ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত


এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান বিমানবন্দর এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যা বিমানবন্দরের রানওয়ে ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালকে লক্ষ্যবস্তু করে।

মিশর থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়। বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে বিমানটি অবতরণ বাতিল করে সউদী আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তড়িঘড়ি করে টার্মিনাল খালি করে রানওয়ে থেকে দুটি বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হুথিরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার দায় কিছুটা ভিন্নভাবে স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত বদর সামরিক ঘাঁটিতে আসা "সউদী সামরিক সরবরাহ" লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বর্ণ চুরি করে গাড়ি কিনে গ্রেপ্তার যুবক সমর চ্যবন

রিয়াদের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত

অন্যদিকে, সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সানায় অবস্থিত হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়ন প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা দ্রুত ধ্বংস করার প্রক্রিয়া চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার আবহে ইয়েমেন ও সউদী সীমান্তে হুথিদের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাব আল-মানদে প্রণালী ও লোহিত সাগরের কৌশলগত মোকা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সউদী-সমর্থিত সরকারি বাহিনী তীব্র অভিযান শুরু করায় এই সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করেছে। সূত্র: আল জাজিরা।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনের সম্ভাব্য ৮ ফলাফল প্রকাশিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যান্সার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে যুক্ত হচ্ছে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


ক্যান্সার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে যুক্ত হচ্ছে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকার ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যুক্ত করতে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও ম্যানপাওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার বর্তমান চিত্র উল্লেখ করে বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তবে অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করার জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিসিক শরৎ মেলা ২০২৬ আজ শুরু, চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


বিসিক শরৎ মেলা ২০২৬ আজ শুরু, চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আজ শুরু হয়েছে, যা দেশীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বুধবার বেলা ১১টায় তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এ মেলা দেশের সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে এবং এটি আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন।" তিনি আরও বলেন, কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে আরও ভালো করতে পারেন, সেজন্য বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন।" প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনও কমেনি। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ আবার প্রকৃতি ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলেছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের কাজ করছে।

তিনি বলেন, "বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে।"

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে বিসিক প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিসিক কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মোট ৬০টি স্টলে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল রয়েছে।

এ ছাড়া মেলায় ৭টি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ বিভিন্ন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে বিসিক তথ্যকেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের পৃথক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিসিকের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যভিত্তিক বই ‘কারুপণ্য’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে মুহূর্তের ঝড়ে নষ্ট শত শত কৃষকের স্বপ্ন, ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


মধুপুরে মুহূর্তের ঝড়ে নষ্ট শত শত কৃষকের স্বপ্ন, ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা

ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের শ্রম, বিনিয়োগ আর স্বপ্ন। কিন্তু বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্নের বড় অংশই যেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান। বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।’
কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ ঝড়ে বাগান হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রস্তুত দীঘিনালা জোন, ৯ মণ্ডপে সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রস্তুত দীঘিনালা জোন, ৯ মণ্ডপে সহায়তা

সন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। একই সঙ্গে উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দীঘিনালা জোনে এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আলআমিন, এসইউপি, পিএসসি উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় দীঘিনালা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি, জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির প্রতিনিধি, নয়টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি, পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ প্রায় ৫০ জন অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনা শেষে জোন কমান্ডার উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।

জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আলআমিন বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। দুর্গাপূজা যেন সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে দীঘিনালা জোন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, পূজার সময় দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় উপস্থিত পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও আর্থিক সহায়তার জন্য দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজাও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের শ্রম, বিনিয়োগ আর স্বপ্ন। কিন্তু বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্নের বড় অংশই যেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান। বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।’
কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ ঝড়ে বাগান হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%