০৬:৪৯ পি.এম
বিশ্বকাপের বল ট্রাইওন্ডা হাতে নেইমার।
শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার প্রিয়! নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারের উত্থানের গল্পটা এমনই ছিল। তার ড্রিবলিং আর গতি দর্শক-সমর্থকদের চোখের প্রশান্তি দেয়।
ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পৌঁছালেও সেই গল্পে নেই কোন পরিবর্তন। তবে যোগ হয়েছে দীর্ঘ আক্ষেপ।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ২৩ বছর পর দিলীপ হত্যা মামলায় মোজামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্রাজিলের হয়ে নামের পাশে সোনালি ট্রফি তো দূরে থাক, নেই কোনো বড় শিরোপাও। আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম প্রতিভার ক্যারিয়ার তাই আক্ষেপ নিয়ে শেষ হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
তবে শেষ সুযোগ পাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকর।
আগের তিন বিশ্বকাপের গল্প ছিল শুধুই হতাশার। ঘরের মাঠের ২০১৪ বিশ্বকাপ দিয়ে শুরুটা হয়েছিল তার। সবকিছু সুন্দরভাবে চলছিল।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালে পাওয়া চোট সবকিছু বদলে দিল। কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জুনিগার হাঁটুর আঘাত মেরুদণ্ডে চিড় ধরেছিল। আঘাতটি মেরুদণ্ডের আর কয়েক ইঞ্চি নিচে লাগলে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারতেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় আইনজীবী ফোরামের দোয়া মাহফিল
বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও কাঙ্ক্ষিত ফল জুটেনি নেইমারের কপালে। তার ছিটকে যাওয়ার পর ঘরের মাঠের সেমিফাইনালে ব্রাজিলও বিধ্বস্ত হয়েছিল।
জার্মানির কাছে বেলো হরিজন্তে ৭-১ ব্যবধানের হারটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে বড় হার। পরের দুই বিশ্বকাপের গল্পও কোয়ার্টারে শেষ। কাতার বিশ্বকাপের কান্না যেন এখন তরতাজা। সে সময়ের সতীর্থ দানি আলভেজ চেষ্টা করেও নেইমারের চোখে ঝরতে থাকা অশ্রু থামাতে পারছিলেন না।
অশ্রু অবশ্য নেইমারের পুরো ক্যারিয়ারের সঙ্গী হয়ে ছিল। চোট আর কান্না একাকার হয়েছে। ট্রান্সফার মার্কেটের হিসাবে, চোটের কারণে ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬১২ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে চোট পেয়েছেন ৪৮ বার। মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডের কারণেও তিনি শিরোনাম হয়েছেন। আড্ডা-মাস্তির সঙ্গে নারী আসক্তিতে যে মজেছিলেন তিনি।
তাই সব ধরনের সম্ভাবনা থাকার পরেও লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেননি নেইমার। গোল ডটকমের উপস্থাপক চার্লি তাই বলেছেন, ‘আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে প্রতিভার সবচেয়ে বড় অপচয় নেইমার।’
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাসুম গ্রেপ্তার
তবে এতকিছুর পরেও নেইমারই এখন ব্রাজিলের পোস্টার বয়। বিশ্বাস না হলে ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিওর মুখে শুনুন, ‘শুধু নেইমারকে নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ আছে ব্রাজিলের। তাকে ছাড়া দলটি বিশ্বকাপ জিততে পারবে না। ১৯৬২ সালে ব্রাজিল গারিঞ্চা, ১৯৭০ সালে পেলে, ১৯৯৪ সালে রোমারিওকে এবং ২০০২ সালে রোনালদোকে নিয়ে জিতেছে। ২০২৬ সালে যদি তারা নেইমারকে ছাড়া খেলে, তবে তারা জিততে পারবে না।’
তাই সবকিছু পুষিয়ে দেওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলবেন, এটা খুব করে চাচ্ছিলেন নিজেও। বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে সাবেক বার্সেলোনা-পিএসজির ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এটাই আমার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।’
বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সময় কার্লো আনচেলত্তি তার নাম বলতেই, তাই আরেকবার কাঁদলেন নেইমার। আনন্দাশ্রুর ষোলোকলাপূর্ণ করা এখন তার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে তাকে সহায়তা করবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়া-কাসেমিরোদের নিয়ে সাজানো ব্রাজিল দল।
আহত বাঘ যেমন বিপজ্জনক হয়, নেইমারও সেই গর্জন দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন। শেষটায় জানপ্রাণ দিয়ে লড়ার। অনুপ্রেরণা হিসেবে মেসির অমরত্ব লাভের মুহূর্তটাকে ধারণ করতে পারেন অথবা স্বদেশি রোনালদো ফেনোমেননকে। ১৯৯৯ সালে ভয়ংকর চোট পেয়েছিলেন রোনালদো। হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় ২০০২ বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন কিনা সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। পরে ঠিকই দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক স্ট্রাইকার।
আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ: নর্থ সাউথ-ড্যাফোডিলের সমতায় বিরতি
ব্রাজিলের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ জয়ও ছিল সেটাই। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সোনালি ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি সেলেসাওদের। ‘হেক্সা’ পূরণের স্বপ্ন তাই অধরাই থেকে গেছে। তাই ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ’ ব্রাজিলের সর্বোচ্চ ৭৯ গোলের মালিকের সামনে।
নেথপ্যেও এমন একজন পাচ্ছেন নেইমার, যিনি ট্রফি শিকার করতে দক্ষ। বিশেষ করে ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে যিনি ‘সেরাদের সেরা’ হিসেবে পরিচিত। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ৫টি ট্রফি আনচেলত্তির নামের পাশে। তাই শীর্ষদের কাজ থেকে কিভাবে সেরাটা বের করতে হয়, তা ভালো করেই জানেন আনচেলত্তি। সঙ্গে ইতালিয়ান কোচের সামনেও একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ উত্তরে গেলেই গড়বেন ইতিহাস। ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে জিতবেন বিশ্বকাপ।
এখন সব সমীকরণ এক বিন্দুতেই মিলে যাওয়ার অপেক্ষা। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে তাই ‘রাজপুত্রের’ মাথায় মুকুটটা শোভা পাক, এমনটাই চাওয়া ভক্ত-সমর্থকদেরও।
আরও পড়ুন: এবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অগ্নিকাণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন