বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:০৪ পি.এম
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ পরিচালনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে বাজারের চাহিদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ আনতে হচ্ছে, যেন প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই কোনো একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতায় দক্ষ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট ও অন্যান্য সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এর সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন।
আইসিটির শিক্ষক সংকট নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানালেন, এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনর’ তৈরি করা হচ্ছে।
সিলেবাসের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে আছে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। অথচ আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাস করছি এবং এআই নিয়ে আলোচনা করছি। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করার জন্য ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূল ধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো-লার্নিং এবং মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করার কাজ 진행 হচ্ছে।
গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপস তানজিম ফেরদৌস এবং প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। বৈঠকে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম, শিখোর সিইও শাহির চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সহকারী কোচ ও টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াল্টার স্যামুয়েল নেপথ্যে থেকে দলটির সেট-পিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যিনি রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার জন্য ‘দ্য ওয়াল’ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনিই এখন লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি ছিল ওয়াল্টার স্যামুয়েলের নিখুঁত পরিকল্পনার ফলস্বরূপ। ম্যাচ শুরুর আগে মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে প্রতিপক্ষের নিয়ার-পোস্টে আক্রমণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্যামুয়েল। অধিনায়ক লিওনেল মেসি কর্নার থেকে ঠিক স্যামুয়েলের নির্দেশিত স্থানে নিখুঁত ক্রস বাড়ান। ম্যাক অ্যালিস্টার সেখানকার অবস্থান নিয়ে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। গোলটি হওয়ার পরপরই প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে স্যামুয়েলকে জড়িয়ে ধরে এই দুর্দান্ত কৌশলের জন্য উদযাপন করেন।
স্যামুয়েলের এই সেট-পিস চিন্তা মূলত তার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের এক সোনালী স্মৃতির প্রতিফলন। ২০০৯/১০ মৌসুমে জোসে মরিনহোর ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডায়নামো কিভের বিপক্ষে ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার থেকে স্যামুয়েল ঠিক একইভাবে নিয়ার-পোস্টে হেড করে একটি সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন। ১৭ বছর পরে আর্জেন্টিনা দলের কোচ হিসেবে তিনি নিজের সেই চতুর মুভমেন্ট বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মাঝে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গড়ে ১.৭৯ মিটার উচ্চতা নিয়ে আর্জেন্টিনা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম খাটো দল হওয়া সত্ত্বেও তারা অন্যতম সেরা এরিয়াল থ্রেটে পরিণত হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে স্যামুয়েলের জাদুকরী প্রশিক্ষণ। স্যামুয়েলের জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা শারীরিক শক্তিতে অনগ্রসর হলেও নিখুঁত মনঃসংযোগ, আগ্রাসন, সঠিক যোগাযোগ এবং গোলরক্ষকের দক্ষতার মাধ্যমে সেট-পিসে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই সেট-পিস থেকে ৫টি গোল করেছে। যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো একক বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ রেকর্ড।
খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে এবং ট্রফি ধরে রাখার তাড়না তৈরিতে তার ড্রেসিংরুমের বক্তব্যও বেশ প্রভাব ফেলে। আর্জেন্টিনা দলের এই ‘নীরব কারিগর’ স্পটলাইটের আড়ালে থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি বড় মুহূর্তের ভিত গড়ে দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে।
বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আরব আমিরাতে (ইউএই) একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে হাদি হত্যা মামলার আসামিরাও।
মন্ত্রী বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে আটক আসামিদেরও দ্রুত ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। যদিও স্থানীয় আদালতে বেআইনি অনুপ্রবেশের মামলার কারণে ভারত কিছুটা সময় নিয়েছে, তবুও চুক্তি অনুযায়ী মামলার চলমান অবস্থায়ও আসামিদের প্রত্যর্পণ সম্ভব।
জুলাই-আগস্টে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার পতনের প্রাক্কালে হাসপাতাল থেকে বহু নথিপত্র গায়েব হয়ে যায়, চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি হয় এবং লাশ গুম করা হয়, যার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী শহীদদের সংখ্যা প্রায় ১৪০০, কিন্তু সরকারের ধারণা এই সংখ্যা ২০০০-এর অধিক হতে পারে। সে কারণে বর্তমানে ডিএনএ টেস্ট ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে, যা অনুসারে নথিবদ্ধ শহীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি শহীদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আহতদের তিন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে চিকিৎসা সহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়ে ভাবনা রেখে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৬ জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা শহিদদের আদর্শ, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো. রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আবদুল্লাহ আল আমিন, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা, আহত জুলাইযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার বন্যা এবং নদীভাঙন প্রাবলিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।
সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের ফলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শত শত বসতঘরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং টেকসই উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ এবং জরুরি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ। জনগণকে উন্নয়নের জন্য কিছু চাইতে হবে না। সরকারের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
দিনব্যাপী সফরে, প্রতিমন্ত্রী বাঘাইছড়ি ও লংগদুর বিভিন্ন বন্যাকবলিত এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলার বারোবিন্দু ঘাট এলাকা পরিদর্শনের সময়, প্রতিমন্ত্রী ভেঙে যাওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেন। তিনি এলাকায় নতুন কালভার্ট নির্মাণ এবং দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
এ সময় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে বাঘাইছড়ির নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রতিবছর জনগণকে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে, প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, পার্বত্য এলাকার প্রতিটি উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আধুনিক ভূমি অফিস এবং ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যাতে দুর্গম এলাকার মানুষ সহজেই সরকারি সেবা পেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণগুলোর কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট, পরিকল্পনাহীনভাবে বারবার কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি চলাচলের পথ ময়লা-আবর্জনা ফেলে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষায় জনগণের সচেতনতা এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
টেকসই উন্নয়নের প্রসঙ্গে, ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। সরকার সাময়িক সমাধান নয়, যেকোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতেই কাজ করছে।
দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার ৮৩৪ জন মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
পরিদর্শনকালে, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইমরানুল হক ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ