প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে বসে থাকার কথা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকা থেকে জুলাই আন্দোলনের শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। এর আগে ওয়াসিম আকরামের কবরে ফুল দেওয়ার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত সম্পন্ন করা হয়।
তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা এবং বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ঘটনার জন্য দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং এই বিচার কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। দ্রুত সময়ে বিচার কার্যকরের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পক্ষে তার ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট, তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি চান, যারা জুলাই আন্দোলনের সংক্রান্ত গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিচারও করা হোক। এর পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের জন্যও দোষীদের বিচার চেয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল কাগজে-কলমে বিচার শেষ নয়, বরং সেই বিচার কার্যকর করাও অত্যন্ত জরুরি। বিচার কার্যকর করার জন্য তারা যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছেন এবং জনগণের দাবির প্রতিফলন হিসেবেই এটি বাস্তবায়ন করতে চান।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশ থেকে ফিরে আসার হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমরা হাতে নিয়ে বসে আছি। বাংলাদেশে ফিরে এসে পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা পারলামে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি লজ্জাজনক প্রয়াস ছাড় nothing।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা সংগ্রাম করেছে এবং যাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের মতে কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা যদি বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসে, তাহলে রাজনীতি করতে তো দূরের কথা, তারা পা রাখলেই জনগণকে নিয়ে যথাসাধ্য বিচার কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, এই আন্দোলনে সহকর্মী এবং লাখো যুবক এখনও জীবিত রয়েছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে যে ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষুদ্র প্রয়াস। সেটিকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, আমরা তাদের ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছি। তারা বাংলাদেশে আসুক, আমরা দেখাব কীভাবে বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জানে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বোধগম্যভাবে সেটি আমরা দেখাব, ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় সংগঠন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ২০২৪ সালের এই দিনটিকে স্মরণ করে বলেন, ছয় জন শহিদ হয়েছিলেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মাইলফলক। সময়ের পরীক্ষা আবু সাঈদ, ওয়াসিমরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন - জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে ফেরার পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শেষ পরিণতি জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে ঘটেছিল। শহিদ ওয়াসিমসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগের কারণে সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ (এনডিসি), পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াসিম আক্রামের বাবা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জেলা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগান নিয়ে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন