১২:০৯ এম
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মীদের বার্ষিক গড় কর্মঘণ্টা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকছে। ২০২৫ সালে, দেশটির একজন কর্মী গড়ে ১ হাজার ৮৩৩ ঘণ্টা কাজ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ ঘণ্টা কম। তবে, এই অগ্রগতি থাকতে সত্ত্বেও, দেশটি এখনো অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করার দেশের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ওইসিডির গড় বার্ষিক কর্মঘণ্টা ছিল ১ হাজার ৭৩৬ ঘণ্টা। অর্থাৎ, দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মীরা এখনও ওইসিডির গড়ের তুলনায় ৯৭ ঘণ্টা বেশি কাজ করছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০১৮ সালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫২ ঘণ্টা কর্মব্যবস্থা চালু করেছে যেন কর্মঘণ্টা কমানো যায়। এর পর থেকে দেশটির প্রকৃত কর্মঘণ্টা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: নাগরিক সমাজের আহ্বান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পরামর্শ ও সংস্কার প্রয়োজন
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে, ওইসিডির তথ্যপ্রাপ্ত ৩৬টি দেশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ষষ্ঠ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টার দেশ হলো মেক্সিকো, যেখানে বছরে গড়ে ২ হাজার ২০৫ ঘণ্টা কাজ করা হয়। এরপরের দেশগুলো হলো কোস্টারিকা, চিলি, গ্রিস ও ইসরাইল।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মীরা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের তুলনায় ৩৩ ঘণ্টা, জাপানের কর্মীদের তুলনায় ২৩৫ ঘণ্টা এবং জার্মানির কর্মীদের তুলনায় ৫০১ ঘণ্টা বেশি কাজ করেছেন। ওইসিডি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতেই বার্ষিক গড় কর্মঘণ্টা সবচেয়ে কম, মাত্র ১ হাজার ৩৩২ ঘণ্টা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘ কর্মঘণ্টার একটি বড় কারণ হলো সেলফ-এমপ্লয়েড বা স্বনিযুক্ত কর্মীর হার। ২০২৫ সালে দেশের স্বনিরোজিত কর্মীর হার ছিল ২২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ওইসিডি সদস্যদের মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি প্রস্তুতি ও অন্যান্য কাজও নিজেই করার কারণে তাদের কর্মঘণ্টা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক গড় কর্মঘণ্টা ১ হাজার ৭০০ ঘণ্টার পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দুই রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে শান্তিরক্ষা ও মানবাধিকার আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন