তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০২:৫১ পি.এম
একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫৫০ জন। অথচ ১৪ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন সরকারি শিক্ষক। শূন্য রয়েছে নয়টি শিক্ষকের পদ। শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদ। বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্ম, চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে নেই কোনো শিক্ষক। এমন সংকটের মধ্যেই চলছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, খন্ডকালিন শিক্ষক বেতন ভাতা সামাল দিতে বাড়তি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনা করছে ৫ শত ৫০ জন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। সংকট সামাল দিতে খন্ডকালিন আরও পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে কোন রকম পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। নাই তাদের প্রশিক্ষন ও প্রতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞাতা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে সরকারি শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। অর্থাৎ অনুমোদিত বা নির্ধারিত পদের মধ্যে নয়টি পদই শূন্য রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অস্থায়ী পাঁচজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে জোগাড় করা হচ্ছে। এতে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও নির্ধারিত পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলতে থাকলে এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু নাসের জানান, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে তিনি একাধিকবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তর সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সীমিতসংখ্যক সরকারি শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, “বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন। এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকেও অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং শিগগিরই বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকট নিরসন হবে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের হয়ে পণ্য কেনার সময় দাম কমানো, বাড়িভাড়ার চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং চাকরিতে বেশি বেতন আদায় করার কাজ করতে সক্ষম হবে। এ ধরনের এআই এজেন্ট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে অ্যানথ্রপিক, যা আইনজীবীদের কাছ থেকে দরকষাকষি সংক্রান্ত পরামর্শ নিচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিক আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষা করতে পারে এবং একই সঙ্গে আইনি ও নৈতিক সীমা মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। এজেন্টকে কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হবে এবং কখন ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
কিভাবে কাজ করবে এআই এজেন্ট?
যেমন, যদি কেউ একটি ল্যাপটপ কম দামে কিনতে চান, তাহলে এআই এজেন্ট শুধুমাত্র বিভিন্ন দোকানের দাম তুলনা করবে না, বরং বিক্রেতার এআই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাম কমানোর চেষ্টা করবে। একইভাবে, বাড়িভাড়ার চুক্তি, গ্রাহকের অভিযোগ এবং চাকরির বেতন নিয়েও দরকষাকষি করার সক্ষমতা থাকবে।
তবে এখানে একটি জটিলতা বিদ্যমান। ক্রেতার এআই কম দামে পণ্য কেনার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে বিক্রেতার এআই বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করবে। দুই পক্ষের এআই যখন নিজেদের ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে, তখন আলোচনা কীভাবে ন্যায্য থাকবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যানথ্রপিক ‘নেগোশিয়েশন নর্মস’ বা দরকষাকষির নিয়ম তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি, এআই এজেন্টকে কী কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করার ব্যবস্থাও ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবহারকারী স্বাক্ষরিত নথিতে এজেন্টের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে।
দর-কষাকষিতে কঠোর এআই কি বেশি সফল?
গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রপিক একটি ব্লগ পোস্টে বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি একটি পরীক্ষার কথা জানায়। সেখানে কর্মীরা ভার্চ্যুয়াল বাজারে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বই কেনাবেচা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, কঠোর দরকষাকষির নির্দেশনা পাওয়া এজেন্টগুলো তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সহযোগিতামূলক আচরণ করা কিছু এজেন্ট সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে নিজেদের পছন্দের বাইরে গিয়েও সমঝোতা করেছে।
এআই এজেন্টের দরকষাকষি নিয়ে অন্যান্য গবেষকরাও কাজ করছেন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারোর গবেষণায় চাকরির প্রস্তাব ও বাড়িভাড়ার মতো বিষয় নিয়ে এআই এজেন্টদের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দরকষাকষি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এজেন্ট অন্য এজেন্টকে কৌশলে প্রভাবিত করে গোপন তথ্য বের করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকির একটি উদাহরণ হলো ‘প্রম্পট ইনজেকশন’, যেখানে বিশেষভাবে তৈরি নির্দেশনার মাধ্যমে এআইকে তার নির্ধারিত কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
গোপনীয়তা ও বৈষম্যের আশঙ্কা
এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষ পেশাদার সহায়তা ছাড়াই ভালো চুক্তি আদায়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে যদি উন্নত এআই ব্যবহারের সুযোগ মূলত ধনী ব্যক্তি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তারা দরকষাকষিতে অন্যদের তুলনায় বেশি সুবিধা পেতে পারে।
মানুষের হয়ে দরকষাকষি ও লেনদেন করার জন্য এআই এজেন্টের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নীতিগত কাঠামো তৈরি হয়নি। তাই এজেন্ট কখন কঠোর অবস্থান নেবে, কখন সমঝোতা করবে এবং কখন ব্যবহারকারীর অনুমতি চাইবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে উঠছে। এআইকে আরও বুদ্ধিমান করে তোলার পাশাপাশি তার সিদ্ধান্তের সীমা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং সিভিল সার্জনদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পূর্বতন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির, অর্থাৎ ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এজন্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোর কাছে ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ, ছাড়কৃত পদের সংখ্যা, নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের সংখ্যা এবং নিয়োগের তারিখ সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। যদি কোনো পদে নিয়োগ না হয়ে থাকে, তবে তার কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ছিল, যা সহ্য করা কঠিন দুর্গন্ধ এবং মারাত্মক পরিবেশদূষণের সৃষ্টি করেছিল। দুই দশকের পরিচিত সেই চিত্র আজ বদলে গেছে, যেখানে এখন হাজারো সবুজ গাছপালা ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ শোভা পাচ্ছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ‘রূপান্তর’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দীর্ঘদিনের বর্জ্যস্তূপকে সবুজে রূপান্তরিত করার উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জানান।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় আমিনবাজারে নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের এই উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ। আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে এবং মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে।’
আমিনবাজারের এই উদ্যোগকে চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও বিস্তৃত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন, যাতে বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অন্য জেলার প্রশাসকেরাও এই ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। গত জুলাই মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বর্জ্যের ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় ৩ মাসের প্রচেষ্টায় জমে থাকা বিপুল বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
বর্জ্য অপসারণের পর জমি প্রস্তুত করা হয়, মাটির সুরক্ষায় প্যালাসাইডিং, পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন এবং সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়। মাটির ক্ষয়রোধে লাগানো হয়েছে নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ঘাস। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে ১,০৫০টি নিমগাছ, ৩,৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম, ৭০০টি রঞ্জনসহ মোট ৬,৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে ২ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রাতের আলোকসজ্জার জন্য ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকা এখন দূষণমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সংসদে আস্থা ভোটে জয়লাভ করেছেন।
দেশের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, রবিবার অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত অধিবেশনে তার যোগ্যতা ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার পর তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
কেতাবচি এখন প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
ইরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ