প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ভূমি হস্তান্তর করের আওতায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ৯ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার) একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানে মজিবের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা’ আনতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এম আর মজিব তার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যে দাবি করছেন। তিনি বলেন, এই আবেদন সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র এবং সাজানো নাটক।
এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদ বৃহস্পতিবার রাতের ফোনালাপে কালের কণ্ঠকে জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে শিবপুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান মজিব শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ হারে প্রদেয় ৩৫ লাখ টাকার পুরোটা ইউপি সদস্যদের অজ্ঞাত রেখে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন এবং আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগের স্বপক্ষে আবেদনের সঙ্গে দেওয়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নবীনগর শাখার স্টেটমেন্টে দেখা যায়, গত ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যান মোট ৯টি ভুয়া প্রকল্পের নামে ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই তুলে নিয়েছেন।
ডিসির কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, এসব ভুয়া প্রকল্পের রেজুলেশন ইউনিয়ন পরিষদে সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়নি। তবুও চেয়ারম্যান মজিব এককভাবে ৩৫ লাখ টাকার সম্পূর্ণটা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান মজিবের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর লিখে শেষ করা যাবে না। তিনি বলেন, শুধু সরকারের ভূমি হস্তান্তর করের প্রদেয় ১ শতাংশের ৩৫ লাখ টাকা কীভাবে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন, সেটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এদিকে, এম আর মজিব কালের কণ্ঠকে বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, আবেদনকারীদের সব তথ্যই অসত্য। তিনি দাবি করেন, কিছু কুচক্রী মহল তার ক্লিন ইমেজকে বিনষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছে। চেয়ারম্যান আরও জানান, ৩৫ লাখ টাকা নয়, ভূমি হস্তান্তর করের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা হয়ত তোলা হয়েছে এবং তিনি সেই প্রকল্পগুলোর কাজও সম্পন্ন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ কালের কণ্ঠকে জানান, আবেদনটি তিনি এখনও হাতে পাননি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন