলুপ্ত করায় তাদের একোমোডেশনের স্বার্থে অন্যদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।
সামান্তা শারমিন রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন। তিনি পরিবারকে বেশি সময় দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার স্বামী অসুস্থ এবং তার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। এ কারণে সংগঠনকে কম সময় দিতে পারছেন।
আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত
গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আগে একদিন বলেছিলাম আমার পরিবারের একজন ভীষণ অসুস্থ। তিনি আমার প্রিয়তম স্বামী। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। ওনার চিকিৎসা চলমান আছে।’
স্বামীর অসুস্থতার কারণে মানসিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন সামান্তা। তিনি বলেন, একজন উদ্যমী, কর্মঠ ও তরুণ মানুষকে গত তিন মাস ধরে এভাবে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা অনেক যন্ত্রণার।
সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, সর্বজ্ঞানী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বিভিন্নভাবে বান্দাকে পাপমুক্ত করেন অথবা পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের মাফ করেন, হেদায়েত দান করেন। আল্লাহ আপনি ছাড়া আমরা শূন্য।’
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আরিফুল ইসলাম আদীব এনসিপির রাজনীতিতে এখন কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেন। তিনি গত নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে ভোট দিয়ে পরাজিত হন। এরপর তিনি ঢাকা উত্তরে এনসিপির মেয়র পদে প্রার্থী হন। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদ।
এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদিবের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি জানান, এক সহকর্মীর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন