০১:৫৭ পি.এম
চট্টগ্রাম–সন্দ্বীপ নৌরুটের কুমিরা প্রান্ত। সম্প্রতি তোলা। ন্দ্বীপ চ্যানেলে টানা তিন দিনের জন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফলস্বরূপ, চট্টগ্রাম–সন্দ্বীপ রুটে বিআইডাব্লিউটিসি পরিচালিত কোনো যাত্রীবাহী নৌযান চলছে না।
আরও পড়ুন: চরখিরাটীতে সেরা পাঠকদের বই ও গাছের চারা দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
এদিকে, ফেরি, জাহাজ, স্পিডবোটসহ যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে জরুরি রোগী এবং পর্যটকসহ অনেক যাত্রী সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামে আটকা পড়েছে। এ ছাড়া, পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত শতাধিক যানবাহনও আটকা পড়েছে। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে এ অচলাবস্থা চলমান রয়েছে।
দ্বীপের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, চলতি জুলাই মাসজুড়ে তারা দুর্ভোগে রয়েছে। এর আগে গত ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন এবং তারও আগে ২ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিন নৌচলাচল বন্ধ ছিল। অর্থাৎ, আজ ২৭ জুলাই পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেলে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকার সংখ্যা ১৭ দিন।
প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাসকারী দ্বীপ সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হল নৌপথ।
সুতরাং, নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের জীবন বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ বা অননুমোদিত কাঠের ট্রলারে চ্যানেল পার হতে বাধ্য হন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: পচানালার দূষণে মশার অভয়ারণ্য, শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু আতঙ্কে
গত ১৯ জুলাই উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে চলমান কাঠের ট্রলার থেকে চ্যানেলে পড়ে যান দুই জন যাত্রী। ভাগ্যক্রমে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে পারাপারের সংকটে প্রসবজনিত কারণসহ বিভিন্ন রোগে চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় সূত্র জানান, ২০০৮ সালে সন্দ্বীপবাসীর আন্দোলনের ফলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের সময় সদরঘাট–সন্দ্বীপ ও কুমিরা–গুপ্তছড়া রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
নিরাপদ যাত্রী আন্দোলনের সংগঠক খাদেমুল ইসলাম বলেছেন, ‘৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলেই বিআইডাব্লিউটিসি নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ তখন ঝুঁকি নিয়ে কাঠের ট্রলারে চ্যানেল পার হতে বাধ্য হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডাব্লিউটিসি) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে সাগর সাধারণত উত্তাল থাকে। তার ওপর, লঘুচাপ বা নিম্নচাপের প্রভাবে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলে পরিস্থিতি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: পূর্বধলায় মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি
বিআইডাব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান বলেন, ‘৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের সময় ফেরি বা জাহাজ চলাচলের অনুমোদন নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।’
এদিকে, আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন