প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধুমাত্র মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তন করছে না, পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বিষয় বেছে নেওয়া হবে তাও নতুনভাবে নির্ধারণ করছে। প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্যে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিমধ্যেই ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাভিত্তিক ডিগ্রি কমিয়ে দিয়েছে। এ তথ্য দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়।
এই ব্যাপক বাতিলের মূল লক্ষ্য হলো চীনের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো যাতে এটি চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ভবিষ্যৎ অর্থনীতির রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই বড় পরিবর্তনের আওতায় এসেছে। এর ফলে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ হাজার ২০০টি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের ডিগ্রিগুলো ক্রমেই 'অচল' এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে, 'এমবডিড ইন্টেলিজেন্স' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট নতুন ডিগ্রিগুলোকে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতক শিক্ষার্থী ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাজারে দুর্বল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ডিগ্রিগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলছেন, 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইনের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বর্তমানে মডেল তৈরি ও দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমেই নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।'
শিক্ষাব্যবস্থায় এই পরিবর্তন বিশ্বের নানা দেশে বিভিন্ন উদ্যোগের একটি, যার মাধ্যমে দেশগুলো তাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত নতুন বিষয় যুক্ত করার চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত তাদের জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা উদ্যোগ চালু করেছে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার জাতিগতভাবে টিকে থাকার প্রশ্ন হিসেবে অভিহিত করার পর কাজাখস্তান নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ইউরোপে, স্পেন তার 'ডিজিটাল স্পেন' কৌশলের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে শিক্ষা কার্যক্রম হালনাগাদ করেছে।
গত বছর যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন ঘোষণা দেন যে, শিক্ষা বিভাগ সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষা সনদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যমান যোগ্যতার পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। দেশটির জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনা আগামী বছর প্রকাশিত হবে এবং এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সেপ্টেম্বর ২০২৮ মাসে শুরু হবে।
এ সময় ব্রিজেট ফিলিপসন বলেছিলেন, 'জাতীয় শিক্ষাক্রম হালনাগাদ হওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা জীবনের সামনে আসা রোমাঞ্চকর সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন