ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্বাচনে ভোট টানতে নেতানিয়াহুর নতুন অস্ত্র এআই, চলছে ভুয়া ভিডিও প্রচার


নির্বাচনে ভোট টানতে নেতানিয়াহুর নতুন অস্ত্র এআই, চলছে ভুয়া ভিডিও প্রচার

ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই অনলাইন জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার আভাস দিচ্ছে জনমত জরিপ। ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য দুই পক্ষই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ভিডিও, ভুয়া প্রচারচিত্র (ডিপফেক) এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট (বট) ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই শিবিরের প্রচারে প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হবে—এমন বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ও সম্পাদিত ভিডিওতে নেতানিয়াহুর অতীতের ব্যর্থতা তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী নেতাদের আরব দলগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইসরায়েলের উদারপন্থী দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তৈরি কয়েক ডজন স্বয়ংক্রিয় অনলাইন অ্যাকাউন্টকে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদের পক্ষে প্রচার চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অ্যাকাউন্টে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সতর্কবার্তাও ছড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শেষ হলেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকবে: আইইএ প্রধান

নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কিছু ভিডিওতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার আগে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্য কিছু ভিডিওতে বিরোধী নেতাদের আরব দলগুলোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনে এসব দল প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরব-অধ্যুষিত যৌথ তালিকা জোটের হিব্রু ভাষার প্রচার বিভাগের পরিচালক মরিসিও লাপচিক মন্তব্য করেন, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর, বিশেষ করে লিকুদের, অর্থ ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য অনেক বেশি। প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। তবে তাদের কাছে প্রচারের মূল বার্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভোটারদের নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে।

আরও পড়ুন: মিসরের পার্লামেন্ট সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে অনুমোদন করেছে

লিকুদ আগে ‘ইলেক্টর’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। অ্যাপটি ভোটের দিন ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি এর ব্যবহারে বিধিনিষেধ দেয়।

এর পরিবর্তে লিকুদ ‘ভিক্টরি ২’ নামের নতুন একটি অ্যাপ ব্যবহার করবে বলে হারেৎজ জানিয়েছে। এই অ্যাপে ভোটারদের পরিচয় সরাসরি দেখা যায় না। তবে কোন এলাকায় ভোটার উপস্থিতি কম, তা শনাক্ত করে সেখানে প্রচারকর্মীদের পাঠানো সম্ভব হবে। তারা ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের নাম হাতে লিখে রাখতে পারবেন এবং যারা ভোট দেননি, তাদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারবেন।

অ্যালগরিদম, গণনাযোগ্যতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণারত সেবাস্তিয়ান বেন ড্যানিয়েল বলেন, ইলেক্টরের মতো কর্মসূচি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বর্তমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতার তুলনায় খুবই সাধারণ। তার মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য ইসরায়েল একটি বিশেষ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আগে থেকেই নজরদারির আওতায় থাকায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গোপনীয়তার উদ্বেগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: মোদির বিরুদ্ধে খাড়গের আপত্তিকর মন্তব্যে বিজেপির তীব্র বিক্ষোভ ভারতজুড়ে

কৃত্রিম ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিতর্কের জন্ম দেন। ভিডিওতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, একজন বিচারপতি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে সহিংসভাবে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সরকারের বিচারিক নজরদারি কমানোর প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় তারা প্রায়ই কট্টর ডানপন্থীদের সমালোচনার লক্ষ্য হন।

এর আগে নেতানিয়াহুর শেয়ার করা আরেকটি কৃত্রিম ভিডিওতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোটকে এমন এক ব্যক্তির দিকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়, যাকে অনেকে তার নিহত ছেলে গালের মতো মনে করেন। গাল গাজায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় নিহত হন। ভিডিওতে আইজেনকোট ওই ব্যক্তিকে পাশ কাটিয়ে আরব দল রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাসকে আলিঙ্গন করেন। পরে নেতানিয়াহুর শিবির জানায়, ভিডিওর চরিত্রটি আইজেনকোটের ছেলেকে বোঝানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এরপর পুরুষ চরিত্রটির জায়গায় নারী চরিত্র বসানো হয়।

কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের শেয়ার করা আরেকটি ভিডিওতে গাজার মানুষকে গাধারূপে দেখানো হয় এবং তাদের প্যারিসের দিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়। বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায় অন্যত্র চলে যাওয়া’র নামে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন: আইইএ প্রধান: ২০২৭ সালেও জ্বালানির বাজার স্বাভাবিক হবে না

বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এবং বেন-গভিরের প্রচারে স্বয়ংক্রিয় অনলাইন অ্যাকাউন্টের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য। এসব প্রচারের মাধ্যমে সমর্থকদের আরও সংগঠিত করা এবং প্রতিপক্ষের সমর্থকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ভোটার আচরণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোই জুর বলেন, অনলাইন প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অ্যালগরিদম এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করা হচ্ছে। এতে বিরোধী শিবিরের প্রতি মানুষের বিরূপ মনোভাব বাড়তে পারে।

তার মতে, ছোট দলগুলোর সাফল্য ও ভোটার উপস্থিতির ওপর নির্বাচনের ফল নির্ভর করতে পারে। তাই সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনাও প্রচারের বড় লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসের সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কের

জুর বলেন, তেল আবিব এবং হাইফার মতো বড় ধর্মনিরপেক্ষ শহরে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে জেরুজালেম এবং বনি ব্রাকের মতো অতি-ধর্মীয় ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি—এমন এলাকায় উপস্থিতি প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। ফলে ভোটারদের প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য বিপদের কথা তুলে ধরে ভোট দিতে উৎসাহিত করাও প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনের আগে প্রযুক্তিনির্ভর প্রচার, ভুয়া ভিডিও এবং ভোটারদের তথ্য ব্যবহারের এই প্রতিযোগিতা ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন: এশিয়ায় ৭০ শতাংশই বাড়বে বিশ্বে জ্বালানি চাহিদা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সরকারকে জামায়াত আমির

সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, নিজেদের ব্যর্থতার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার, যা জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর একটি প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, "সীমাহীন ব্যর্থতার দায় আপনাদেরই নিতে হবে। নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধী দলের ওপর চাপাবেন না।"

তিনি রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধে ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্যের চাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও, শুধুমাত্র পদত্যাগের মাধ্যমে অপরাধের বিচার শেষ হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান দেশে বৈষম্য বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে এবং বৈষম্য আরও বাড়ছে। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিরোধী দলকে দোষারূপ করার বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন যে, সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "সরকারের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিরোধীদের দোষারোপ করা হচ্ছে।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় কেন বিরোধী দলের ওপর চাপানো হবে? সরকারের ভুলত্রুটি থাকলে তা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই দায়িত্বশীল আচরণ।

শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে বলেন, একদিকে সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে এসব অভিযোগ প্রতিরোধে সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের অভিযোগ থাকলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট

রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্টেশনে প্রবেশের পূর্বে যাত্রীদের শরীরে ধাতব বস্তু শনাক্ত করতে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগ ও মালামাল পরীক্ষার জন্য লাগেজ স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য গত ১৯ অক্টোবর অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই দরপত্র আহ্বান করেন।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগ্রহী ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে দরপত্র জমা দিতে হবে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা ই-জিপি পোর্টালে পাওয়া যাবে।

নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হলে মেট্রোরেল স্টেশনে প্রবেশের সময় যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল স্ক্যান করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শরীরে বহন করা ধাতব বস্তু শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে নিরাপত্তা তল্লাশির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

তবে কতটি নিরাপত্তা যন্ত্র কেনা হবে, প্রথম পর্যায়ে কোন কোন স্টেশনে এসব সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে এবং কবে থেকে যাত্রীদের নিয়মিত তল্লাশি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।

এদিকে, একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপোতে স্থাপিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আওতায় লো-ভোল্টেজ (এলভি) ব্যবস্থা, ডিজেল জেনারেটর সেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা (ইউপিএস), বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদ্যুতিক কাজের রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্রের নথি কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তির এই ধরনের অপপ্রয়াস শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ অপশক্তি বা গণহত্যাকারীদের দেওয়া হবে না।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা শুনেছি যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে চান। তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমাদের প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং এ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তির এই ধরনের অপপ্রয়াস শুরু থেকেই চলমান। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না কোনো অপশক্তিকে, পতিত শক্তিকে, ফ্যাসিস্টকে, পলাতক অপরাধীকে কিংবা গণহত্যাকারীকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং দেশের শত শত নাগরিককে হত্যা করেছে, তাদের কোনো অপতৎপরতা বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে লংমার্চ-রোডমার্চের অস্তিত্ব থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে লংমার্চ-রোডমার্চের অস্তিত্ব থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে আর লংমার্চ বা রোডমার্চের অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর দাবি হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় গোলাম পরওয়ার এই কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে, ফলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের নামে জুলাই সনদের সাথে বেইমানি করছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। গণভোটের মাধ্যমে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার ১ কোটি লোককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে উল্টোটা হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান নেই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ। আইন এবং শৃঙ্খলা উভয়ই নেই। সরকারে যারা আছেন তারা বিচার পাচ্ছেন, কিন্তু যারা সরকারে নেই তারা বিচার পাচ্ছেন না। তিনি ব্যাংকগুলো বন্ধ না করে চালুর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

জামায়াত নেতা বলেন, প্রবাসে যারা আছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ভূমিকা রাখছে না। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। কিছু এমপি তাদের এলাকায় কোনো ভূমিকা রাখছেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%