০৫:০৩ পি.এম
ঢাক, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালুর বিষয়টিতে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে গত দেড় বছরের মধ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতির হয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে আগামীতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে কীভাবে আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
তিনি আরও জানান, চীনের পর ভারত বাংলাদেশ-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বৈঠকে স্থলবন্দরগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার পাশাপাশি স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতাকে বৃদ্ধি করতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চলছে, যা বাণিজ্যে গতি আনতে সাহায্য করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা লাভ করবে।
বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেন যে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা উন্নয়ন ও অগ্রগতি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ জন্য দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটোই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এখানে কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। এই সমতার ভিত্তিতে দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে সংক্রান্ত মন্তব্যও করেন।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার যোগ করেন যে, যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত সফলতা পেয়েছে। ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়বে।
তিনি জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে দেখে গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের
উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন