ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?


মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?

বেশির ভাগ জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যদি রিপাবলিকানদের বিপক্ষে যায়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফল গ্রহণ করবেন কি না, এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল। এটি একটি মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। অন্য কোনো আধুনিক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে হয়তো এটি প্রশ্নই হত না। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।

মঙ্গলবার এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মেনে নেব, যদি সেগুলো সততার সঙ্গে হওয়া নির্বাচন হয়, হ্যাঁ।’ ট্রাম্পের অতীতের আচরণের কারণে তার এই শর্তযুক্ত উত্তর অনেকের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ, ট্রাম্প নিজেকে নির্বাচনের সততা যাচাইয়ের একমাত্র রেফারি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে তিনি নির্বাচনের ফলাফল নাও মেনে নিতে পারেন, তখন তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। রিপাবলিকান পার্টির নেতা হিসেবে তার পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে এসে ট্রাম্পের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কার্যপদ্ধতি তৈরি হয়েছে। তিনি যেকোনো নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই ভোটিং ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেন এবং ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। এরপর তিনি নিজের তৈরি করা অবিশ্বাসের আবর্তকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন এবং ভোট গণনার আগেই ইঙ্গিত দেন যে নির্বাচনটি সুষ্ঠু না-ও হতে পারে।

আরও পড়ুন: স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষ: দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানা যাচ্ছে

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে, এবারের পরিস্থিতি যেন বারবার ফিরে আসা একটি চেনা নাটকের মতো মনে হচ্ছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যখন তিনি হেরেছিলেন, তখন একাধিক রিপাবলিকান কর্মকর্তা, আদালত এবং এমনকি তার নিজস্ব বিচার বিভাগ কোনো অনিয়ম না পাওয়ার প্রমাণ দেওয়ার পরও তিনি মিথ্যাভাবে জালিয়াতির দাবি করেছিলেন।

নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি একটি হুমকিস্বরূপ প্রেক্ষাপটে এসেছে। তিনি টেক্সাস এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে এবং ভোটারদের নিবন্ধন ও আইডি-সংক্রান্ত একটি আইন পাস করার জন্য কংগ্রেসের ওপর ব্যর্থ চাপ প্রয়োগ করে এই বছরের বেশিরভাগ সময় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে রিপাবলিকানদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সমালোচকদের মতে, এই আইন পাস হলে লাখ লাখ নাগরিক ভোটাধিকার হারাতেন।

এছাড়া, সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন পরিচালনার কোনো ক্ষমতা না দিলেও, তিনি সম্প্রতি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আলাস্কার ইউএস সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান হেরে গেলে সেই ফলাফল প্রত্যয়ন আটকে দিতে মামলা করা হয়। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন যে, ড্যানিয়েল জে. সুলিভান নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারেন এবং তার এই প্রার্থিতা একটি ডেমোক্রেটিক চক্রান্ত। যদিও আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে দ্বিতীয় সুলিভান আইনগতভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

আরেকটি আগাম পদক্ষেপে, বিচার বিভাগ গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়াকে ভোটার তালিকা থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিকদের চিহ্নিত করার এবং তাদের ডাকযোগের ব্যালটগুলো আলাদা রাখার নির্দেশ দিয়েছে; পাশাপাশি সতর্ক করেছে যে যেসব কর্মকর্তা জেনেবুঝে অ-নাগরিকদের ভোট গণনা করবেন, তারা ফৌজদারি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারেন। একটি ফেডারেল আপিল আদালত বিচার বিভাগের সেই চালটি আটকে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: হুতি বিদ্রোহীদের এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ

আলাস্কায় ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী মেরি পেলটোলা নির্বাচনের আগেই বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপটি বাতিল করার জন্য একজন বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের এই চালচলন নির্বাচন-পরবর্তী একটি মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২০২০ সালের তুলনায় পরিস্থিতি ভিন্ন; সে সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু এবার বিচার বিভাগ তার বিরোধিতা করবে এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে।

আমেরিকান ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার দিন—৬ জানুয়ারি, ২০২১-এর ক্ষতগুলোর কারণে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাচনী চালচলন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছিল এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মারধর করেছিল। এর কয়েক মাস আগে থেকেই ট্রাম্প ঠিক মঙ্গলবারের মতোই একই ভাষা ব্যবহার করে সেই নির্বাচন নিয়ে তাদের আস্থা বিষাক্ত করে তুলছিলেন।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তার প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ’আমি আশা করি এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যদি এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়; আমি ১০০ ভাগ সাথে আছি। কিন্তু আমি যদি দেখি হাজার হাজার ব্যালট নিয়ে কারচুপি করা হচ্ছে, তবে আমি তা মেনে নিতে পারি না।’ চার বছর পর, ২০২৪ সালের সিএনএন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে যখন ডানা ব্যাশ ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কে জিতল তা বিবেচনা না করেই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘যদি এটি একটি সুষ্ঠু, আইনি এবং ভালো নির্বাচন হয়—অবশ্যই।’

২০২৪ সালের ফলাফলের বিরোধিতা ট্রাম্প করেননি। এর কারণ স্পষ্ট, তিনি জিতেছিলেন। চার বছর আগে তিনি হেরেছিলেন। কোনো ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের মানসিকতা এই প্রশ্ন তোলে যে—কেন তিনি, অন্য সব প্রেসিডেন্টের মধ্যে ব্যতিক্রম হয়ে, এই গণতান্ত্রিক বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না যে নির্বাচনে কখনো কখনো হারতেও হয়?

আরও পড়ুন: স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০

এর একটি উত্তর হলো, ট্রাম্প প্রচুর প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি ভোটারদের নেতা বাছাইয়ের নীতির চেয়ে ক্ষমতাকে বেশি পরোয়া করেন। আরেকটি উত্তর হলো, ট্রাম্প নিজের একটি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন জীবনের অন্যতম ‘সেরা বিজয়ী’ হিসেবে। এই ভঙ্গুর অহংবোধ নিজেকে ‘পরাজিত’ হিসেবে দেখার মানসিকতার সঙ্গে একেবারেই মেলে না—আর এটিই একটি কারণ যে তিনি এখনো বাইডেনের কাছে ২০২০ সালের পরাজয় স্বীকার করতে পারেন না।

২০২০ সালে আমেরিকার আইনি এবং সাংবিধানিক রক্ষাকবচগুলো দৃঢ় ছিল। কিন্তু ট্রাম্প এখন এমন উপদেষ্টাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত নন, যারা তার সবচেয়ে অগণতান্ত্রিক প্রবণতাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রস্তুত থাকবেন। তারপরও ডেমোক্র্যাট এবং উভয় দলের অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারা যারা নির্বাচন পরিচালনা করেন, তারা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ট্রাম্প সমর্থকদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটরা যদি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়, তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কম হতে পারে। যদি ফলাফল খুব হাড্ডাহাড্ডি হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের কারণে সিনেটের ভাগ্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝুলে থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সম্ভাব্য হাউস স্পিকার হাকিম জেফ্রিজ গত সপ্তাহে সিএনএন-কে বলেছিলেন, তিনি ধরে নিচ্ছেন রিপাবলিকানরা ’নভেম্বরের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া থেকে আটকাতে যেকোনো ধরনের শয়তানি পরিকল্পনা করার চেষ্টা করবে।’

প্রতিকূল নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ট্রাম্পের কাছে শক্তিশালী প্রণোদনা থাকতে পারে, কারণ ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউস, মন্ত্রিসভা এবং ট্রাম্প পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন তদন্তের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ৩০-এর ঘরে থাকা জনপ্রিয়তার হার নিয়ে মেয়াদের শেষে থাকা একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি মাত্রই একটি বড় জাতীয় নির্বাচনে হেরেছেন, তার কি তা সফল করার মতো রাজনৈতিক শক্তি থাকবে?

আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে

তা ছাড়া, ট্রাম্পের আত্মকেন্দ্রিক নির্বাচনী প্রচারণার ভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ঝুঁকিতে থাকা রিপাবলিকানদের নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। ব্যালটে যখন তার নিজের নাম থাকে না, তখন তিনি হয়তো বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দেন।

গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট অন্তত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসের সঙ্গে একটি তিক্ত সহাবস্থানের সময়কালের কথা চিন্তা করছেন বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘দেখুন, আমার একটি শক্তিশালী ভেটো ক্ষমতা আছে। আমি আশা করি তেমনটা হবে না, তবে যদি হয়, তবে তা এর আগে অনেক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।’

কিন্তু ট্রাম্প প্রায়শই তার হুমকিগুলো কার্যকর করেন। এবং নির্বাচন নিয়ে তার সাম্প্রতিক শর্তারোপ দেখায় যে তিনি এখনো মনে করেন যে নির্বাচনে তিনি হারবেন, তা অবশ্যই অন্যায্য হতে হবে।

আরও পড়ুন: স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৫০ জন নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আদালত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছেন।

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।

মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ওটিপি না দেওয়ার সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ওটিপি না দেওয়ার সতর্কতা

ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের ফোন করে টিকা বা ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অপরিচিত কারো সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. বাবুর ইসলাম চৌধুরী নাম ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন ফোন নম্বর, ইমো এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে, ওই নামে কেউ প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দূতাবাসের নাম উল্লেখ করে টিকা বা ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলে ফোন করছেন এবং প্রবাসীদের কাছে ওটিপি নম্বর চাইছেন। তবে, টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদান-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব যোগাযোগের সঙ্গে দূতাবাসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, জানিয়ে কর্তৃপক্ষ পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই না করে কারো কথায় বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান

দূতাবাস ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ফোনকল কিংবা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে অপরিচিত কারো কাছে পাসপোর্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর কিংবা ওটিপি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে পিন, পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য গোপন নিরাপত্তা তথ্য সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওটিপি সাধারণত কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, পরিচয় যাচাই কিংবা নির্দিষ্ট লেনদেন অনুমোদনের কাজে ব্যবহৃত হয়। এই কোড অন্যের হাতে গেলে সংশ্লিষ্ট সেবার ধরন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অপরিচিত কেউ জরুরি প্রয়োজনের কথা বললেও ওটিপি বা অন্য কোনো গোপন নিরাপত্তা তথ্য জানানো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে কেউ টিকা, ভিসা, পাসপোর্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিংবা অন্য কোনো সরকারি সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক ফোন নম্বর ব্লক করার পাশাপাশি প্রতারণার চেষ্টা-সংক্রান্ত ফোনকল, বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করে দূতাবাসকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ধরনের সন্দেহজনক যোগাযোগ বা প্রতারণামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানাতে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ ও কনস্যুলার সেবার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ দূতাবাসের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে প্রবাসীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মেসেজিং অ্যাপে পাওয়া কোনো তথ্য যাচাই না করে ব্যক্তিগত নথি পাঠানো বা আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের সতর্কবার্তায় প্রবাসীদের সচেতনতা ও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে তথ্য যাচাই করা, ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে দূতাবাসকে অবহিত করার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের মামলায় সাবেক এমপি আব্দুর রউফ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


দুদকের মামলায় সাবেক এমপি আব্দুর রউফ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে, দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ মামলাগুলো দায়ের করেন।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কুষ্টিয়া দুদকের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ জানান, নির্বাচনী হলফনামাসহ বিভিন্ন তথ্য মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যেন মৃত্যুফাঁদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যেন মৃত্যুফাঁদ

ফরিদপুর-রাজবাড়ী - দৌলতদিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে পরিচিত। ফরিদপুর শহর থেকে গোয়ালন্দ মোড় হয়ে রাজবাড়ী-দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক খণ্ডটি বর্তমানে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন ট্রাক ড্রাইভার মোহন মিয়া মন্তব্য করেন, মহাসড়কের কিছু অংশে রাস্তা ধেবে গিয়ে পুকুরের মতো হয়ে গেছে, কোথাও ৫-১০ ফিট সড়কের বিটুমিন এবং সুড়কি খোয়া বালুর কারণে অতিরিক্ত মাল বোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের বুক উপচে উঠছে।

কিছু স্থানে সড়কের অর্ধেকাংশ এক পাশে সরে গিয়ে সড়কের মাঝে খালের আকৃতি দেখা যাচ্ছে।

সরু ও জরাজীর্ণ রাস্তা, একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্স ছাড়া অদক্ষ চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা।

"নিরাপদ সড়ক চাই" ফরিদপুর অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, আমাদের হিসেব অনুযায়ী, গত দেড় বছরে এই ৪০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৭৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে ৫০ জনের। এই তথ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

রাজবাড়ী ও ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৫ বছরে এই রুটে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা এবং সার্বিক নিরাপত্তার চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ঘাটের দুরত্ব (৪০ কিমি) মহাসড়ক।

বিগত ৫ বছরের পরিসংখ্যান ও বাস্তব চিত্র

মোট আনুমানিক দুর্ঘটনা ৪৫০ টিরও বেশি

মোট প্রাণহানি (নিহত) সংখ্যা ১৮০ জন।

পঙ্গুত্ব বরণকারী (আহত/পঙ্গু) ৬৫০ জনেরও বেশি (যার মধ্যে চিরতরে পঙ্গু অন্তত দেড় শতাধিক)।

মোট বিপজ্জনক বাঁক (Black Spots) ১৮ থেকে ২০টি (গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক: ১৫টি)।

সড়কের প্রশস্ততা ও অবস্থাদ্বি-লেনের অত্যন্ত সরু সড়ক, দুপাশে খানাখন্দ ও বিপজ্জনক ঢাল। গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোর মধ্যে গোয়ালন্দ মোড়, জমিদার ব্রিজ এলাকা, খানখানাপুর বাজার, ব্রিজ, গোয়ালন্দ বাজার, উজানচর মোড়, দরবার শরীফ এলাকা, পাঁচুরিয়া লিংক সড়ক মোড়গুলো উল্লেখযোগ্য ও বিপদজনক।

এই বিষয়ে কথা হয় রাজাবড়ী ধনছি এলাকার মিনু মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়ক: বেহাল দশা, লক্কড় ঝক্কর গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এক জনপদ।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রুট হলো ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়ক। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহন, ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, বাস এবং অ্যাম্বুলেন্স এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি বর্তমানে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, খানাখন্দ, ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কর গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত থ্রি-হুইলার, নছিমন, করিমন, ভটভটি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে এক প্রকার ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন বিশেষ প্রতিবেদন তৈরির সময় দেখা গেছে,

৪০ কিলোমিটার মহাসড়কের বর্তমান বেহাল দশা ও মূল সমস্যাসমূহ

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় চালক-যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়কটির বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে। কারণগুলো উল্লেখ করা হলো,

খনাখন্দ ও জরাজীর্ণ রাস্তা। বড় বড় বাঁক, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে যায়, যার ফলে চালকরা রাস্তার সঠিক অবস্থা বুঝতে না পেরে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন।

অনিয়ন্ত্রিত ভটভটি, করিমন, নছিমন, ইজিবাইক ও নছিমন-করিমঞ্জির দৌরাত্ম্য বহুগুণে বেড়ে গেছে।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দুলকি চালে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, এবং থ্রি-হুইলার। দ্রুতগতির ভারী বাস বা ট্রাকের সঙ্গে এই কমগতির যানবাহনগুলোর সংঘর্ষই অধিকাংশ ছোট-বড় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

এই বিষয়ে, ফরিদপুরের ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রশান্ত কুমার বলেন,

ট্রাফিক আইনের শিথিলতা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ও ওভারটেকিং প্রবণতা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। নির্দিষ্ট লেন ব্যবস্থার অভাব এবং চালকদের বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার মানসিকতা মহাসড়কটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত।

লক্কড় ঝক্কর গাড়ি ও কালো ধোঁয়া: পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর নীরব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্ত পরিবেশের জন্য।

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়কের পরিবেশগত সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। রাস্তায় চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কর বাস, ট্রাক এবং লরি থেকে অবাধে নির্গত হচ্ছে ঘন কালো ধোঁয়া। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

বায়ু দূষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে চরমভাবে। এই সমস্ত পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং ক্ষতিকর কণা (Particulate Matter) স্থানীয় বাতাসকে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে তুলছে।

বায়ু দূষন ও পরিবেশ নিয়ে কথা বলছেন, ডাঃ মোঃ আবজাল হোসেন। তিনি বলেন, দিন দিন সড়কে যানবাহনে চলাচলের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মহাসড়কের দুই পাশের বাসিন্দা, পথচারী এবং যাত্রীরা এই বিষাক্ত ধোঁয়া গ্রহণ করছেন। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, এবং ফুসফুসের জটিল রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

দৃশ্যমানতার অভাব ও কম নয়। এ অভাব এখন দৃশ্যমান।

ফরিদপুর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক এই বিষয়ে বলেন, অনেক সময় লক্কড় ঝক্কর গাড়িগুলোর পেছনের লাল বাতি নষ্ট থাকে এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে পেছনের গাড়ির চালকরা সামনের রাস্তা দেখতে না পেয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

​ ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি

মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতি, ভাঙা রাস্তা আর ফিটনেসবিহীন গাড়ির ত্রিমুখী প্রভাবে প্রায়শই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

সামান্য বৃষ্টি বা কুয়াশায় এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে প্রায়ই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যেখানে মা-শিশুসহ পুরো পরিবার নিভে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটছে।

আহতরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার আগেই ভাঙা রাস্তার জ্যামে পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

​

এই বিষয়ে সচেতন সমাজের মুরব্বিরা বলছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি প্রতিকার ও করণীয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও কালো ধোঁয়া রোধে কড়া অভিযান। বিআরটিএ এবং হাইওয়ে পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে যেসব গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয় এবং ফিটনেস নেই, সেগুলোকে অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত বা মহাসড়ক থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

সার্ভিস লেন নির্মাণ: মূল মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহন (অটোরিকশা, নছিমন, করিমন) চলাচলের জন্য অবিলম্বে পৃথক ‘সার্ভিস লেন’ বা আলাদা রাস্তা তৈরি করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নিয়মিত সড়ক সংস্কার: খানাখন্দ দ্রুত মেরামত করে মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আরও বেশি তৎপর ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি: চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানোর মানসিকতা তৈরি করতে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও প্রচারণা চালাতে হবে।

​

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়কের এই রুগ্ন দশা ও পরিবেশদূষণ কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় এক অন্তরায়।

সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

ফরিদপুর - মাদারীপুর জেলার হাইওয়ের পুলিশ সুপার জনাব আহম্মেদ হমায়ুন বলেন,

এই বিষয়ে, ভবিষ্যতে বহু পদক্ষেপ হাতে নিয়ে সকল সমস্যা সমাধানে আন্তরিক বলে, ইনকিলাবকে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%