০৮:০২ এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, সেই কারণে ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বের হয়ে যান।
সোমবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালে এমন ঘটনা ঘটে।
ওয়াকআউটকারী প্রতিনিধিরা হলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানালেও তারা স্থির ছিলেন।
আরও পড়ুন: একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমের জেরে ব্যবসায়ী হত্যা
জানা যায়, ডাকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য বিষয়টি সিনেটের এজেন্ডায় উপস্থাপন করলে সেখানে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি বিধি অনুসরণ করে পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। অপর দিকে অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান।
আলোচনার সময় ওয়াকআউটকারী ডাকসু প্রতিনিধিরা দাবি করেন, শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর কারণে শিক্ষার্থীরা নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তাছাড়া হলের বিভিন্ন ক্লাবের জন্য স্পন্সর সংগ্রহ করতেও জটিলতা দেখা হচ্ছে।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, বিষয়টি যদি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সুপারিশ বা মতামত সংযুক্ত করে পাঠানো উচিত। আর ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ পরিবারের নামে থাকা আট শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশেদ খান
বিশ্ববিদ্যালয়ের এইসব স্থাপনার ক্ষেত্রেও বীরশ্রেষ্ঠসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দিলে এর প্রতিবাদে ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন