মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৩:২৯ পি.এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পূর্বধলায় মানববন্ধন করেছেন কর্মরত সাংবাদিকেরা। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ‘পূর্বধলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা যেন কোনো ধরনের হুমকি বা সহিংসতার শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পরিকল্পনাকারী বা সহযোগী থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মাটি ও মানুষের জেলা প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম, পূর্বধলা রিপোর্টার্স ক্লাবের আহ্বায়ক মো. ছাইদুল ইসলাম, লেখক ও কলামিস্ট জাকির আহমদ খান কামাল, দৈনিক ইকরা প্রতিদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুজ্জামান শফিক, দৈনিক সংলাপের জেলা প্রতিনিধি নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল, দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, আলোকিত বাংলাদেশের উপজেলা প্রতিনিধি খাইরুল ইসলাম, দৈনিক বাংলাবাজারের উপজেলা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, দৈনিক জবাবদিহির উপজেলা প্রতিনিধি সাগর আহমেদ জর্জ, তালাশ বিডির জেলা প্রতিনিধি মো. এম আর উজ্জ্বল ও ফটোসাংবাদিক শাহজাহান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন আজকের জনকথার ময়মনসিংহ ব্যুরোপ্রধান হারাধন সূত্রধর, জেলা প্রতিনিধি আকরাম হোসেন রতন, দৈনিক ইকরা প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার আল-আমীন শেখ, শাশ্বত বাংলার উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ, দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহের বিশেষ প্রতিনিধি মজিবুর রহমান ও ফটোসাংবাদিক মনো মিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
স্মারকলিপিতে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া নিহত সাংবাদিকের পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রদান এবং সারা দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিকেরা স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ক্ষমতার প্রভাবের মাধ্যমে স্থানীয় দোলন মল্লিক নামের এক ব্যক্তি শতবর্ষী খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। খালের পাশে এক শতক জমি ক্রয় করে, সরকারি খাসজমি দখল করে নিয়েছেন। বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নিষেধ করা হলেও তিনি কারও কথা শুনছেন না। গায়ের জোরে ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় খাল বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানালে ভূমি অফিসের কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন নড়িয়া-ঘরিসার এলজিইডি রাস্তার পাশে পন্ডিতসার বাজার টিএম গিয়াস উদ্দিন কলেজের পাশে শতবর্ষী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, খালটি উপজেলা সদরের কৃতিনাশা নদী থেকে ঘরিসারের পদ্মা-হোগলা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত, যা বিভিন্ন নৌ-যানের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই খাল দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের জন্য পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ট্রলার, কার্গো ও নৌকা চলাচল করে।
খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণের ফলে খালের পরিধি ছোট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জোয়ার-ভাটার স্রোত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা খাল ভরাট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবাহিত খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় দোলন মল্লিক। সরকারি খাস এবং খাল দখল করে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করলেও তিনি তা শোনেননি। পরে স্থানীয়রা ইউনিয়ন ভূমি অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন, কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এখনও নীরব রয়েছেন।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কামাল খান ও বিপ্লব সরদার জানিয়েছেন, গায়ের জোরে খাল বন্ধ করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নিষেধ করার পরও তিনি শুনছেন না।
তারা আরও জানান, প্রভাব খাটিয়ে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ করছেন তিনি। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে যাবে। খালটি ঘরিসার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস।
এ খালে স্থাপনা নির্মাণ হলে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়বে, যা কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করতে পারে।
খাল দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে দোলন মল্লিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, "আমি খাল দখল করে বিল্ডিং করতেছি, তুই যা পারিস করিস। আমি কাউকে ভয় পাই না।"
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ চৌধুরী মন্তব্য করেন, প্রবহমান খালের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
ঘরিসার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুনরায় খাল দখল করে সরকারি খাসজমিতে ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইউম খান জানান, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। কেউ ভবন নির্মাণ করলে অবশ্যই সেটি উচ্ছেদ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, পানিপ্রবাহ বন্ধ করে এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কোনো যুক্তি নেই। ক্ষমতার দাপটে যা ইচ্ছে তা করতে দিলে এসব পানির ছড়া অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্সের কর্ণধার সামিন রানা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) একটি দল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে, সামিন এই উদ্যোগে এগোবেন তখনই, যখন দুই পক্ষ একমত হবে।
আবুধাবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সামিন তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। লাহোরের মালিক জানান, ‘বাংলাদেশ আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। আমি বিপিএল বা বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোথাও অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছি। সবকিছু নির্ভর করছে কী ধরনের সুযোগ সামনে আসে তার ওপর। যদি সুযোগ থাকে, বিপিএলের অংশ হতে ভালোবাসব।’
এ বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিপিএল আয়োজন করছে না। ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জটিলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামিন এই বিষয়ে অবগত থাকায় তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ক্রিকেট নিয়ে মানুষের যে আবেগ, তাতে বিপিএলের এমন কঠিন সময় পার করা উচিত নয়।
বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিপিএল নিয়ে আলোচনা করেছেন সামিন। পিএসএলে ১১ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লোবাল লিগ টি-টোয়েন্টি, টি-টেন লিগ ও ক্রিকেট কানাডার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এসব অভিজ্ঞতা থেকে বিপিএলকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি তামিমকে পরামর্শ দিয়েছেন।
বিপিএল নিয়ে তামিমের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে সামিন বলেন, ‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার কিছু আলোচনা হয়েছিল অভিজ্ঞতা শেয়ার করার বিষয়ে। যেমন আমি ১১ বছর ধরে পিএসএলের অংশ, সাউথ আফ্রিকান জিএসএলও গ্লোবাল লিগেরও অংশ ছিলাম। আমি একাধিকবার টি-টেন লিগের অংশ ছিলাম, বেশ কিছুদিন ধরে ক্রিকেট কানাডার সঙ্গেও কাজ করছি।’
যদিও বিপিএলে দল কেনা সম্ভব না হলেও, সামিন বিসিবির সঙ্গে বিনিময় কর্মসূচিতে যুক্ত হতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি অবশ্যই যেকোনো সুযোগ কাজে লাগাব। আর বাংলাদেশে আসার বিষয়ে বলতে গেলে, আমি আসতে খুব পছন্দ করব। আশা করি বিপিএলে আমরা কোনো সুযোগ পাব। যদি তা না-ও হয়, তবে বিসিবির সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম (বিনিময় কর্মসূচি) করতে চাই। কারণ আমরা সম্প্রতি গায়ানার সঙ্গে চুক্তি করেছি, গায়ানা ইয়ুথ অ্যান্ড কালচার মিনিস্ট্রির সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং তারা তাদের প্লেয়ারদের পাঠাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পার্লামেন্ট নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহেরদাদ আখলাকি কেতাবচিকে অনুমোদন প্রদান করেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর আখলাকি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবারও ইরানে হামলা চালায়, তবে তার প্রতিক্রিয়া হবে অপ্রত্যাশিত ও ব্যাপক।
পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে আখলাকির পক্ষে ২৩৭টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে ১৫টি ভোট আসে। মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে কোনো ভোট বাতিল বা বিরত হিসেবে গণ্য হয়নি। ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা আখলাকির পক্ষে ও বিপক্ষে বক্তব্য শোনার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন।
এটি কয়েক মাস ধরে চলা অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়েছে। এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলায় নিহত হন। এরপর মাজিদ এবন আল-রেজা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ভোটের আগে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আখলাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবারও ইরানে হামলা চালায়, তবে ইরানের জনগণ ও ইসলামি যোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া হবে অপ্রত্যাশিত ও ব্যাপক। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিণতি তৈরি হবে, তার দায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের নিতে হবে।
আখলাকি আরও দাবি করেন, তিনি গত ৩৫ বছর ধরে শত্রুদের হত্যার তালিকায় রয়েছেন। তিনি ইরানকে প্রতিরোধ ফ্রন্ট হিসেবে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধি, সামরিক গবেষণা জোরদার এবং বর্তমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আখলাকি। এর আগে তিনি দেশটির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স , আনাদোলু এ্যাজেন্সী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিলের অনুমতি প্রশাসন প্রদান করেনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকাল থেকে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশাসন থেকে মাহফিল বন্ধের মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে অতিথিদের ফোন করে না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, আয়োজকরা গত কয়েকদিন ধরে আশপাশের এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমির হামজার এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।
মানব কল্যাণ পরিষদ নামের সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্বে এই মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে ব্যানার পোস্টারে মুফতি আমির হামজা এমপির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি গোদাগাড়ীর মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন।
আয়োজকরা জানান, প্রশাসনের অনুমতির জন্য গত ১৩ অক্টোবর তারা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসি বরাবর আবেদন করেন। সেই আলোকে শনিবার সকালে আয়োজকরা ইউএনওর কাছে অনুমতি নিতে যান। কিন্তু পুলিশের প্রতিবেদন না আসায় ইউএনও অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি আয়োজকদের জানান, পুলিশি প্রতিবেদন ছাড়া অনুমতি প্রদান সম্ভব নয়।
আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক রোববার দুপুরে বলেন, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি আমাদের জানান, মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন না এলে তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে আমরা ধরে নিয়েছি প্রশাসন আমাদের মাহফিলের অনুমতি প্রদান করবে না। শেষ পর্যন্ত অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চেয়েছি এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলেছি।
এই বিষয়ে ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এই ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই, যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। আমরা পুলিশের প্রতিবেদন জন্য লিখেছি। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, মুফতি আমির হামজা এমপির তাফসির মাহফিলের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ রোববার দুপুরে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। যদি উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ