০২:০৪ এম
টেবোহো মোকোয়েনার পেনাল্টিতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপের স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আটালান্টায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ-এ’তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাইকেল সাদিলেকের গোলে এগিয়ে যাওয়া চেক দলের বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় জয়ের পথে তারা ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মোকোয়েনার স্পট কিকের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকার বাফনা বাফানারা শেষ ৩২’র আশা ধরে রাখল।
দুই দলই আগের ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় এই একটি পয়েন্ট নিয়েই তারা সন্তুষ্ট ছিল। উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ও চেক প্রজাতন্ত্র নিজেদের প্রথম ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হার মেনেছিল।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গ্রুপের শেষ শ্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ দক্ষিন কোরিয়া, যখন চেকরা আজটেকা স্টেডিয়ামে কঠিন ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।
উভয় দলই হতাশাজনক পারফরমেন্স দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও আজকের ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্যাট্রিক সিচিক চেক দলের সবচেয়ে বড় নাম হিসেবে বিবেচিত হন। বায়ার লেভারকুসেনের অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড ম্যাচের প্রথম মিনিটেই সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তার করা হেডটি অল্পের জন্য ক্রসবারের উপরে দিয়ে চলে যায়। তবে লিড নিতে মিরোস্লাভ কুবেকের দলের মাত্র পাঁচ মিনিট অপক্ষো করতে হয়েছিল। এ্যাডাম হোলজেকের ক্রস থেকে আলেক্সান্দার সোকা সাদিলেকের জন্য সুযোগ তৈরি করেন। ঠান্ডা মাথায় সাদিলেক আফ্রিকান গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করে গোল করেন।
চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে কখনো গ্রুপ পর্বের বাঁধা পার করতে পারেনি। পাঁচ বছর আগে কোচের দায়িত্ব নেওয়া হুগো ব্রুসও বাফনা বাফনাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেননি। ২০১০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হওয়ার পর ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তারা পাননি। তবে ২০২৩ সালে আফ্রিকান নেশন্স কাপে তারা তৃতীয় হয়েছে। বিশ্ব মঞ্চে তারা ফিরে এসেছে, কিন্তু বেশ কিছু পজিশনে, বিশেষ করে ফরোয়ার্ড লাইনে প্রতিভার অভাব রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে চেক ফরোয়ার্ডরা বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করে কার্যত ম্যাচটি হাতছাড়া করে ফেলে। ভøাদিমির ডারিডা সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করে, এরপর লুকাস কার্ভের দুর পাল্লার শট উইলিয়ামস কর্ণারের মাধ্যমে রক্ষা করেন।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
আটালান্টা স্টেডিয়ামে প্রায় বেশীরভাগ আসন শূন্য থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকদের আধিক্য দেখা গেছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের উল্লাসে ভেসে যাবার একটি উপলক্ষ্য এনে দেয়। টাপেলোর শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাভের সুলচের হাতে লাগলে পেনাল্টি আদায় করে নেয় আফ্রিকানরা। স্পট কিক থেকে মোকোয়েনা আত্মবিশ্বাসী শটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন। ১৬ বছরে এটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বিশ্বকাপ গোল। পাঁচ মিনিট পর মাতে কোভারের শট রেলেবোহিলে মোফোকেং রুখে না দিলে আফ্রিকানরা এগিয়ে যেতে পারতো।
ম্যাচ শেষে দুই দলকেই স্বস্তিতে মাঠ ছাড়তে দেখা গেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফলাফল এখন এই দুই দলের ভাগ্য নির্ভর করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন