০৭:২৯ পি.এম
চট্টগ্রামে পশুর চামড়া নিয়ে বিপদে পড়েছেন আড়তদাররা। কোরবানির ঈদ শেষ হওয়ার ১৯ দিন পরেও সংগৃহীত পশুর চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না তারা। সাধারণত কোরবানির ঈদের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে লবণযুক্ত চামড়াগুলো ঢাকার আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।
অনেক ট্যানারি চামড়া কিনতে চাইলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে কেনার চেষ্টা করছে। এজন্য বিক্রি করতে পারছেন না চট্টগ্রামের প্রক্রিয়াজাতকারীরা। গত কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কোরবানি দাতারা ১’শ থেকে ৩’শ টাকায় সেই চামড়া বিক্রি করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০টি কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেন আড়তদাররা। এর মধ্যে গরুর চামড়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০টি, ছাগলের চামড়া ৫৩ হাজার ৮’শটি এবং মহিষের চামড়া ১১ হাজার ৯৫০টি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সংগৃহীত এসব চামড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনেকে পর্যাপ্ত দাম না পেয়ে বিনামূল্যে কিছু চামড়া বিভিন্ন এলাকায় এতিমখানায় দান করেছেন। আবার অনেকেই কাঁচা চামড়া ঝামেলা এড়াতে ঈদের দিনেই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। এছাড়া মফস্বল এলাকা থেকে সংগৃহীত চামড়ার দাম না পেয়ে বহু মৌসুমী ব্যবসায়ী রাস্তায় ফেলে চলে গেছেন। পরে সিটি করপোরেশন সেগুলো পরিষ্কার করে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে ডেঙ্গুতে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু, অনিশ্চয়তায় দুই সন্তানের পড়াশোনা
এই পরিস্থিতিতে সংগৃহীত চামড়াগুলি নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় কাঁচা চামড়ার আড়তে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেছেন আড়তদাররা। সাধারণত কোরবানির ঈদের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার ঢাকার ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনতে চাইছেন।
আড়তদার সমিতির নেতাদের মতে, অনেক আড়তদার নিজেদের গুদামে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেছেন। তবে অন্যরা প্লাস্টিকের ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে লবণ দিয়ে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করেছেন। দ্রুত সময়ে চামড়া বিক্রি না করতে পারলে সামনে বর্ষা মৌসুম আসার ফলে বৃষ্টির পানির বিষয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।
আড়তদাররা জানান, এবারের ঈদে ঢাকার বাইরের জন্য ট্যানারি মালিক ও সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৫৬-৬২ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা থেকে আসা ক্রেতারা ৩৫-৪০ টাকার বেশি মূল্য দিতে নারাজ। সাধারণত প্রতিটি চামড়ায় নষ্ট অংশ হিসেবে ২০-২৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসেব করা হয়। এই পরিস্থিতিতে চরম লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, কোরবানির আগে সরকার পশুর চামড়া সংগ্রহে নানা উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে আর খোঁজ রাখছে না। মাঠপর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদাররা, কিন্তু সরকার সকল সুবিধা প্রদান করে ট্যানারি মালিকদের। এভাবে ট্যানারিগুলো চামড়া সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত দামের অর্ধেকের কাছাকাছি দানে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে আড়তদাররা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নবাসীর আমৃত্যু সেবক হয়ে কাজ করতে চান,চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নাসির মিয়া
সমিতির সহসভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের বিগত বছরগুলোর ২০ কোটি টাকার উপরে বকেয়া পাওনা আছে। এজন্য অনেকেই পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ১৫০টি আড়ত থেকে ৩০টি আড়তে নেমে এসেছে। বর্তমানে ট্যানারিগুলো সিন্ডিকেট করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনতে চাচ্ছে। এর ফলে বাকী আড়তদাররাও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
জানা গেছে, এক সময় চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি ট্যানারি ছিল। কিন্তু বর্তমানে একটি মাত্র ট্যানারি টিকে আছে। ফলে ঢাকার ট্যানারির দিকে নির্ভর করে ব্যবসা চালাতে হয় চট্টগ্রামের আড়তদারদের। কিন্তু বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়ে এখানকার সম্ভাবনাময়ী চামড়াখাত ধুঁকে ধুঁকে চলছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির প্রভাবে চামড়া খাত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর সঙ্গে লবণের দাম বৃদ্ধি, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করায় পুঁজির ঘাটতি, শ্রমিক ও পরিবহণ ব্যায় বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের পিছু ছাড়ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন