শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৭ পি.এম
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
ডিএমপির তথ্য অনুসারে, আটককৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৫ জন, লালবাগ বিভাগে ৬০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৩ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৪ জন, মিরপুর বিভাগে ১৩৯ জন, গুলশান বিভাগে ৩৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।
অভিযানের সময় ১৩ হাজার ৪৪৮ পিস ইয়াবা, ৭৯ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা ও দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, একটি চাপাতি, একটি কাটার, এক ভরি এক আনা এক রত্তি স্বর্ণালংকার, তিনটি মোটরসাইকেল, ১১টি মোবাইল ফোন এবং ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা জব্দ করা হয়।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কিশোর গণিতপ্রতিভা আরিয়ান শুক্লা মাত্র ১৬ বছর বয়সেই নয়বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। অসাধারণ মানসিক গণনার দক্ষতার জন্য তিনি ‘ভারতের মানব ক্যালকুলেটর’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে গিনেসের নয়টি বিশ্বরেকর্ড এবং মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপের দুটি শিরোপা।
মহারাষ্ট্রের নাশিকের বাসিন্দা আরিয়ান ছয় বছর বয়সে গণিতচর্চা শুরু করেন। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে তার অসাধারণ গণনাশক্তি মা-বাবার নজরে আসে। এরপর তারা তাকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন।
২০১৮ সালে আট বছর বয়সে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত মেমোরিয়াড ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে সাতটি স্বর্ণসহ মোট ১০টি পদক জেতেন আরিয়ান। ওই আসরে তিনি শিশুদের দুটি বিশ্বরেকর্ডও গড়েন।
২০২২ সালের জুলাইয়ে জার্মানির পাদেরবর্নে অনুষ্ঠিত মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপে ১২ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন হন আরিয়ান। ২০২৪ সালে আবারো শিরোপা ধরে রাখেন। সেবার তিনি ৯০০-এর মধ্যে ৮১৯ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট অর্জন করে যোগ, গুণ, বর্গমূলসহ ছয়টি বিভাগে ট্রফি জেতেন।
গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়া শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতালির একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পাঁচ অঙ্কের ৫০টি সংখ্যা মাত্র ২৫ দশমিক ১৯ সেকেন্ডে মনে মনে যোগ করে প্রথম রেকর্ড গড়েন তিনি। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর দুবাইয়ে এক দিনেই ছয়টি বিশ্বরেকর্ড করেন। এর মধ্যে ছিল দ্রুততম সময়ে বড় সংখ্যার যোগ, গুণ ও ভাগের হিসাব।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ইতালিতে আরও দুটি রেকর্ড গড়েন আরিয়ান। ১০টি আট অঙ্কের সংখ্যার বর্গমূল নির্ণয় করেন ৭১ দশমিক ২২ সেকেন্ডে। পাশাপাশি ১০ অঙ্কের সংখ্যাকে পাঁচ অঙ্কের সংখ্যা দিয়ে ১০টি ভাগ করতে সময় নেন মাত্র ২৮ দশমিক ৮১ সেকেন্ড।
আন্তর্জাতিক সাফল্যের পাশাপাশি আরিয়ান পড়াশোনাতেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। নাশিকের দিল্লি পাবলিক স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন তিনি। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি নিয়েও তার আগ্রহ রয়েছে।
ছেলের সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বাবা নিতিন শুক্লা জানিয়েছেন, তারা কখনোই আরিয়ানের ওপর ফলাফলের চাপ তৈরি করেননি। বরং তার আগ্রহ ও নিয়মিত অনুশীলনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সন্তানের ওপর নিজেদের স্বপ্ন চাপিয়ে না দিয়ে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।
এখন শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই নয়, নতুন প্রজন্মকে গণিত শেখাতেও কাজ করছে আরিয়ান। গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক গণনায় উৎসাহিত করছেন তিনি। ২০২৫ সালে সংস্থাটির গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেশন লিগের তৃতীয় আসরেও চ্যাম্পিয়ন হন।
আরিয়ানের মতে, অনুশীলনের মাধ্যমে গণিতের ভয় কাটানো সম্ভব। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে, নিয়মিত চর্চা, একাগ্রতা ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে কিশোর বয়সেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা যায়। প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও মানুষের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ যে গুরুত্বপূর্ণ, আরিয়ানের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান সফরের সময় খাবার খাওয়ার নিয়ম এবং ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা জানিয়েছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কোন হাতে ছুরি এবং কোন হাতে কাঁটা চামচ ব্যবহার করতে হয়, সে সম্পর্কে তার পূর্বে তেমন ধারণা ছিল না।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
মো. তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরের অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত ভালো। সফরসঙ্গী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ফেরার পথে বিমানে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিলেও তা সুন্দরভাবে সমাধান করে দেশে ফিরে আসার কথা জানান তিনি।
জাপানের আবহাওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন আমজনতার দলের এই নেতা। তিনি বলেন, জাপানে শীতকাল ছিল। দেশে ফিরে তার কাছে আবহাওয়া অনেক গরম মনে হচ্ছে।
সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, খাবার খাওয়ার নিয়ম এবং ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের বিষয়ে তার পূর্বে তেমন ধারণা ছিল না। কোন হাতে ছুরি এবং কোন হাতে কাঁটা চামচ নিতে হয়, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। সাধারণ বুদ্ধি থেকে মনে হয়েছিল, কাঁটা চামচ দিয়ে খাবার খেতে হবে, তাই সেটি ডান হাতে নেওয়া উচিত। সেই চিন্তা থেকেই তিনি ডান হাতে কাঁটা চামচ নিয়েছিলেন।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এবং বিভিন্ন পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা এই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সফরের আরও অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তিনি পরবর্তী সময়ে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। এই মজুরি দুই ধাপে বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল করা হবে। পরবর্তী বছর একই তারিখ থেকে এটি বেড়ে ৬ হাজার রিয়াল হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে আরব নিউজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের (এইচআরডিএফ) এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো দেশটির নাগরিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে সৌদি নারী ও পুরুষের নিয়োগ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
এ পরিবর্তন মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ‘নিতাকাত’ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিতাকাত কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিবিন্যাস সৌদি নাগরিকদের নিয়োগের হার বিবেচনায় করা হয়।
মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল জানায়, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম সহায়তাপ্রাপ্ত মজুরি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ২০২৭ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনকারীদের জন্য এই পরিবর্তন ২০২৮ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে কার্যকর হবে।
কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সৌদি কর্মীদের মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদান করবে মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। তবে, এই সহায়তার পরিমাণ মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত বিধি ও শর্ত অনুযায়ী এই অর্থ প্রদান করা হবে।
তহবিলের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি নাগরিকদের নিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও কার্যকর হবে।
কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য ও যোগ্যতার শর্ত জানার জন্য সুবিধাভোগীদের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের সরকারি ওয়েবসাইট পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক যুবক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। বেআইনিভাবে শুরু হওয়া মদের ব্যবসার ফলে ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনা ভারতের মধ্যপ্রদেশে ঘটেছে। যুবকের বাড়ি রাজ্যের দেওয়াস জেলায় অবস্থিত। মদপানে ১৩ জনের মৃত্যুর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, অভিযুক্তদের তৈরি মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য তদন্তকারীরা অপেক্ষা করছেন।
পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ইন্দোরের বাসিন্দা। তিনি সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে একাধিকবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের সন্ধান শুরু করেন।
তদন্তকারীদের মতে, অজয় ইন্দোরের রাইজিং ব্রাদার্স নামে একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেখান থেকে একটি রাসায়নিক সংগ্রহ করেন। পুলিশ অভিযোগ করছে যে, ওই রাসায়নিক ব্যবহার করে বেআইনিভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন অজয় ও তার সহযোগীরা।
পুলিশের দাবি, ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর পুরনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তরল ভরে বিক্রি শুরু হয়। এমনকি আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
ক্রেতাদের জন্য আসল ও নকল মদের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। রাসায়নিক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমন কাসলিওয়াল নামে ইন্দোরের আরেক বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
সেখানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন মদের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ