০১:৪৪ এম
ডিএনসির উত্তরা সার্কেলে মাদক গায়েব হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিদর্শক জিল্লুর রহমানকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মাদক উদ্ধার অভিযানে জব্দ করা ইয়াবা, হেরোইন এবং নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ মামলায় উল্লেখ না করার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি তদন্তে ডিএনসি (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর) চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মেট্রোর উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। ডিএনসির কাছ থেকে পাওয়া একটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানা গেছে।
অফিস আদেশ অনুসারে, জনৈক আবুল খায়ের উল্লেখ করেছেন যে, নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তিনি তিনটি অভিযানের তথ্য উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক জিল্লুর রহমান এবং বিমানবন্দর সার্কেলের সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রোকুনুজ্জামানকে দিয়েছিলেন।
এই অভিযানের ভিত্তিতে প্রথমে এক হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, পরে ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং সর্বশেষ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও দুই লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়; তবে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দায়েরের সময়ে উদ্ধার করা আলামত এবং নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া, তথ্যদাতা হিসেবে চুক্তি অনুসারে আবুল খায়ের সোর্সমানিও পাননি।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
তিনি বলেন, ‘পশ্চিম সানারপাড়ে এক অভিযানে ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার দেখিয়ে বাকি দুই লাখের বেশি টাকা মেরে দেওয়া হয়েছে জিল্লুর রহমানের দ্বারা। সেইসাথে ইয়াবা, হেরোইন গায়েব ও টাকার বিনিময়ে নিরীহ মানুষকে আসামি করার অভিযোগ রয়েছে।’
আবুল খায়র জানাচ্ছেন যে, বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
ডিএনসি মাদক ও নগদ অর্থ গায়েবের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পরিচালক রাজীব আহসানকে। প্রয়োজনে সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক শওকত ইসলাম, উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা এবং সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ। কমিটিকে তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পৃথক একটি অফিস আদেশে পরিদর্শক জিল্লুর রহমানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-কুমিল্লা ৯০ কিমি. রেলপথ নির্মাণে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়
অভিযানের স্বার্থে তেজগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক তমিজ উদ্দিন মৃধাকে উত্তরা সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে মোবাইল ফোনে কল করার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তদন্ত কমিটির সদস্য মুকুল জ্যোতি চাকমা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘আমি কাগজে-কলমে আছি তবে অন্য কাজে যুক্ত থাকায় কাজ করতে পারিনি। তবে অন্য সদস্যরা কাজ করছে এবং তদন্ত চলমান।’
ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেছেন, ‘তদন্ত কমিটির সময় এখনও শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান।’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
এছাড়া, রাজধানীর উত্তরার একাধিক অবৈধ বারের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, যেখানে বিরাট অঙ্কের মাসোহারা নিয়ে বারগুলোকে অসাধু উকিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু আইনজীবীদের সহায়তায় আদালত থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে আদেশ সংগ্রহ করে তা বৈধতার রূপ দেওয়া হয়।
এবং এর আগে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর জিল্লুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন এবং বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আদায় করেছেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে চারটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন