বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৫৯ পি.এম
নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র এক দিন পর মো. আব্দুল মালেক (২৫) নামের একজন মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মারা গেছেন তার মামা আহিদুল ইসলাম, যিনি মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
একই দিন ভাগ্নে ও মামার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরবেলা, উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া চৌপতি বাজারসংলগ্ন মুনাগাছা বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতর থেকে আব্দুল মালেকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আব্দুল মালেক মুনাগাছা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে ছিলেন। তিনি ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাবার এবং মায়ের দুজনই আগেই মারা গেছে। তিনি চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক দিন পরই মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) এশার নামাজের সময় আব্দুল মালেক মসজিদে আজান দেয় এবং মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে সবাই চলে গেলেও তিনি মসজিদেই থেকে যান। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে এক মুসল্লি মসজিদের ভেতরে আলোর উপস্থিতি দেখে জানালার কাছে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ রাত ৩টার দিকে ডিমলা থানা থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ভাগ্নের মরদেহ দেখে হাসপাতাল নেওয়া পথে আহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।
এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, আব্দুল মালেক ধর্মপ্রাণ ও ভদ্রস্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
নিহতের বড় ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের কারোর সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিয়ের মাত্র এক দিন পর এই মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে ভাগ্নের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ পরিচালনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে বাজারের চাহিদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ আনতে হচ্ছে, যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই কোনো একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতায় দক্ষ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট ও অন্যান্য সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এর সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন।
আইসিটির শিক্ষক সংকট নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানালেন, এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনর’ তৈরি করা হচ্ছে।
সিলেবাসের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে আছে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। অথচ আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাস করছি এবং এআই নিয়ে আলোচনা করছি। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করার জন্য ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূল ধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো-লার্নিং এবং মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করার কাজ 진행 হচ্ছে।
গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপস তানজিম ফেরদৌস এবং প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। বৈঠকে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম, শিখোর সিইও শাহির চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ ও টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াল্টার স্যামুয়েল নেপথ্যে থেকে দলটির সেট-পিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যিনি রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার জন্য ‘দ্য ওয়াল’ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনিই এখন লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি ছিল ওয়াল্টার স্যামুয়েলের নিখুঁত পরিকল্পনার ফলস্বরূপ। ম্যাচ শুরুর আগে মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে প্রতিপক্ষের নিয়ার-পোস্টে আক্রমণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্যামুয়েল। অধিনায়ক লিওনেল মেসি কর্নার থেকে ঠিক স্যামুয়েলের নির্দেশিত স্থানে নিখুঁত ক্রস বাড়ান। ম্যাক অ্যালিস্টার সেখানকার অবস্থান নিয়ে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। গোলটি হওয়ার পরপরই প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে স্যামুয়েলকে জড়িয়ে ধরে এই দুর্দান্ত কৌশলের জন্য উদযাপন করেন।
স্যামুয়েলের এই সেট-পিস চিন্তা মূলত তার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের এক সোনালী স্মৃতির প্রতিফলন। ২০০৯/১০ মৌসুমে জোসে মরিনহোর ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডায়নামো কিভের বিপক্ষে ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার থেকে স্যামুয়েল ঠিক একইভাবে নিয়ার-পোস্টে হেড করে একটি সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন। ১৭ বছর পরে আর্জেন্টিনা দলের কোচ হিসেবে তিনি নিজের সেই চতুর মুভমেন্ট বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মাঝে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গড়ে ১.৭৯ মিটার উচ্চতা নিয়ে আর্জেন্টিনা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম খাটো দল হওয়া সত্ত্বেও তারা অন্যতম সেরা এরিয়াল থ্রেটে পরিণত হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে স্যামুয়েলের জাদুকরী প্রশিক্ষণ। স্যামুয়েলের জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা শারীরিক শক্তিতে অনগ্রসর হলেও নিখুঁত মনঃসংযোগ, আগ্রাসন, সঠিক যোগাযোগ এবং গোলরক্ষকের দক্ষতার মাধ্যমে সেট-পিসে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই সেট-পিস থেকে ৫টি গোল করেছে। যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ রেকর্ড।
খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ট্রফি ধরে রাখার তাড়না তৈরিতে তার ড্রেসিংরুমের বক্তব্যও বেশ প্রভাব ফেলে। আর্জেন্টিনা দলের এই ‘নীরব কারিগর’ স্পটলাইটের আড়ালে থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি বড় মুহূর্তের ভিত গড়ে দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে।
বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আরব আমিরাতে (ইউএই) একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে হাদি হত্যা মামলার আসামিরাও।
মন্ত্রী বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে আটক আসামিদেরও দ্রুত ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। যদিও স্থানীয় আদালতে বেআইনি অনুপ্রবেশের মামলার কারণে ভারত কিছুটা সময় নিয়েছে, তবুও চুক্তি অনুযায়ী মামলার চলমান অবস্থায়ও আসামিদের প্রত্যর্পণ সম্ভব।
জুলাই-আগস্টে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার পতনের প্রাক্কালে হাসপাতাল থেকে বহু নথিপত্র গায়েব হয়ে যায়, চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি হয় এবং লাশ গুম করা হয়, যার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী শহীদদের সংখ্যা প্রায় ১৪০০, কিন্তু সরকারের ধারণা এই সংখ্যা ২০০০-এর অধিক হতে পারে। সে কারণে বর্তমানে ডিএনএ টেস্ট ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে, যা অনুসারে নথিবদ্ধ শহীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি শহীদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আহতদের তিন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে চিকিৎসা সহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়ে ভাবনা রেখে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৬ জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা শহিদদের আদর্শ, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো. রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আবদুল্লাহ আল আমিন, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা, আহত জুলাইযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ