০৫:৪১ পি.এম
বিশাল জলরাশির যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই লাল-সাদা পদ্মের অপরূপ সমারোহ। পানির বুকে ফুটে থাকা অসংখ্য পদ্মফুলে যেন সেজেছে প্রকৃতি। বর্ষা মৌসুমে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের মুশুরিয়ার বিল এখন পদ্মফুলের সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০০ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত এই পদ্মবিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পদ্মবিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন বলে জানান তাঁরা। শাপলাবিলের দেখা মিললেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পদ্মফুলের এমন সমারোহ সচরাচর চোখে পড়ে না। আর এ কারণেই দিন দিন বাড়ছে মুশুরিয়ার বিলের পরিচিতি।
তবে এই পদ্মবিলের সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইতিহাস। স্থানীয় কৃষক প্রকাশ বৈদ্যের হাত ধরেই বিলটিতে পদ্মের বিস্তার ঘটে বলে জানা গেছে। শুরুতে অল্প কয়েকটি পদ্মফুল থাকলেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ জলরাশিজুড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পদ্মফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়লে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিলটিকে ঘিরে রয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতি। বিলের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট শীতলা মায়ের মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা বিশ্বাস। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শীতলা মায়ের আশীর্বাদেই বিলজুড়ে পদ্মফুলের এমন সমারোহ। তাই অনেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মন্দিরে গিয়ে দেবীর চরণে পদ্মফুল অর্পণ করেন।
বিলের ঘাটে বাঁধা থাকে সারি সারি নৌকা। এসব নৌকায় চড়ে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখেন পদ্মে ঘেরা বিস্তীর্ণ জলরাশি। অনেকে বিলের মাঝখানে অবস্থিত মন্দিরেও যান। বর্ষাকালে নৌকাভ্রমণের পাশাপাশি পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসছেন অনেকে।
মুশুরিয়ার বিলের পদ্মফুল দেখতে পর্যটকদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিলাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে কৃষিকাজের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি বিলের ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকান। এসব দোকান ও নৌকাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের।
বিলের ঘাটের আয়োজক প্রকাশ বৈদ্য বলেন, “একসময় এখানে দু-একটি পদ্মফুল ছিল। পরে হঠাৎ করেই অনেক পদ্মফুল ফুটতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে করোনার পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এখানে আরও বৃহৎ পরিসরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।”
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, মুশুরিয়ার বিলে দিন দিন পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। দর্শনার্থীদের আগমন বিবেচনায় ভবিষ্যতে এখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় বিশ্বাস আর স্থানীয় মানুষের জীবিকার মেলবন্ধনে মুশুরিয়ার বিল এখন কেবল পদ্মফুল দেখার স্থান নয়, বরং সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য। পরিকল্পিত উন্নয়ন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিলটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন