বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মির্জানগর কদমতলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকে পুলিশ মিম আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মিম আক্তার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচরণ নোয়াগাঁ গ্রামের বাবুল মিয়ার কন্যা। তাঁর বিয়ে হয়েছিল পাশের মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর (লক্ষ্মীপুর) গ্রামের মো. সিয়ামের সঙ্গে। পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, তাদের কোনো সন্তান নেই।
পুলিশ জানায়, মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বাটন মোবাইল ফোন। ওই ফোনটির সূত্র ধরে পরিবার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয়দের মতে, ভোরের দিকে আঞ্চলিক সড়কের ওপর একটি তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, তরুণীর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে আদাবর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নবোদয় হাউজিং থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলো– শোয়েব, আরমান ও নয়ন। নিহত আবুল বাসার বাদশা ছিলেন আদাবর থানা ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
ব্রাজিলের খেলা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবোদয় বাজার এলাকায় সালিশি বৈঠক চলাকালে বিএনপির আদাবর থানা ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে মো. আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত সাদ্দাম এখন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যাত্রাবাড়ীতে গণমিছিল করেছে যাত্রাবাড়ী সচেতন নাগরিক ফোরাম। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চৌরাস্তা মোড়ে এসে শেষ হয়।
গণমিছিলপূর্ব আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধ হই। আসুন, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও নৈরাজ্যমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সবাই গণমিছিলে অংশগ্রহণ করি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা সমাজসেবা দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ব্যতিক্রমী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কালকিনি-সাহেবরামপুর রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী ভাঙ্গা স্থান স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কৃত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কালকিনির-সাহেবরামপুরের এই রাস্তাটি দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ ভোগ করতে হচ্ছিল। জনভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে নবগঠিত এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামার ও হাতুড়ি নিয়ে রাস্তাটির খানাখন্দ ইট দিয়ে ভরাট এবং মেরামতের কাজে নেমে পড়েছেন। তরুণদের এই পজিটিভ ও সামাজিক উদ্যোগকে স্থানীয় এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।
রাস্তা সংস্কার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন কালকিনি উপজেলা সমাজসেবা দলের নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক বাইজিদ সরদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হাওলাদার। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন সমাজকর্মী বিপ্লব ব্যাপারী, রাসেল শিকদার এবং সমাজসেবা দলের একঝাঁক উদ্যমী তরুণ।
কর্মসূচি চলাকালীন এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংগঠনের এক সদস্য বলেছেন, "আমরা কেবল নামসর্বস্ব কোনো সংগঠন হিসেবে থাকতে চাই না। কালকিনি উপজেলা সমাজসেবা দল সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে এবং আজ রাস্তা সংস্কারের মাধ্যমে আমাদের যে যাত্রা শুরু হলো, তা আগামীতে বিভিন্ন সামাজিক কাজের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে।"
রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় পথচারী বলেন, "নেতারা সাধারণত মুখে বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু এই তরুণরা সরাসরি কাজে নেমে রাস্তা ঠিক করে দিল। এদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।"
উপজেলা সমাজসেবা দলের এই ব্যতিক্রমী আত্মপ্রকাশ ভবিষ্যতে এলাকার অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির (সিএইউ) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশে সিএইউ হাব ফর কান্ট্রি অ্যান্ড রিজিয়ন স্টাডিজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টায় বাকৃবির উপাচার্যের কার্যালয়ে এই সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। পরে কৃষি অনুষদের ডিন কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সিএইউ হাব উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকবৃন্দ।
এই চুক্তির মাধ্যমে চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার এবং বাকৃবির কৃষি অনুষদ ও কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে একাডেমিক এবং গবেষণা সহযোগিতার জন্য নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো। সমঝোতা স্মারক এবং সিএইউ হাব প্রতিষ্ঠার স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের এবং কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, এ সমঝোতার আওতায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সেমিনার তথা সম্মেলনের আয়োজনসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি বাকৃবি থেকে চারজন শিক্ষার্থী চীনে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। নতুন উদ্বোধন হওয়া সিএইউ হাব এসব কার্যক্রমের সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম। এছাড়া চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার-এর অধ্যাপক ড. শিওলি জু ও অধ্যাপক ড. চুয়ানহং ঝাং এবং বাকৃবির অন্যান্য অনুষদের ডিনবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি রূপান্তরমুখী এবং সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়তে ভূমিকা রাখতে পারবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং মানুষের জীবিকার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, মানসম্মত গবেষণা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই সমঝোতা স্মারক সেই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ চুক্তির মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই উপকৃত হবে এবং নতুন প্রজন্ম আরও জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হলেও এই সহযোগিতা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ