০৬:১১ পি.এম
আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন। যুব উদ্যোক্তা তৈরি এবং বেকারত্ব মোকাবিলার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন রিফাইন্যান্স কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ তথ্য তিনি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম- এর সভাপতিত্বে আজ সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের কোনো কর্মসূচি নেই। তবে তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য বেশ কিছু পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিচালিত কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে (সিএমএসই) নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া, জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
অর্থমন্ত্রী স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠনের কথাও বলেছেন। তিনি জানান, উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঋণের পাশাপাশি ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি স্টার্টআপ উদ্যোগগুলোকে ইক্যুইটি অর্থায়ন সহায়তা প্রদান করছে।
দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পিআইইউ-এসআইসিআইপি কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’ এর আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় আগ্রহী উদ্যোক্তাদের জন্য এক মাসব্যাপী (১০০ ঘণ্টা) উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীরা ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা পান। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত বেকারত্ব দেশের অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশে বেকার যুবকদের মধ্যে একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থী, কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষার্থী নয়।
তিনি বলেন, সরকার দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশব্যাপী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান করা যায় এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রশিক্ষণ প্রদান করা নয় বরং ব্যবহারিক দক্ষতার মাধ্যমে কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করতে পারেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন