০৩:৪৫ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
মাছ-মাংসের দাম আগে থেকেই ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ভরসা ছিল সবজি।
তবে বর্তমান সময়ে সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার
ফলস্বরূপ, সংসারের ব্যয় সামলাতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার সময় উপজেলা দক্ষিণ বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, কাকরোল ৭০ টাকায়, করলা ১২০ টাকায়, পটল ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৮০ টাকায়, টমেটো ১৬০ টাকায়, বরবটি ১২০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকায়, গাজর ১৬০ টাকায়, রেহা ৭০ টাকায়, কচুর ঘাটি ৭০ টাকায়, শসা ৭০ টাকায় এবং মুলা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ও চাল কুমড়ার দাম ৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে এবং ছোট আকারের লাউ শাকের ডাটা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার দিতে বাধার অভিযোগ
সবজি বিক্রেতা মোঃ আল আমিন বলেন, "বর্ষা মৌসুমে সবজির উৎপাদন কমে যায়।
অতিবৃষ্টির ফলে অনেক ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি আনতে হচ্ছে।
পরিবহন খরচসহ পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।"
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
বাজার করতে আসা সরোয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, "আগে মাছ-মাংস না কিনে সবজি দিয়ে সংসার চালানো যেত।
কিন্তু এখন সবজির দামও এত বেড়ে গেছে যে বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সীমিত আয়ে পরিবার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস জানান, "বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় সবজির গাছের গোড়া পচে যায় এবং উৎপাদন কমে যায়।
আরও পড়ুন: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়
সাধারণত আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকে।
কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে বর্ষাকালীন সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে এবং দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে বলে আশা করছি।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "বাজারে কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামির বাড়িতে আগুন
বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।
কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার সাথে বাজার তদারকির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করছেন।
তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে দোলনচাঁপা ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, চলাচল বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন