ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সাত দফা মেনে নিন, নইলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান


সাত দফা মেনে নিন, নইলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান

সরকারের প্রতি সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।" তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এর ফলস্বরূপ সরকারকে মূল্য দিতে হবে। জনগণ রাজপথে নেমে দাবি আদায় করবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর যশোরের মুড়লীর মোড়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যশোর জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য সংসদে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারসহ সাত দফা দাবি সংসদে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সাত দফা দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: সরকার পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম

সরকারি বিভিন্ন কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "সরকারি সুবিধা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ নয়।" তিনি আরও বলেন, "এসব সুবিধা জনগণের অধিকার।" অথচ প্রকৃত উপকারভোগীরা অনেক ক্ষেত্রে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, "গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে মতামত দিয়েছে, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "জাতির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।" জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।" তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আবারও ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নেমেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলনের পেছনে ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্য নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নই তাদের মূল লক্ষ্য। সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদবিরোধীদের ঐক্য অটুট বলছেন নেতারা

পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান ও মুফতি শরাফত হোসেন আরও বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মোক্তার আলী, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুলছড়িতে যমুনা নদীর বুক চিরে চলা নৌকার ওপর জন্ম নিয়েছে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান নাম রাখা হয়েছে ‘নদী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহীন আলম, স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


ফুলছড়িতে যমুনা নদীর বুক চিরে চলা নৌকার ওপর জন্ম নিয়েছে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান নাম রাখা হয়েছে ‘নদী’

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাঝনদীতে নৌকার বুকেই জন্ম নিয়েছে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। শনিবার বিকেলে ফুলছড়ি ইউনিয়ন থেকে ফুলছড়ি ঘাটে যাওয়ার পথে যমুনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ (জিইউকে)-এর কর্মীদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা ও তৎপরতায় মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।
জিইউকের মাঠকর্মীদের থেকে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ফুলছড়ি চরাঞ্চলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শেষে নৌকায় ফিরছিলেন জিইউকের একদল কর্মী। এ সময় প্রসববেদনায় কাতর এক নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর স্বজনরা কর্মীদের কাছে নৌকায় তুলে নেওয়ার আকুল অনুরোধ জানান। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নৌকায় তুলে নেন।
এর আগে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে স্বজনরা প্রথমে কিছুটা পথ হেঁটে এবং পরে মাচায় করে সতর্কতার সঙ্গে ওই নারীকে নৌকাঘাট পর্যন্ত নিয়ে আসেন। তবে নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর প্রসববেদনা তীব্র হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে নৌকায় থাকা নারী কর্মী ও স্বজনরা কাপড় দিয়ে চারপাশ আড়াল করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রসবের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন।
একদিকে নৌকা দ্রুতগতিতে ঘাটের দিকে ছুটছিল, অন্যদিকে মা ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সবার মাঝে ছিল চরম উৎকণ্ঠা। অবশেষে প্রায় ৪০ মিনিটের নৌযাত্রার মাঝপথে নদীর বুকেই জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যাসন্তানটি। মুহূর্তেই উপস্থিত সবার উৎকণ্ঠা কেটে গিয়ে স্বস্তি ও আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। আর এই সাহসী ও ভিন্নধর্মী পরিবেশে জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম রাখা হয় ‘নদী’।
গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকন উদ দৌলা জানান, চরাঞ্চলের প্রতিকূল যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যেও মানবিক দায়িত্ববোধ ও সবার আন্তরিক সহযোগিতায় একটি নতুন প্রাণের নিরাপদ আগমন সম্ভব হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় মা ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল, র‍্যালি-আলোচনায় মুখরিত শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল, র‍্যালি-আলোচনায় মুখরিত শহর

নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, বর্ণিল র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মোল্যার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেয়ামত হোসেন পারভেজ ও শাহরিয়ার হাবিবের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইস্রাফিল মোল্যা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান আরবসহ অন্য নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির বলেন, যুবদলের রয়েছে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সংগঠনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যুবদলকে আরও সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরাইলে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


সরাইলে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মর্তুজ আলীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধরন্তী চাকসার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নিলুফা বেগম (৪৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের চান্দিয়ারা গ্রামের মো. শহিদ মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী মর্তুজ আলী একই গ্রামের জবান আলী ও সাজেদা বেগমের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে নিজ বসতঘরে নিলুফা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মর্তুজ আলীর বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মর্তুজ আলীকে আটক করে সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। নিহতের মরদেহও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. হুমায়ুন মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির জামিয়া যেন পুলিশ ক্যাম্পের মতো পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


দিল্লির জামিয়া যেন পুলিশ ক্যাম্পের মতো পরিস্থিতি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ইতিহাস শতাব্দীরও বেশি পুরনো। এখানে বর্তমানে ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এটি যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

শনিবার সাউথ ফার্স্ট অনলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ঝালাই করে বন্ধ করে দিয়েছে।

লোহার পাত ও দেয়াল দিয়ে সেগুলো অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী এবং ক্যাম্পাসের বাইরে ১ হাজার থেকে ২ হাজার পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী ও আইটিবিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

তারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, যারা ভেতরে আছেন, তাদেরও বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

আশপাশের রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি নষ্ট করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুরো এলাকা যেন একটি পুলিশ ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। শনিবার ছিল এ আন্দোলনের ১৯তম দিন। গত ১৭ অক্টোবর ভোরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ মিলে ওই এলাকার সব আলো নিভিয়ে ফেলে। তারা অনশনরত শিক্ষার্থীদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং মাটিতে ফেলে মারধর করে। নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। কিছু শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারও করা হয়।

‘আলোচনার’ অজুহাতে চাপ সৃষ্টি করে ভোরবেলা দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

অন্য শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে একটি কূটকৌশল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যদিও কয়েকজন অনশন থেকে সরে এসেছেন, তবে এবিন বাসিল, রেহান খানসহ আরও অনেকে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন করে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

লাইব্রেরি, হোস্টেল, এমনকি শৌচাগারগুলোও এখন তালাবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিন ও মেসগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে বাইরে থেকে খাবার বা পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে কিংবা অনশনরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নিলে তাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে আসা এ গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা—বিশেষ করে ছাত্রীরা—গভীর রাতেও তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কী?

বর্তমান অনশন ও আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে নির্বাচিত সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেয়, তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন কেবল বিভাগীয় বিষয়ভিত্তিক সমিতি (ডিপার্টমেন্টাল সাবজেক্ট অ্যাসোসিয়েশন) বা শ্রেণি প্রতিনিধিদের কাছে জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউতে যেখানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন নির্বাচন নিষিদ্ধ থাকবে?

তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করা, অবিলম্বে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ছাত্র সংসদের জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা এবং তার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা সব সাময়িক বহিষ্কারাদেশ, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করাও তাদের দাবি। পাশাপাশি তারা হোস্টেলে সুপেয় পানির সরবরাহ ও শৌচাগার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লাইব্রেরি, ফি, ভর্তি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান চান।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২০ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী মুসলিম নেতারা উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে ‘জামিয়া মিলিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং আধুনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, যে প্রতিষ্ঠানের রয়েছে এমন গৌরবময় ইতিহাস, সেই প্রতিষ্ঠানটিই আজ শিক্ষার্থীদের অধিকার দমন করছে; তাদের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে। যেন এটি একটি ‘আটক কেন্দ্র’ (ডিটেনশন সেন্টার)। তাদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন সরকার যৌথভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%