০৫:১০ পি.এম
যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে ব্রিটিশ-ফরাসি নকশার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার জন্য কিছু গোপন প্রযুক্তির তথ্য দেবে। এর ফলে ইউক্রেন নিজের দেশে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে।
ফ্রান্স ও ইউক্রেন চলতি বছর শেষ নাগাদ ইউক্রেনে স্ক্যাল্প ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাজ্যে একই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামকরণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ-নির্মিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্তকে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএ তৈরি স্ক্যাল্প একটি প্রচলিত ওয়ারহেড বহনকারী দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেন কিছু সময় আগে রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুর উপর ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৫৫০ কিমি। এতে ৪০০ কেজির উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করা সম্ভব।
ক্ষেত্রবিশেষে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ক্ষেপণাস্ত্রটি বিভিন্ন নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ইনর্শিয়াল নেভিগেশন, জিপিএস ও ভূখণ্ডভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এতে ইনফ্রারেড সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করার প্রযুক্তিও থাকছে।
স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের সু-২৪ ও মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব। উড্ডয়নের পর, ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূখণ্ডের কাছাকাছি দিয়ে উড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ইউক্রেন এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা, যেমন কমান্ড বাংকারে হামলার কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম।
এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য হালকা ড্রোন ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। ইউক্রেনের ড্রোন সাধারণত তেল শোধনাগার, গুদাম ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থাপনায় হামলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্রিটেনের এই ঘোষণায় রাশিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
পূর্বে, গত সপ্তাহে লন্ডনে রুশ দূতাবাসও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছিল। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন যত বাড়বে, তাদের তত বেশি মূল্য দিতে হবে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে কতটি স্ক্যাল্প বা স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে তা প্রকাশ করেনি।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্মাতা এমবিডিএ ২০২৫ সালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা উৎপাদন লাইনগুলো আবার চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তৎকালীন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেছিলেন, ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ফরাসি-ব্রিটিশ স্ক্যাল্প/স্টরম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তবে ব্রিটেনের নতুন ঘোষণার পরেও এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, লন্ডন আগামী দিনের জন্য ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা দেওয়ার জন্য গোপন প্রযুক্তির তথ্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে। সোমবার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের সময় কিয়েভ সফর করে এ ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনের জনগণের মনে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে যুক্তরাজ্য আজ এবং যত দিন প্রয়োজন, তাদের পাশে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইউক্রেনের নিরাপত্তাই আমাদের নিরাপত্তা।’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বার্নহ্যামের প্রথম বিদেশ সফর। সোমবার তিনি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএকে দীর্ঘপাল্লার স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ব্রিটিশ উপাদান সম্পর্কে গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। এর ফলে ফ্রান্স ও ইউক্রেন দেশটির মাটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংযোজন ও উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্রিটিশ স্ট্রম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ এবং দুটিতেই ব্রিটিশ ও ফরাসি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
কিয়েভ সফরে বার্নহ্যাম ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকেও সহসভাপতিত্ব করবেন। এই জোটে ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দিতে গঠিত হয়েছে যা ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ একাধিক মিত্র দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন