ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিসিক শরৎ মেলা ২০২৬ আজ শুরু, চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত


বিসিক শরৎ মেলা ২০২৬ আজ শুরু, চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আজ শুরু হয়েছে, যা দেশীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বুধবার বেলা ১১টায় তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এ মেলা দেশের সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে এবং এটি আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, তিনজন আটক

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন।" তিনি আরও বলেন, কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে আরও ভালো করতে পারেন, সেজন্য বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন।" প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনও কমেনি। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ আবার প্রকৃতি ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ‘চিরকুট’ সিনেমায় মেহেদী-ঐশীর গাওয়া ‘রঙ্গিলা আসমান’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলেছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের কাজ করছে।

তিনি বলেন, "বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে।"

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে বিসিক প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিসিক কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘জেলার ২’ আয় ৪২৪ কোটি, ৫০০ কোটির পথে

দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মোট ৬০টি স্টলে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল রয়েছে।

এ ছাড়া মেলায় ৭টি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ বিভিন্ন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে বিসিক তথ্যকেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের পৃথক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী তাহসিন ফেরদৌস মারা গেছেন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিসিকের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যভিত্তিক বই ‘কারুপণ্য’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে মুহূর্তের ঝড়ে নষ্ট শত শত কৃষকের স্বপ্ন, ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


মধুপুরে মুহূর্তের ঝড়ে নষ্ট শত শত কৃষকের স্বপ্ন, ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা

ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের শ্রম, বিনিয়োগ আর স্বপ্ন। কিন্তু বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্নের বড় অংশই যেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান। বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।’
কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ ঝড়ে বাগান হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রস্তুত দীঘিনালা জোন, ৯ মণ্ডপে সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রস্তুত দীঘিনালা জোন, ৯ মণ্ডপে সহায়তা

সন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। একই সঙ্গে উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দীঘিনালা জোনে এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আলআমিন, এসইউপি, পিএসসি উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় দীঘিনালা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি, জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির প্রতিনিধি, নয়টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি, পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ প্রায় ৫০ জন অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনা শেষে জোন কমান্ডার উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।

জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আলআমিন বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। দুর্গাপূজা যেন সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে দীঘিনালা জোন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, পূজার সময় দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় উপস্থিত পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও আর্থিক সহায়তার জন্য দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজাও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের শ্রম, বিনিয়োগ আর স্বপ্ন। কিন্তু বুধবার দুপুরের কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্নের বড় অংশই যেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান। বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনারস ও বিভিন্ন সবজি বাগানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় ২৭ হেক্টর কলা এবং ২৬ হেক্টর পেঁপের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা, আনারস ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।’
কৃষকদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ ভেঙে পড়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, ঋণ, বিনিয়োগ, পরিবারের ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। ফলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করে পুনরায় চাষাবাদে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি-প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ ঝড়ে বাগান হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কৃষকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলকে মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


টাঙ্গাইলকে মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক

টাঙ্গাইলের পুরোনো ঐতিহ্য ও স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এবং জেলাকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, টাঙ্গাইলকে মাদক, বাল্যবিবাহ ও কিশোরদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিওতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন, ২৫ কোম্পানি অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


জাপানে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিওতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন, ২৫ কোম্পানি অংশগ্রহণ

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাপানের টোকিও বিগ সাইটে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’-এ উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী আজ প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন। তিনি মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। খবর তথ্যবিররণীর।

পরে টোকিও বিগ সাইটের এক্সিবিশন হলে ‘বাংলাদেশ : সোর্সিং এক্সিলেন্স ফর অ্যাপারেল, হোম টেক্সটাইল এন্ড লেদার প্রডাক্টস’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সহায়তায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে জাপানি আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, ট্রেডিং হাউস এবং দু’দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে মো. দাউদ আলী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটি উৎপাদনকারী দেশ নয়, বরং জাপানি ব্যবসার জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সোর্সিং এবং বিনিয়োগের অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাপারেল, টেক্সটাইল, চামড়া ও পাদুকা, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকস, আইটিইএস এবং এগ্রো-প্রসেসিংয়ের মতো খাতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতামূলক দাম, দক্ষ ও তরুণ কর্মী বাহিনী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে পণ্য সরবরাহ করছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক দেশ, যেখানে বার্ষিক প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম, জারা, ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর জন্য একটি আস্থার প্রতীক।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রয়েছে পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষায় বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৩০টিরও বেশি এলইইডি সার্টিফাইড গ্রিন গার্মেন্টস কারখানা।

চামড়া ও পাদুকা খাত সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানান, এটি আরএমজির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত, যার বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহ— বিশেষ করে অ্যাপারেলস, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান ও দামের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে উৎপাদিত হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্যগুলোর মান অত্যন্ত উচ্চমানের।

বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলায় বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অধীন ২৫টি বাংলাদেশি কোম্পানির ২৭টি বুথের পাশাপাশি আরো পাঁচটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%