০৬:১৫ পি.এম
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আজ শুরু হয়েছে, যা দেশীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বুধবার বেলা ১১টায় তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এ মেলা দেশের সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে এবং এটি আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, তিনজন আটক
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন।" তিনি আরও বলেন, কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে আরও ভালো করতে পারেন, সেজন্য বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন।" প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনও কমেনি। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ আবার প্রকৃতি ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ‘চিরকুট’ সিনেমায় মেহেদী-ঐশীর গাওয়া ‘রঙ্গিলা আসমান’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলেছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের কাজ করছে।
তিনি বলেন, "বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে।"
সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে বিসিক প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিসিক কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘জেলার ২’ আয় ৪২৪ কোটি, ৫০০ কোটির পথে
দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মোট ৬০টি স্টলে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল রয়েছে।
এ ছাড়া মেলায় ৭টি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ বিভিন্ন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে বিসিক তথ্যকেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের পৃথক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী তাহসিন ফেরদৌস মারা গেছেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিসিকের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যভিত্তিক বই ‘কারুপণ্য’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন