০৮:৫২ পি.এম
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর। স্পেনের খেলোয়াড়দের উদযাপনের মধ্যে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণ নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। স্পেনের দুই ফুটবলার এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হন।
ম্যাচ শেষে টেলিভিশন সম্প্রচারের ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি জানান, শেষ বাঁশির পর ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার জন্য পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, যখন স্পেনের খেলোয়াড়রা শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত, তখন কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কিছু সময় পর, দুই দলের খেলোয়াড়দের আলাদা করার চেষ্টা করছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা, ঠিক সেই মুহূর্তেই দূর থেকে দৌড়ে এসে পারেদেস গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন। পরে তিনি গার্সিয়ার পায়ে লাথি মারেন এবং গলা চেপে ধরে তার ওপর আবারও হামলা করেন, যা ভিডিওতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডও হারল পাকিস্তানের কাছে
স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভি পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এগিয়ে যান। কিন্তু পারেদেস গাভির সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর মুখে হাতও তোলেন পারেদেস। পরে আবারও গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন।
অন্যদিকে, আরও একটি ঘটনায় আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনাও স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। যদিও পুরো ঘটনার বিষয়ে দুই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি এখনো দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর, ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি পারেদেসের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পরাজয়ের পর এমন আচরণের গ্রহণযোগ্যতা নেই। রুনি মন্তব্য করেন, ‘ফুটবলের ম্যাচে হারলে সেটা মেনে নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। আর্জেন্টিনার আচরণ খুবই হতাশাজনক ছিল।’
ইংল্যান্ডের আরেক কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারারও একই সুরে বলেন, 'পারেদেস যেভাবে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, ফুটবলে তার কোনো জায়গা নেই। হারারও একটা ভদ্র উপায় আছে।'
আরও পড়ুন: বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়
২০০৬ বিশ্বকাপের গোলরক্ষক জো হার্ট পুরো আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, 'মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় ছিলেন, যিনি ম্যাচ শেষে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছেন। বাকিদের আচরণ ছিল হতাশাজনক।'
অন্যদিকে গ্যারি নেভিলও উল্লেখ করেন, টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতেও আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড়ের আচরণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তাঁর মতে, ফাইনালের পর যা ঘটেছে, তা বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে মোটেও কাম্য নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন