১০:৫৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম), কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করেছে বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে প্রধান মার্কিন জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক অবৈধ নীতি গ্রহণ করেছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে গত মার্চে অভিবাসী সেবা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনস্থ ইউএসসিআইএস গত নভেম্বর থেকে এমন কিছু নীতি কার্যকর করে, যার ফলে ট্রাম্পের পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধাসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত হয়ে যায়।
ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে নিরাপত্তা যাচাই ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে যুক্তি দেখিয়েছে। তবে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ‘এই নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইউএসসিআইএসের আবেদন নিষ্পত্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ভুল করেননি। এটি কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে ঘটেছে।’
বিচারক আরো বলেন, ‘এসব অভিবাসী কংগ্রেস প্রণীত এবং ইউএসসিআইএসের বিধিমালায় নির্ধারিত সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। তারপরও তাদের আবেদনগুলো মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং সংস্থাটি সেগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
আইনের বিষয়ে ম্যাককনেল বলেন, ‘আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু এখানে স্পষ্ট যে ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ করেনি এবং সঠিক পদ্ধতিতেও কাজ করেনি।’
তিনি আরো মন্তব্য করেন, সংস্থাটি শুধু কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইনই লঙ্ঘন করেনি, বরং সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য প্রশাসনিক আইনও ভঙ্গ করেছে।
এদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রায়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সাথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর হাজারো আবেদনকারীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন