প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র এক দিন পর মো. আব্দুল মালেক (২৫) নামের একজন মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মারা গেছেন তার মামা আহিদুল ইসলাম, যিনি মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
একই দিন ভাগ্নে ও মামার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরবেলা, উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া চৌপতি বাজারসংলগ্ন মুনাগাছা বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতর থেকে আব্দুল মালেকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আব্দুল মালেক মুনাগাছা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে ছিলেন। তিনি ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাবার এবং মায়ের দুজনই আগেই মারা গেছে। তিনি চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক দিন পরই মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) এশার নামাজের সময় আব্দুল মালেক মসজিদে আজান দেয় এবং মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে সবাই চলে গেলেও তিনি মসজিদেই থেকে যান। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে এক মুসল্লি মসজিদের ভেতরে আলোর উপস্থিতি দেখে জানালার কাছে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ রাত ৩টার দিকে ডিমলা থানা থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ভাগ্নের মরদেহ দেখে হাসপাতাল নেওয়া পথে আহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।
এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, আব্দুল মালেক ধর্মপ্রাণ ও ভদ্রস্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
নিহতের বড় ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের কারোর সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। মসজিদের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিয়ের মাত্র এক দিন পর এই মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে ভাগ্নের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন