১০:৪৬ পি.এম
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকরা প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পর এলাকাটিতে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ এবং প্রশিকা মোড় অবরোধ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এর ফলে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ধাপে ধাপে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। তবে যাওয়ার পথে শাহ আলী এলাকার হিমালয় গার্মেন্টস, বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্স ও মল্লিক টাওয়ার এবং পল্লবী থানার কালশী রোডের স্ট্যান্ডার্ড ২২ তলা গার্মেন্টসে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে নিষিদ্ধ মশাল মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকাল ৩টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর থেকে শ্রমিকরা চলে যাওয়ার সময় মিরপুর-১ নম্বর হয়ে যাওয়ার পথে তৌফিক নামে এক শ্রমিক আহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১০ থেকে আরো শ্রমিক এসে ওই গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালান।
অন্যদিকে, পোশাকশ্রমিকদের আরেকটি দল সড়ক ছেড়ে যাওয়ার সময় বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত মল্লিক টাওয়ারে ভাঙচুর করে। এছাড়া আন্দোলনে যোগ না দেওয়ার কারণে পল্লবী থানার কালশী এলাকার স্ট্যান্ডার্ড ২২ তলা গার্মেন্টসেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, আজ মিরপুরের কয়েকটি স্থানে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। আশপাশের কারখানা থেকে কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে জানায়, পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ এবং প্রশিকা মোড় এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী আফিয়া আক্তার ছুরিকাঘাতে খুন, ছেলে গ্রেপ্তার
ডিএমপি মিরপুর জোনের এডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন। তবে যাওয়ার সময় কয়েকটি গার্মেন্টস ও কারখানায় ভাঙচুর করেছেন তারা। কেন এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন