প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে, সারা দেশের মত, আগাছা দমনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে রয়েছে। কৃষকদের দুরদর্শিতা এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি না থাকায় অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করার বিষয়টি পরিবেশবিদদের কাছে উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগের ফলে মিঠাপানির মাছের বিলুপ্তির পাশাপাশি পুকুর, খাল, বিল ও নদীনালা থেকে মাছ, ব্যাঙ, শামুকসহ অন্যান্য উপকারী পোকামাকড়ের জন্যও হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে।
বোরো ধান চাষের পর দীর্ঘ ৩ মাস জমি পতিত থাকায় এই জমিতে কোমড় পরিমাণ উঁচু আগাছা জন্মাচ্ছে। আমাদের দেশে ছোট ছোট ট্রাক্টরগুলো দিয়ে এই ধরনের আগাছা ভেদ করা খুবই কঠিন বলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন। এতে খুব সহজে ও কম খরচে আগাছা দমনে সহায়তা লাভ হলেও, বাস্তবে খুব বেশি মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
সরেজমিনে কথা হয়, উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ভরুয়া গ্রামের ষাটোর্ধ কৃষক মো. সাইদুর রহমান, একই ইউনিয়নের জামাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ দুলাল, পুমদী ইউনিয়নের নারায়ণ ডহর গ্রামের পঁচাত্তোর্ধ আব্দুর রাশিদ, নজরুল ইসলাম(৫৫) এবং মো. নজরুল ইসলাম(৪০) এর সাথে। তাঁরা জানান, কৃষি শ্রমিকের সংকট এবং মজুরি অধিক হওয়ার কারণে, আগাছা দমনে যে এলাকায় প্রতি একরের আগাছা পরিষ্কার করতে ১০ হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে এখন দুই হাজার টাকা খরচে আগাছা দমন হয়ে যাচ্ছে। তাই সহজ ও কম খরচের জন্য বালাইনাশক প্রয়োগে কৃষিকর্মীরা বেশি চেষ্টা করছেন। এক সময়ে এসব জমিতে তিন ফসল আবাদ হলেও, এখন যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয়, তা বিক্রি করে উৎপাদিত ফসলের মূল্য ওঠে আসেনা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির জানান, ঘাস দমনে যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, এগুলো বৃষ্টির পানিতে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ফলে ঘাসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এসব ঘাস অজান্তেই খেয়ে যাওয়ার কারণে অনেক গরু ও ছাগলের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে, এ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, কচুয়া, বথুয়া ও কচুরিপানা দমনে ২, ৪-ডি-এমাইন পরিমাণ মত ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে যে কোন কীটনাশক প্রয়োগ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। এর ফলস্বরূপ আগামী ৫ বছরের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ মরণব্যাধি ক্যানসারের শিকার হবে। এজন্য তিনি কৃষকদের জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু জৈব বালাই নাশকের কার্যকারিতা সময় সাপেক্ষ হওয়ায় কৃষকরা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন