০৭:৪৮ এম
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেছেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পতিত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমদানি-নির্ভরতা, স্বজনপ্রীতি এবং পৃষ্ঠপোষকতা-ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণে বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সংকট মোকাবেলার জন্য সৌরবিদ্যুৎ বৃদ্ধির, গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার এবং ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
গতকাল রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি অডিটোরিয়ামে সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
অতীতের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, পতিত সরকার যেহেতু আমদানিনির্ভর একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছে, তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে স্বজনতোষী এবং পৃষ্ঠপোষকতাবাহী এক ধরনের জ্বালানি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে আমরা সংকট উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। তবে এখন আমরা টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
তিতুমীর জানান, সরকার দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে। এ জন্য বাজেটে রাখা ২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারের কাঠামোও তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, প্রতিটি গ্রাহককে কীভাবে উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা
সৌরবিদ্যুৎ বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকিও কমবে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, এক গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গেলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমানো সম্ভব হবে। সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে, গ্রামীণ জনগণ বিদ্যুতের ভোক্তা থেকে উৎপাদকে পরিণত হলে তাদের স্বাবলম্বিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
তিতুমীর আরও বলেন, একদিকে যখন ভর্তুকি কমবে, অন্যদিকে গ্রামীণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছালে, এর মানে হলো তাদের স্বাবলম্বী হওয়া এবং উৎপাদকে পরিণত হওয়া- এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন