১২:১৬ এম
দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট।
এ ঘটনা সংসদে আলোচনায় উঠে এসেছে। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সদস্যগণ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তাদের মন্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেট দেশটির টেকসই উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার পথ সুগম করবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। যেখানে বিদায়ী অর্থবছরে প্রাথমিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির আলোকে প্রস্তাবিত বাজেটে জনকল্যাণ ও মানুষের মৌলিক অধিকারের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেছে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের বিএনপি সদস্য নাসের রহমান মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, এ বাজেট বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তিনি অতীতের তুলনায় জ্বালানি ভর্তুকি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করেছেন এবং বলছেন, গত ২০ বছরে দেশে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কথা। তিনি বলেন, এবার বাজেটে বরাদ্দের মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, আগামী পাঁচ বছর দেশের উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে এ বাজেট। বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কর রেয়াতের সুবিধা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপি সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, জনগণের প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের এক ঘোষণাপত্র এই বাজেট।
অন্যদিকে, গাজীপুর-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন বলেছেন, বাজেটকে ‘গরিব হয়রানির বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতিফলন নেই এবং শহীদ পরিবারের দুর্ভোগের প্রতিও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেছেন, বাজেট উপস্থাপনের আগেই ১৪টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলপিজির মূল্যও বারবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিবহন ভাড়াও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বিরোধীদলকে সমালোচনা করে বলেছেন, 'আমরা জুলাই আন্দোলনের চেতনা দিয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলতে চাই না। আমরা জুলাইয়ের চেতনার পক্ষেই আছি। কিন্তু কেউ কেউ এই চেতনাকে বিক্রি করার প্রবণতা দেখাচ্ছেন।'
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া হাফেজ হীরাকে সংবর্ধনা
চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি সদস্য সাইয়েদ আল নোমান বলেন, সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে বাজেট সফল হবে। কারণ বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপি সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম বলছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
রংপুর-৪ আসনের বিরোধী সদস্য আখতার হোসেন বাজেটের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এতে ৪৮ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হবিগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য রেজা কিবরিয়া ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ, আওয়ামী লীগ নেতা আহাদ হোসেন গ্রেফতার
ঢাকা-১৪ আসনের বিরোধী সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেম বলেন, দেশের ৮২ শতাংশ তরুণ বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করছে। এজন্য জাতীয় স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
নওগাঁ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান যুক্তি পেশ করেন যে, বিরোধী দল বাজেটকে ‘গরিববিরোধী’ না বলে ‘ভিক্ষুকবিরোধী’ বাজেট বলতে পারে। কারণ এ বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশে ভিক্ষাবৃত্তি কমে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন