হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি
০৮:১৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়ন, কর্মমুখী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে নোয়াখালী সদরে ‘মর্যাদার সাথে সহনশীলতা’ শীর্ষক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালা শেষে সদস্যদের মাঝে উপকরণ বিভিন্ন বিতরণ করা হয়।
তৃণমূল পর্যায়ে পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোকে (আরএমসি) আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার (১৫ জুন) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড. এম. মিজানুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ আবুল কাশেম, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের নোয়াখালী প্রতিনিধি সাদিয়া সামরিন হৃদি এবং প্রান-এর কর্মকর্তাবৃন্দ।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তায় উন্নয়ন সংগঠন পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় নোয়াখালী সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত ১০টি পল্লী মাতৃকেন্দ্রের ১০০ জন নারী সদস্য এবং জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসময় জানানো হয়, পারিবারিক, সামাজিক বা জেন্ডারভিত্তিক বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট মানসিক ও মনোসামাজিক সমস্যা নিরসনে প্রান-এর নারী নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি সেন্টার (WLCC)-তে বিনা মূল্যে মানসিক ও মনোসামাজিক সহায়তা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। যেকোনো মানসিক সংকটে নারীদের বিনা দ্বিধায় এই সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
কর্মশালা শেষে নোয়াখালী সদর উপজেলার ১০টি আরএমসির সেন্টারের সভানেত্রীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইটবোর্ড, বিছানা, রেজিস্টার খাতা, হাতপাখা, গামছা ও সচেতনতামূলক ও লিফলেট ও প্রয়োজনীয় স্টেশনারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার ঘটনাটি ‘‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি বলেন, ‘এটা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনকও বটে।’
এ সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান রোববার রাতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। তিনি সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) দুই দিনব্যাপী বৈঠকে অংশগ্রহণ করার জন্য এসেছিলেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
কূটনৈতিক ও গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, বিমানবন্দরে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সময় একটি নজরদারি তালিকায় উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম উঠে আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রাখা হয়। যদিও পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিলেও, দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে তিনি সরকারের সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
ডা. জাহেদের দেশে ফেরা সোমবার কলম্বো হয়ে ঘটে, কারণ রোববার রাতের ঢাকার কোনো সরাসরি ফ্লাইট ছিল না। তিনি সার্ক ভিসাসহ একটি সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন এবং তার সাথে কোনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল না।
নয়াদিল্লিতে ১৫-১৬ জুন ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সিনিয়র অফিসিয়ালস কমিটির (সিএসও) ২৮তম সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেশন, ওপেননেস, রেজিলিয়েন্স এন্ড অ্যাডাপ্টেবিলিটি।’ এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অগ্রগতি পর্যালোচনা, আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইওআরএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকবে।
সিএসও হলো আইওআরএ’র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সংস্থা এবং এটি এই সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরনো এবং অকেজো রেলগুলো নিলামে বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সপ্তম দিনে সংসদ সদস্যদের লেখা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিরের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন লাইনে বর্তমানে ট্র্যাক রিনিউয়াল বা রেললাইন পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। এ সময় ব্যবহারযোগ্য রেলগুলো সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয় এবং পরে সেগুলো রেল প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, রেল পরিবর্তনের সময় পুরনো বা অকেজো রেলগুলো অগোছালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে কাজ শেষ হলে সেগুলো নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।
অকেজো রেল নিলামে বিক্রি না করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব রেল পরবর্তীতে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে বাঁধ সুরক্ষা (এমব্যাংকমেন্ট প্রটেকশন) এবং বিভিন্ন অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে রেলফেন্সিং বা বেড়া নির্মাণে এগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। অকেজো রেলগুলো যেহেতু রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক কাজে পুনর্ব্যবহার করা হয়, তাই সেগুলো উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
অন্য দিকে, সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কের যেসব স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে, সেসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সংস্কার কাজের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং এবং রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এবং এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও গুরুতর আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
তিনি আরো জানান, চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পেশাদার চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আগে বাধ্যতামূলকভাবে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও বিস্ফোরক অবস্থায় রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের লেখক ও কলামিস্ট গিডিওন লেভি। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নতুন এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, “শেষ পর্যন্ত এটা খুবই পরিষ্কার যে, এই খেলায় ইসরায়েলই কেবল ক্ষতির মুখে পড়েছে।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে- বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টি, হোয়াইট হাউস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে- অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরায়েলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় আরও বেশি সমালোচনামূলক অবস্থানে রয়েছেন। লেভির ভাষায়, “ট্রাম্পের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ইসরায়েল নিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটান, তাহলে ইসরায়েল এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, যা দেশটি আগে কখনও দেখেনি। “নেতানিয়াহু যদি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে সক্ষম হন, তাহলে ইসরায়েল এমন এক সংকটে পড়বে, যার চ্যালেঞ্জ আগে কখনও সামনে আসেনি। এর ফলাফল ও প্রভাব খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে,” বলেন তিনি। গিডিওন লেভির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটছে। তার দাবি, ওয়াশিংটনের কাছে ইসরায়েল এখন আর কেবল ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সমস্যা বা বাধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েল এখন একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং এখন থেকে ইসরায়েলকে সেই হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।” সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ