বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৫৫ পি.এম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বসতঘরে অগ্নিসংযোগের একটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার কারণে পুরো ঘরটি পুড়ে সম্পূর্ণরূপে ছাই হয়ে গেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণরামপুর গ্রামে বাবুলের বসতঘরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল এবং তার বোন সুমির বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা তাদের একাধিকবার সতর্ক করলেও তারা মাদক ব্যবসা বন্ধ করেননি। এর ফলে ক্ষোভের জের ধরে বুধবার রাতে যুবকরা বাবুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পুরো বসতঘর বিনষ্ট হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কিছু বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) কামাল হোসেন জাহেদ জানিয়েছেন, বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন কৃষ্ণরামপুর গ্রামের কিছু যুবক রাস্তায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময়ে ডিবি পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে। পরে ওই যুবকেরা বাবুলের বাড়িতে যায়। সেখান গিয়ে তারা বাবুলের মাদক ব্যবসার জন্য এলাকায় পুলিশ আসার জন্য তাকে দুষতে শুরু করে। যুবকদের মাঝে আরও অভিযোগ ছিল যে, তারা বিভিন্ন সময় নাজেহাল হতে বাধ্য হচ্ছেন। এক পর্যায়ে সেই ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তারা বাবুলের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান জুয়েল জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাবুল ও তার বোন সুমি এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে কাজ করতেন। এই অভিযোগের ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী তাদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে বসে থাকার কথা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকা থেকে জুলাই আন্দোলনের শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। এর আগে ওয়াসিম আকরামের কবরে ফুল দেওয়ার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত সম্পন্ন করা হয়।
তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা এবং বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ঘটনার জন্য দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং এই বিচার কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। দ্রুত সময়ে বিচার কার্যকরের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পক্ষে তার ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট, তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি চান, যারা জুলাই আন্দোলনের সংক্রান্ত গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিচারও করা হোক। এর পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের জন্যও দোষীদের বিচার চেয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল কাগজে-কলমে বিচার শেষ নয়, বরং সেই বিচার কার্যকর করাও অত্যন্ত জরুরি। বিচার কার্যকর করার জন্য তারা যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছেন এবং জনগণের দাবির প্রতিফলন হিসেবেই এটি বাস্তবায়ন করতে চান।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশ থেকে ফিরে আসার হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমরা হাতে নিয়ে বসে আছি। বাংলাদেশে ফিরে এসে পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা পারলামে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি লজ্জাজনক প্রয়াস ছাড় nothing।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা সংগ্রাম করেছে এবং যাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের মতে কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা যদি বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসে, তাহলে রাজনীতি করতে তো দূরের কথা, তারা পা রাখলেই জনগণকে নিয়ে যথাসাধ্য বিচার কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, এই আন্দোলনে সহকর্মী এবং লাখো যুবক এখনও জীবিত রয়েছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে যে ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষুদ্র প্রয়াস। সেটিকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, আমরা তাদের ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছি। তারা বাংলাদেশে আসুক, আমরা দেখাব কীভাবে বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জানে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বোধগম্যভাবে সেটি আমরা দেখাব, ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় সংগঠন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ২০২৪ সালের এই দিনটিকে স্মরণ করে বলেন, ছয় জন শহিদ হয়েছিলেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মাইলফলক। সময়ের পরীক্ষা আবু সাঈদ, ওয়াসিমরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন - জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে ফেরার পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শেষ পরিণতি জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে ঘটেছিল। শহিদ ওয়াসিমসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগের কারণে সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ (এনডিসি), পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াসিম আক্রামের বাবা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জেলা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগান নিয়ে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজার উপত্যকায় ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
কাটজের দপ্তরের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাতে দুই মন্ত্রীর মধ্যে এক টেলিফোন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই আলোচনা চলাকালে, কাটজ ‘সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখার জন্য ইসরাইলের দৃঢ় অবস্থান’ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের কারণ হলো জিহাদি বাহিনীর হুমকি মোকাবেলা করে ইসরাইলের সীমান্ত এবং সীমান্তসংলগ্ন জনপদগুলোকে সুরক্ষা প্রদান।
জেরুজালেম থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে খবরটি জানানো হয়েছে।
কাটজ আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সীমান্তে আমাদের হয়ে কাজ করার জন্য কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করিনি।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া এবং লেবানন থেকে ইসরাইলি সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, সিরিয়ায় ইসরাইলের সেনা মোতায়েন দেশটিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প উক্তি করেন, ‘তারা আপনাদের সেখানে চায় না। আপনাদের সেনা অন্যত্র মোতায়েন করা উচিত।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর, ইসরাইল গোলান মালভূমিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে থাকা বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করে।
এরপর থেকে, ইসরাইল সিরিয়ার ভূখণ্ডে একাধিক অভিযান ও বিমান হামলা চালায়। তবে, দক্ষিণাঞ্চলে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা করেছে।
বর্তমানে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী মোতায়েন অবস্থায় রয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, তারা লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত নিরাপত্তা অঞ্চলে উপস্থিত রয়েছে।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে, মার্চ মাসে, হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর দুই দেশ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর, সংঘাত অবসানে আলোচনা চালাচ্ছে।
বুধবার রোমে দুই দেশের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হচ্ছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে, দক্ষিণে ইসরাইল ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে থাকা দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে ধাপে ধাপে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা।
গাজায় বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া, ইসরাইল এবং মিসরের সীমান্তসংলগ্ন পুরো বাইরের এলাকায় তাদের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র এক দিন পর মো. আব্দুল মালেক (২৫) নামের একজন মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মারা গেছেন তার মামা আহিদুল ইসলাম, যিনি মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
একই দিন ভাগ্নে ও মামার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরবেলা, উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া চৌপতি বাজারসংলগ্ন মুনাগাছা বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতর থেকে আব্দুল মালেকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আব্দুল মালেক মুনাগাছা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে ছিলেন। তিনি ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাবার এবং মায়ের দুজনই আগেই মারা গেছে। তিনি চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক দিন পরই মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) এশার নামাজের সময় আব্দুল মালেক মসজিদে আজান দেয় এবং মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে সবাই চলে গেলেও তিনি মসজিদেই থেকে যান। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে এক মুসল্লি মসজিদের ভেতরে আলোর উপস্থিতি দেখে জানালার কাছে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ রাত ৩টার দিকে ডিমলা থানা থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ভাগ্নের মরদেহ দেখে হাসপাতাল নেওয়া পথে আহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।
এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, আব্দুল মালেক ধর্মপ্রাণ ও ভদ্রস্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
নিহতের বড় ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের কারোর সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিয়ের মাত্র এক দিন পর এই মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে ভাগ্নের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ পরিচালনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে বাজারের চাহিদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ আনতে হচ্ছে, যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই কোনো একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতায় দক্ষ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট ও অন্যান্য সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এর সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন।
আইসিটির শিক্ষক সংকট নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানালেন, এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনর’ তৈরি করা হচ্ছে।
সিলেবাসের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে আছে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। অথচ আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাস করছি এবং এআই নিয়ে আলোচনা করছি। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করার জন্য ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূল ধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো-লার্নিং এবং মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করার কাজ 진행 হচ্ছে।
গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপস তানজিম ফেরদৌস এবং প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। বৈঠকে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম, শিখোর সিইও শাহির চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ