প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের কিশোর গণিতপ্রতিভা আরিয়ান শুক্লা মাত্র ১৬ বছর বয়সেই নয়বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। অসাধারণ মানসিক গণনার দক্ষতার জন্য তিনি ‘ভারতের মানব ক্যালকুলেটর’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে গিনেসের নয়টি বিশ্বরেকর্ড এবং মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপের দুটি শিরোপা।
মহারাষ্ট্রের নাশিকের বাসিন্দা আরিয়ান ছয় বছর বয়সে গণিতচর্চা শুরু করেন। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে তার অসাধারণ গণনাশক্তি মা-বাবার নজরে আসে। এরপর তারা তাকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন।
২০১৮ সালে আট বছর বয়সে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত মেমোরিয়াড ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে সাতটি স্বর্ণসহ মোট ১০টি পদক জেতেন আরিয়ান। ওই আসরে তিনি শিশুদের দুটি বিশ্বরেকর্ডও গড়েন।
২০২২ সালের জুলাইয়ে জার্মানির পাদেরবর্নে অনুষ্ঠিত মেন্টাল ক্যালকুলেশন বিশ্বকাপে ১২ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন হন আরিয়ান। ২০২৪ সালে আবারো শিরোপা ধরে রাখেন। সেবার তিনি ৯০০-এর মধ্যে ৮১৯ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট অর্জন করে যোগ, গুণ, বর্গমূলসহ ছয়টি বিভাগে ট্রফি জেতেন।
গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়া শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতালির একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পাঁচ অঙ্কের ৫০টি সংখ্যা মাত্র ২৫ দশমিক ১৯ সেকেন্ডে মনে মনে যোগ করে প্রথম রেকর্ড গড়েন তিনি। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর দুবাইয়ে এক দিনেই ছয়টি বিশ্বরেকর্ড করেন। এর মধ্যে ছিল দ্রুততম সময়ে বড় সংখ্যার যোগ, গুণ ও ভাগের হিসাব।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ইতালিতে আরও দুটি রেকর্ড গড়েন আরিয়ান। ১০টি আট অঙ্কের সংখ্যার বর্গমূল নির্ণয় করেন ৭১ দশমিক ২২ সেকেন্ডে। পাশাপাশি ১০ অঙ্কের সংখ্যাকে পাঁচ অঙ্কের সংখ্যা দিয়ে ১০টি ভাগ করতে সময় নেন মাত্র ২৮ দশমিক ৮১ সেকেন্ড।
আন্তর্জাতিক সাফল্যের পাশাপাশি আরিয়ান পড়াশোনাতেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। নাশিকের দিল্লি পাবলিক স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন তিনি। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি নিয়েও তার আগ্রহ রয়েছে।
ছেলের সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বাবা নিতিন শুক্লা জানিয়েছেন, তারা কখনোই আরিয়ানের ওপর ফলাফলের চাপ তৈরি করেননি। বরং তার আগ্রহ ও নিয়মিত অনুশীলনকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সন্তানের ওপর নিজেদের স্বপ্ন চাপিয়ে না দিয়ে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।
এখন শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই নয়, নতুন প্রজন্মকে গণিত শেখাতেও কাজ করছে আরিয়ান। গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক গণনায় উৎসাহিত করছেন তিনি। ২০২৫ সালে সংস্থাটির গ্লোবাল মেন্টাল ক্যালকুলেশন লিগের তৃতীয় আসরেও চ্যাম্পিয়ন হন।
আরিয়ানের মতে, অনুশীলনের মাধ্যমে গণিতের ভয় কাটানো সম্ভব। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে, নিয়মিত চর্চা, একাগ্রতা ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে কিশোর বয়সেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা যায়। প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও মানুষের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ যে গুরুত্বপূর্ণ, আরিয়ানের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন