বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪৫ পি.এম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এলডিসিতে উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়, বরং একটি টেকসই ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘উত্তরণের জন্য এই অতিরিক্ত সময় আমাদের বিভিন্ন কারণে প্রয়োজন। আমরা বিলম্ব চাই না; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য এই সময় প্রয়োজন।’
আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ প্রিপার্ডনেস ফর এলডিসি গ্রাজুয়েশব এন্ড রেশনাল ফর এক্সটেনশন অব দি প্রিপারেটরি প্রিয়ড’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ সেমিনারের আয়োজন করেছে।
মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র কাছে বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তুতিমূলক সময়ে বাংলাদেশ একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্নতা। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। সুতরাং, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস পরিচালিত গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যথেষ্ট অনুকূল নয়। অতএব, অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময় প্রয়োজন।
আমরা ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার সমন্বিত একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছি। যাতে ১৫তম দিনে কোনো প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা ও ওভারল্যাপ চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এভাবে ব্যবসা করার সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন্য কাজ চলছে।
সেমিনারে জানানো হয়, সরকারের গঠিত জাতীয় গ্র্যাজুয়েশন মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি এবং পাবলিক-প্রাইভেট টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি ও দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেয়াদ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন অংশীদারদের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কাঠামোগত ও আন্তর্জাতিকভাবে বিদ্যমান প্রধান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি সুষ্ঠু ও টেকসই এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকার ও প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির সময়টি কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত গতিশীল বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গতি যেন থেমে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুযোগ ও সম্ভাবনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (ইঅচও)-এর সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) গীতাঞ্জলি সিং, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’র সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, ফুটওয়্যার লেদারগুডস এন্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মহ্জুর, বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিবৃন্দ।
এছাড়া সুইডেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতরাও সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ টেকসই এলডসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, বেসরকারি খাত, থিংক ট্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)-এর নিকট এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর নিকট দাখিল করেছে। এখন ইকোসক বর্ধিত প্রস্তুতিকাল নিয়ে এই বিষয়ে বিবেচনা করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতি কার্যক্রম ও তা বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে এই প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনদের অবহিত করার লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি মাসের জুলাই মাসের ৪ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত, বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান।
এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বব্যাপী অন্তত ১০০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিদল।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এই অনুষ্ঠানকে ইরানি জাতি, অঞ্চলটির জনগণ এবং বিশ্বের মুসলমানদের জন্য ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘায়ি জানান, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিদল অংশ নেবেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা ও বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।
বাঘায়ি আরও জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী দিকনির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে ইতিমধ্যে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানগুলো কাভার করবেন।
যাতে এই ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায়।
রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যানুষ্ঠান হতে যাচ্ছে, যেখানে দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
সালেহি বলেন, খামেনির জানাজা শুধু একজন নেতাকে জাতির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবেলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধক্ষমতারও একটি প্রকাশ।
সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম, ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান এবং ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নাম উল্লেখ করার সময়- আমীর হামজা (৩৩), মো. বাদশা ইসলাম (২৫), মো. শাহ আলম (২০), আ. আউয়াল (১৯), মো. আসিফ (১৮), আশিক আহম্মেদ (১৯), মো. মাহিন হাসান (১৯), মো. সবুজ (২৯), মো. শামীম ওরফে সাগর (২৫), মো. রাজন মিয়া (৩০), মো. বাবু রিসাত (২৪), মো. ইসলাম (২১), মো. রাসেল মিয়া (২৯), মো. ইমন হোসেন শিহাব (১৯), মো. শাহিনুর রহমান (৫০), মো. লিটন (৫৫), মুক্তা বেগম (৫০), মো. লুৎফর মোল্লা, মো. শাকিল মাঝি ওরফে আকাশ (২১), জয়হানিফ ও ইয়াছিন (১৮), মো. শাহাদাত হোসেন (১৮), মোছা. তামান্না বেগম (৩২), মোছা. নুর নাহার (২৫), মো. শফিকুল ইসলাম (৩৬) সমূহ রয়েছে।
এছাড়া রয়েছেন- পারভেজ মোল্লা (৩৮), আবুল হোসেন (৩৫), মো. সৌরভ আহম্মেদ (৩৫), আমেনা বেগম (৪৫), মো. সুলায়মান (৩৫), নূর মোহাম্মদ সোহান (২২), মো. তুহিন তুফান (২৩), মো. রাকিবুল আলম জিহান (২০), মো. রফিকুল ইসলাম (২৪), মো. মারুফ (৩৩), মো. তানভীর তারেক (১৫), মো. তৈয়ব (১৬), মো. আমির হোসেন (২৫), মো. সজিবুর রহমান রিপন (২৯), মো. সজীব (২০), মো. সোয়েব (১৮), মো. ইয়াকুব (৪৭), মো. আলামিন হোসেন মৃদুল (২৯), মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খেলন (২৬), মো. নাসিম (২৬), মো. কাব্য খান (২২), মো. নাঈম ইসলাম (২৩), মো. গোলাম রাজি (১৪), মো. সুজন (১২), মো. শরীফ (১৯), মুশতাক নাদিম (৩০), মো. জাকির (৩৫), মো. ইমরান হোসেন (২৫), মো. রিয়াদ (২২), তানজীম হোসেন রায়হান (২১), মো. নুরুন্নবী (২১), মো. শফিক (২৩), মো. শাকিল (২৫), মো. লিমন হাওলাদার (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০), সাখাওয়াত হোসেন (৩৬), মো. আব্দুর রহিম (৫৩), মো. রুবেল (৩০), মো. মেহেদী হাসান শুভ (৩৩), মো. ইব্রাহিম হোসেন রাজ (২০), মো. রফিক মিয়া (২০), মো. লিটন, মো. মাহবুব (২০), মো. রওশন (২৫), মো. সুমন (৩০), মো. রমজান (২২), মো. মিরাজ (১৮), মো. রিমন (২৫), মো. নুরুল আমিন (২৫), মো. রনি (৩১), আব্দুল মালেক (৫০), চান মিয়া (৩৮), আবুল কালাম (৪৩), ইয়াছিন (১৮), মো. শফিকুল ইসলাম (৩০), মো. আলম ও মো. আমির হোসেন (২৫) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মির্জানগর কদমতলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকে পুলিশ মিম আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মিম আক্তার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচরণ নোয়াগাঁ গ্রামের বাবুল মিয়ার কন্যা। তাঁর বিয়ে হয়েছিল পাশের মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর (লক্ষ্মীপুর) গ্রামের মো. সিয়ামের সঙ্গে। পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, তাদের কোনো সন্তান নেই।
পুলিশ জানায়, মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বাটন মোবাইল ফোন। ওই ফোনটির সূত্র ধরে পরিবার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয়দের মতে, ভোরের দিকে আঞ্চলিক সড়কের ওপর একটি তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, তরুণীর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে আদাবর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নবোদয় হাউজিং থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলো– শোয়েব, আরমান ও নয়ন। নিহত আবুল বাসার বাদশা ছিলেন আদাবর থানা ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
ব্রাজিলের খেলা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিশি বৈঠক চলাকালে বিএনপির আদাবর থানা ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে মো. আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত সাদ্দাম এখন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ